৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

অভিজ্ঞদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি হার

স্পোর্টস ডেস্ক  ●  দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের পর আরেকটি হার। সাদামাটা বোলিংয়ের পর অভিজ্ঞদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। ফলে, দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে সাকিবের দল। পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২৯ অক্টোবর।

ব্লুমফন্টেইনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল চার উইকেটে ১৯৫। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন সৌম্য সরকার। তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২৭ বল খেলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ডেন প্যাটারসন ২টি, রিজা হেন্ডরিকস ২টি, রব্বি ফ্রাইলিঙ্ক ২টি, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ২টি ও অ্যারোন ফাঙ্গিসো ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে কুইন্টন ডি কক ৫৯, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৪৯, ডেভিড মিলার ২৫ ও ফারহান বিহারডাইন ৩৬ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান ১টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি ও রুবেল হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।

দলীয় ৪৩ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। রিজা হেন্ডরিকসের বলে ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। তিনি করেন ১০ রান। এরপর দলীয় ৬৪ রানে রব্বি ফ্রাইলিঙ্কের বলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ধরা পড়লেন তিনি। ৮ বল খেলে সাকিব করলেন ১৩ রান।

দীর্ঘদিন অফ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার আজ ভালো একটা ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেটি পূরণ করতে পারেননি। ৩১ বল খেলে পাঁচটি চার ও দুইটি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য। আন্দিল ফেহলাকওয়েওর বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

এরপর দ্রুত ফিরে যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১তম ওভারে অ্যারোন ফাঙ্গিসোর বলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ক্যাচ হন মুশফিকুর রহিম। তার সংগ্রহ ১৩ রান। ১২তম ওভারে আন্দিল ফেহলাকওয়েওর বলে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি করেন ৩ রান।

শেষ ভরসা সাব্বির রহমান ফিরে যান দলীয় ১২৪ রানে। রিজা হেন্ডরিকসের বলে আন্দিল ফেহলাকওয়েওর হাতে ক্যাচ হন তিনি। সাব্বির করেন ১৯ রান। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। একই ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ হন তাসকিন আহমেদ। ১৮তম ওভারে রব্বি ফ্রাইলিঙ্কের বলে ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ হন শফিউল ইসলাম। ইনিংস শেষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৯ রান করে ও রুবেল হোসেন ২ রান করে অপরাজিত থাকেন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ২০ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯৫/৪ (২০ ওভার)

(কুইন্টন ডি কক ৫৯, হাশিম আমলা ৩, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৪৯, জেপি ডুমিনি ১৩, ডেভিড মিলার ২৫*, ফারহান বিহারডাইন ৩৬*; সাকিব আল হাসান ১/২৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/৩১, রুবেল হোসেন ১/৩৪, তাসকিন আহমেদ ০/২১, শফিউল ইসলাম ০/৩৩, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/২০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৩)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৭৫/৯ (২০ ওভার)

(ইমরুল কায়েস ১০, সৌম্য সরকার ৪৭, সাকিব আল হাসান ১৩, মুশফিকুর রহিম ১৩, সাব্বির রহমান ১৯, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৯*, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৪, তাসকিন আহমেদ ০, শফিউল ইসলাম ১, রুবেল হোসেন ২*; ডোয়াইন প্যাটারসন ২/২৯, রিজা হেন্ডরিকস ২/৪২, রব্বি ফ্রাইলিঙ্ক ২/৩৩, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ২/২৫, জেপি ডুমিনি ০/১৫, অ্যারোন ফাঙ্গিসো ১/৩০)।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com