যাআল হাক্ ওয়া যাহাকাল বাতিল
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : হকের আগমনে বাতিলের গাত্রদাহ শুরু হয়, এটাই চির সত্য কথা। এই দুনিয়ায় যেখানে বাতিল শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, আর সেখানেই আগমন হয়েছে হক- হক্কানিয়্যাতের। হকের আগমনে বাতিলের মসনদ থরথর করে কেঁপেছে। পরিশেষে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে বাতিল শক্তি।
হক আসলে বাতিল শক্তি পালাতে থাকে, সে ব্যাপারে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছেঃ
” যাআল হাক্ ওয়া যাহাকাল বাতিল…
সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, নিশ্চয়ই মিথ্যের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
এ জগতের আনাচে- কানাচে যেখানেই বাতিল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, আর তখনই হকের আওয়াজ বুলন্দ হয়ে উঠেছে। আর হকের বুলন্দ আওয়াজে বাতিল শক্তি নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে। বাতিল শক্তি বাধ্য হয়েছে পালাতে।
বর্তমানে চরমোনাই এর পীর সাহেবান হকের মশাল নিয়ে ছুটে চলেছেন সারা বাংলাদেশ। বিশেষ করে চরমোনাই এর নায়েবে আমীর একজন মর্দে মুজাহিদ আলেম এবং পীর। যিনি বাতিলের আতংক। বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে কঠিন হুঙ্কার দিয়ে থাকেন। যার হুংকারে বাতিলের মসনদ কাঁপতে থাকে।
যেরকম হুঙ্কার দিতেন তাঁর পিতা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.। বিন্দু পরিমাণ বাতিলকে ভয় পেতেন না। কোনদিন কোন বাতিল এর সাথে আপোস করেন নি। হকের উপর সব সময় ছিলেন অটল, অবিচল ছিলেন।
ঠিক বর্তমান সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.-এর উত্তরসূরী দুই ভাই, সৈয়দ রেজাউল করীম এবং সৈয়দ ফয়জুল করিম। তারা দুজনই তাদের পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। তারাও আপোসহীন। কারো কাছে মাথানত নয়। কাউকে ভয় পাওয়া নয়। একদম নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। অগ্রসর হচ্ছেন সামনের দিকে।
বিভিন্ন ফেরাকে বাতেলা রয়েছে আমাদের দেশে। যারা এখন চরমোনাই-এর মুখালেফ। চরমোনাই এর খানকা এবং পীর সাহেবদের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় প্রোপাগান্ডা ছড়াতে দেখা যায়। খামাখা চরমোনাইকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে ওরা।
মানে চরমোনাইকে ওরা যমের মত ভয় পায়। পিছনে পিছনে বদনাম ছড়াতে পটু ওরা। কিন্তু আজ পর্যন্ত সামনে আসার সাহস হয়নি। কেননা, চরমোনাই কোন বাতিলকে পরোয়া করে না। বাতিলকে ভয় পায় না। এক মাত্র আল্লাহকে ভয় করে তারা।
চরমোনাই খানকা এবং তাদের সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হকের পতাকাবাহী এক সংগঠন। সব সময় হকের উপর চলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এবং এ সংগঠন একদম তৃণমূল থেকে উঠে আসছে।
কোন উড়ে এসে জুড়েবসা সংগঠন ইসলামী আন্দোলন নয়। বা কারো লেজুড় ভিত্তিক নয়। এমনকি কোন দলের আশির্বাদ পু্ষ্ট নয়। এ সংগঠন একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে চলছে। আর একারণে চরমোনাই এর সুনাম সুখ্যাতি সব সময় সবখানে।
অতীব দুঃখের বিষয়, চরমোনাইকে নিয়ে এক শ্রেণীর কিছু মানুষ, বদনাম করে যাচ্ছে। কারণে অকারণে চরমোনাই এর বিরুদ্ধে সে সব মানুষ আছেই।
দেখা যায়, চরমোনাই- এর পীর সাহেব যেখানে যান। পথভ্রষ্ট কিছু লোক তাঁর পিছু নেয়। তাঁর উপর অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে। অবশ্য এ গুলো হিংসার বশীভূত হয়ে। পারশ্রীকাতরতার দরুণ হচ্ছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে, যতই তারা পিছে লাগুক, চরমোনাইকে আল্লাহ তায়ালা অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
২৯ সেপ্টেম্বর চরমোনাই এর নায়েবে আমীর সাহেব, সৈয়দ ফয়জুল করীম রাজবাড়ীতে আসছেন। রাজবাড়ী শহরের বড়পুল কমিউনিটি সেন্টারে বেলা চার ঘটিকায়, সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.- এর কর্মময় জীবনের উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আবার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ বাজারে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করবেন। দুটো প্রোগ্রামের আয়োজকগণ প্রস্তুত। সব কিছু ঠিক- ঠাক রয়েছে। প্রোগ্রামগুলো যথা সময়ে হবে বলে আশাকরি।
সকলের কাছে দুআ চাই, হিংসুকদের হিংসা এবং সব ধরনের বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ এ সব প্রোগ্রামকে হেফাজত করেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক


