সদয় হোন প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রতি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতীয়করণ অনেক ইস্যু। জাতীয়করণ হলে শিক্ষকদের কর্ম নিরাপত্তা বলতে একটা কথা আছে। চাকুরী ক্ষেত্র নিরাপত্তার আওতায় আনতে পারলে অন্য সব সমস্যা আর সমস্যা থাকে না। জাতীয়করণও সেই সব শিক্ষকদের একটি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু।
গত দুই মাস আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরেছেন শূন্য হাতেই। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে ঘরে। টানা দুই মাস তারা আন্দোলন করেছেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবিতে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত ফুটপাথে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের আশায় ছিলেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যেও তারা ছিলেন ফুটপাথে। কিন্তু দুই মাস আন্দোলনের পর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার এক দিন আগে কোনো আশ্বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে অসহায় শিক্ষকদের। ১৬ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা। পরে ২৯ জুন প্রতীকী অনশন করে ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এরপর ৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত টানা দুই মাসের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে ৩১৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৫ জন শিক্ষক আক্রান্ত হন ডেঙ্গুতে। জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা না দেখে এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েন তারা। এ কারণে অনেক শিক্ষক একে একে বাড়ি ফিরতেও শুরু করেন।
শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য, ২০১৩ সালে সরকারের পক্ষ থেকে সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় সারা দেশে ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সব শর্ত পূরণ করেও প্রায় ৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়। আন্দোলনকারীরা আশা করেছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য অন্তত সান্ত¡নাসূচক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। কিন্তু ঈদের আগে একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আরেকদিকে ডেঙ্গু আতঙ্কে তাদের পক্ষে ঘরে ফেরা ছাড়া উপায় ছিল না। শিক্ষকরা তাদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথ বা ফুটপাথে অবস্থান নেবেন এটা কোনোভাবে কাম্য নয়।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও কেন প্রায় ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত রাখা হলো, তা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা আশা করব, বঞ্চিত শিক্ষকদের দাবি পূরণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেবে সরকার। প্রয়োজনে আংশিকভাবে বা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের দাবি মেনে নেওয়া হবে। গত ছয় বছর ধরে তারা জাতীয়করণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ অপেক্ষার ইতি টানতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।


