‘অ্যামেরিকাসহ ২৯ দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়’

‘অ্যামেরিকাসহ ২৯ দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অ্যামেরিকা ছাড় সহ ২৯টি দেশ শর্তহীনভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয়৷ অর্থাৎ, এই দেশগুলোর কোনো একটিতে জন্ম নেয়া শিশু সেই দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান এবং কোনো দেশ দখল করার সময় শত্রুপক্ষের সন্তান এর শর্তহীন নাগরিকত্বে আওতামুক্ত৷

১. ক্যানাডা : উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর একটি। অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে কানাডার অর্জন অন্য দেশগুলোর কাছে ঈর্ষণীয়। উন্নত জীবন-যাপন ব্যবস্থা এবং আধুনিক নাগরিক জীবনের সব সুবিধা থাকার কারণে প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নায়াগ্রা জলপ্রপাতের এই দেশটিতে পাড়ি জমায়।

২. পাকিস্তান : দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ। দেশটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। পাকিস্তান ভারতীয় উপমহাদেশের অংশ।

৩. মেক্সিকো : দেশ এহানর রাজধানীগ মেক্সিকো সিটি।রাষ্ট্র এহানর মানুরে/নাগরিকরে মেক্সিকান বুলতারা। মক্সিকো উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত।

৪. আর্জেন্টিনা : দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাষ্ট্র। বুয়েনোস আইরেস দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত।

৫. ব্রাজিল : ব্রাজিল নামটির বুৎপত্তি পরিষ্কার নয়। ঐতিহ্যগতভাবে ধারণা করা হয় ‘ব্রাজিল’ নামটি এসেছে ব্রাজিলউড থেকে, যা এক প্রকার কাঠ উৎপাদনকারী গাছ। ১৬ শতকের দিকে ব্রাজিল থেকে নাবিকরা ইউরোপে এই কাঠ রপ্তানি করতো।

৬. কিউবা : পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম ও সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপ। দ্বীপটি আশেপাশের অনেকগুলি ছোট দ্বীপের সাথে মিলে কিউবা প্রজাতন্ত্র গঠন করেছে। কিউবা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত।

৭. ভেনেজুয়েলা : দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার ভূপ্রকৃতি উত্তরে আন্দেস পর্বতমালার সুউচ্চ পর্বতচূড়াগুলি থেকে দক্ষিণের ক্রান্তীয় অরণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশের মধ্যভাগে আছে তৃণময় সমভূমি এবং রুক্ষ উচ্চভূমি।

৮. চিলি : দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একটি দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল ঘেঁষে একটি লম্বা ফিতার মত প্রসারিত একটি ভূখণ্ড। উত্তর-দক্ষিণে চিলির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,২৭০ কিলোমিটার, কিন্তু এর গড় বিস্তার ১৮০ কিলোমিটারেরও কম।

৯ : অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা : ক্যারিবীয় সাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। রাষ্ট্রটি মূলত লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের মধ্যভাগে অবস্থিত।

১০. বারবাডোজ : বারবাডোজ দ্বীপের “জীবন্ত” কফিনগুলো! ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ বারবাডোজ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, এই স্থান খ্যাত একটি শবাগারের জন্য। এখানে যার মৃতদেহই রাখা হোক না কেন, তাঁদের কফিন গুলো সরে যেত নিজেদের অবস্থান থেকে অনেক দূরে।

১১. বেলিজ : বেলিজ মধ্য আমেরিকার উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি দেশ। বেলিজ মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও স্বল্পবসতিপূর্ণ দেশগুলির একটি। প্রায় দুই শতক ধরে এটি ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৩ পর্যন্ত এর নাম ছিল ব্রিটিশ হন্ডুরাস। ১৯৮১ সালে এটি স্বাধীনতা লাভ করে।

১২. চাদ : সরকারী নাম চাদ প্রজাতন্ত্র, মধ্য আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর উত্তরে লিবিয়া, পূর্বে সুদান, দক্ষিণে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়া, এবং পশ্চিমে নাইজার।

