লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানী মন্ত্রীর

লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানী মন্ত্রীর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের রাজধানী দিল্লি। দিল্লির লাল কেল্লা ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান স্হাপত্য। এবার সেই লাল কেল্লা দখলের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি মহম্মদ খান।

বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় তিনি এ হুমকি দেন বলে শনিবার আনন্দবাজার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আনন্দ বাজার প্রতিবদনে বলা হয় আলি মহম্মদ খান তার টুইটে লিখিছেন, নিজেদের চার প্রদেশের পাশাপাশি আরও অনেক কিছুর উপর আধিপত্য কায়েম রাখার ক্ষমতা রয়েছে পাকিস্তানের। ভারতের রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লাও একদিন পাকিস্তানের দখলেই থাকবে!

এর আগে কাশ্মীর নিয়ে সাবেক পাক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। ভিভিওতে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, কাশ্মীরকে চায় না পাকিস্তান। তবে এটা ভারতকেও দেয়া যাবে না। কাশ্মীরকে স্বাধীন হতে দিন। এতে অন্তত মানবতা বাঁচবে। মানুষকে মরতে দেয়া যাবে না…পাকিস্তান কাশ্মীরকে চায় না…এমনকি চারটি প্রদেশকেও পরিচালনা করতে পারে না পাকিস্তান।’

মূলত কাশ্মীর নিয়ে শহীদ আফ্রিদির এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গর্জে ওঠেন পাক মন্ত্রীরা। তার বক্তব্যের পরই এ টুইট করেন পাকিস্তানী মন্ত্রী।

তবে আফ্রিদির বক্তব্য, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখা করেছে ভারতীয় মিডিয়া। তার দাবি, ‘কাশ্মীর একটি অমীমাংসিত সমস্যা। ভারত জোর করে ওই রাজ্য দখল করেছে। কাশ্মীর পাকিস্তানেরই।’

উল্লেখ্য, লাল কেল্লা খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রাচীর-বেষ্টিত পুরনো দিল্লি (অধুনা দিল্লি, ভারত) শহরে মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত একটি দুর্গ। ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই দুর্গটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। এরপর ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করলে ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক। প্রতি বছর ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার লাহোরি গেটসংলগ্ন একটি স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। ২০০৭ সালে লালকেল্লা ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান সুবৃহৎ এই কেল্লাটির নির্মাণকার্য শুরু করেন। নির্মাণকার্য শেষ হয় ১৮৪৮ সালে।[৩] প্রথম দিকে এই দুর্গের নাম ছিল ‘কিলা-ই-মুবারক’ (‘আশীর্বাদধন্য দুর্গ’); কারণ এই দুর্গে সম্রাটের পরিবারবর্গ বাস করতেন। দুর্গটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীর জলেই পুষ্ট হত দুর্গপ্রাকারের পরিখাগুলো। দুর্গের উত্তর-পূর্ব কোণের প্রাচীর সালিমগড় দুর্গ নামে অপর একটি প্রাচীন দুর্গের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৫৪৬ সালে ইসলাম শাহ সুরি এই প্রতিরক্ষা দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। লালকেল্লার পরিকল্পনা ও সাজসজ্জা শাহজাহানের শাসনকালে মুঘল স্থাপত্য ও চিত্রকলার উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে লালকেল্লা ছিল দিল্লিক্ষেত্রের সপ্তম নগরী তথা শাহজাহানের নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের রাজপ্রাসাদ। পরবর্তীকালে অবশ্য তিনি দিল্লি থেকে আগ্রা শহরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন।

লালকেল্লায় বসবাসকারী শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার পর ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর লালকেল্লা পরিত্যাগ করেন। পরে তিনি ব্রিটিশ বন্দী হিসেবে এই দুর্গে ফিরে আসেন। এখানেই ১৮৫৮ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁর বিচার শুরু হয় এবং ৭ অক্টোবর তাঁকে নির্বাসনদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর লালকেল্লার কর্তৃত্ব ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। তারা এটিকে একটি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের পরাজয়ের পর লাল কেল্লাতেই যুদ্ধবন্দীদের বিচার হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই কেল্লাটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *