রক্তাক্ত কাশ্মির, ১২ গেরিলা ও ১ সেনা নিহত

রক্তাক্ত কাশ্মির, ১২ গেরিলা ও ১ সেনা নিহত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় গেরিলা ও সেনাবাহিনীর এক জওয়ান নিহত হয়েছে বলে পার্সটুডেের সূত্রে জানা গেছে। শ্রীনগরভিত্তিক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানা, ঘটনাস্থলে ছয় সন্ত্রাসী ও এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছে এবং অনেক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

২৫ নভেম্বর রোববার ভোরে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান জেলার কাপরান এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সোপিয়ানে মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে বরে জানা যায়।

সোপিয়ানের বাটাগান্দ এলাকায় অজ্ঞাত গেরিলাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ ও পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ সমন্বিত যৌথবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান চালায়। জানা যায়, সোপিয়ানে নিহত সেনা সদস্য নাম নাজির আহমেদ।

এদিকে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাটাগান্দ এলাকায় প্রতিবাদী তরুণরা সড়কে নেমে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে বাধাপ্রদান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। মারমুখী জনতাকে সামাল দিতে যৌথবাহিনী এসময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও পেলেটগান ব্যবহার করে।

গত শুক্রবার অনন্তনাগ জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছয় গেরিলা নিহত হয়েছিল। এ নিয়ে গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ গেরিলা নিহত হল।

এর কিছুদিন আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের একটি সেনা-ছাউনিতে হামলা চালিয়েছিল সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। কাশ্মীর থেকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় তিনজন ভারতীয় সৈনিক মারা গেছেন। তবে ভারতের সেনাবাহিনী হতাহতের খবরের সত্যতা এখনও স্বীকার করে নি। ওই রাজ্যেই আরেকটি সংঘর্ষে বিএসএফের সঙ্গে গুলির লড়াইতে তিনজন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় সেখানে গভর্নরের শাসন জারি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ রাজ্যটিতে গভর্নরের শাসন জারির অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যটিতে ১৯৭৭ সাল থেকে এ নিয়ে এ পর্যন্ত আট বার গভর্নরের শাসন জারি হল। পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার থেকে বিজেপি বেরিয়ে আসায় পিডিপি নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি গভর্নর এন এন ভোরার হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেস বা অন্য কোনোদল জোট সরকার গড়তে আগ্রহ না দেখানোয় সেখানে গভর্নরের শাসন কার্যত অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। গভর্নরের রিপোর্টের ভিত্তিতে অবশেষে আজ সকালে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ গভর্নরের শাসনের ছাড়পত্র দিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *