ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার সতর্কতা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির এই মাত্রাকে বলা হয় সঙ্কটপূর্ণ স্তর। এর অর্থ হল, যে কোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে। ম্যানচেস্টারের সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী সালমান আবেদি একাই ছিলেন, না তার সঙ্গে আরও কেউ ছিলÑ সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে না পারায় সতর্কতা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত। এদিকে আহতদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যবিভাগের এক কর্মকর্তা।
যুক্তরাজ্যের পুলিশ, সরকারি বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট টেরোরিজম অ্যানালাইসিস সেন্টার ওই সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে মাত্র দুইবার যুক্তরাজ্যজুড়ে এই স্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এখন যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্থানগুলোর নিরাপত্তায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। গত সোমবার রাতে ম্যানচেস্টার এরিনায় একটি কনসার্ট শেষে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় আরও ৫৯ জন আহত হন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে জানিয়েছেন, জনসাধারণের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসগুলোতে আর্মড পুলিশকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েন হবে। কনসার্টের মতো ব্যাপক জনসমাগম হয়- এমন অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাতেও সামরিক বাহিনীকে দেখা যেতে পারে। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন মে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েনের খবর দেওয়া হলেও বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলছেন, এই সংখ্যা হবে কয়েকশ।
এদিকে আত্মঘাতী যে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায় তাতে অনেক ধাতুর নাট-বল্টু ভরা ছিল বলে জানিয়েছেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা। এসব নাট-বল্টুর আঘাতে আহত অনেকের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও হাত-পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন ওই ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ‘প্রচ- আঘাতজনিত ক্ষতের’ সঙ্গে এদের লড়াই করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকার স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা জন রাস স্কাই নিউজকে বলেন, আমরা এখন ৬৪ জন আহতকে চিকিৎসা দিচ্ছি। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জন ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে আছেন, এর অর্থ তাদের অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাদের অনেকের প্রধান অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বড় ধরনের আঘাত পেয়েছেন। এদের দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এগুলো প্রচ- আঘাতজনিত ক্ষত। আহতদের মধ্যে এক পোলিশ পিতাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