১৩. ইকুয়েডর : দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম অংশের একটি রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম কিতো। এর সরকারি নাম ইকুয়েডর প্রজাতন্ত্র। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরে উপকূলে অবস্থিত।

১৪. ডোমিনিকা : ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ সালে এক রবিবারে দ্বীপটি প্রথম দেখেন এবং এটিকে লাতিন ভাষাতে সেই দিনের নাম দোমিনিকাস অনুসারে দোমিনিকা বা ডোমিনিকা রাখেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স দ্বীপটি দখলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যুক্তরাজ্য শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হলেও দ্বীপটিতে এখনও ফরাসি প্রভাব রয়ে গেছে।

১৫. ফিজি : দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। এর সরকারি নাম প্রজাতন্ত্রী ফিজি দ্বীপপুঞ্জ।

১৬. গুয়াতেমালা : মধ্য আমেরিকার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর উত্তর-পশ্চিমে মেক্সিকো, দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর-পূর্বে বেলিজ ও ক্যারিবীয় সাগর।

১৭. হণ্ডুরাস :

১৮. পেরু : পেরু দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম-মধ্য অঞ্চলে, প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। পেরুর ভূগোলে চরম বৈপরিত্যের সহাবস্থান পরিলক্ষিত হয়। এখানে আছে জনবিরল মরুভূমি, সবুজ মরূদ্যান, বরফাবৃত পর্বতমালা, উচ্চ মালভূমি এবং গভীর উপত্যকা।

১৯. জ্যামাইকা : এটি মধ্য আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে ৬২০ কিমি উত্তর-পূর্বে, কিউবার ১৪৫ কিমি দক্ষিণে এবং হিস্পানিওলা দ্বীপের ১৯০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত। সবুজে আচ্ছাদিত পর্বতমালা, নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত এবং নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

২০. গ্রেনাডা : গ্রেনাডা কমনওয়েলথ অভ নেশনসের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ব্রিটেনের রাজা বা রানী এখানকারও রাজা বা রানী এবং রাষ্ট্রপ্রধান। একজন গভর্নর জেনারেল রানীর প্রতিনিধিত্ব করেন। গ্রেনাডা ১৯৭৩ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা ও লিখিত সংবিধান গ্রহণ করে। ১৯৭৯ সালে একটি কু-এর পর সংবিধানটি স্থগিত করা হয় এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

২১. পানামা : পানামা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশের একটি রাষ্ট্র। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দেশটি পূর্বে কলম্বিয়ার অধীন ছিল। পানামার রাজধানীর নাম পানামা সিটি। পানামাতে আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর এর সংযোগকারী পানামা খাল অবস্থিত।

২২. গায়ানা : গায়ানা দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত, প্রাক্তন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ছোট ছোট দ্বীপগুলির সাথে এর সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক।

২৩. উরুগুয়ে : দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে অবস্থিত একটি দেশ। এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ।

২৪. প্যারাগুয়ে : প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-মধ্যভাগে অবস্থিত একটি ভূমিবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম প্যারাগুয়ে প্রজাতন্ত্র (স্পেনীয় ভাষায় República del Paraguay রেপুব্লিকা দেল পারাগুয়াই; গুয়ারানি ভাষায় Tetã Paraguái তেতাঁ পারাগুয়াই)।

২৫. লেসোথো : দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার একটি দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা এই স্থলবেষ্টিত দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। দেশটির অতীতে বাসুতোল্যান্ড নামে পরিচিত ছিল। সারা বিশ্বে মাত্র তিনটি দেশ আছে, যারা অপর একটি মাত্র দেশ দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিবেষ্টিত।

২৬. এল সালভাদর : মধ্য আমেরিকাতে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। জনসংখ্যার বিচারে মধ আমেরিকার দেশগুলির মধ্যে গুয়াতেমালার পরেই এর অবস্থান। দুই আমেরিকার মহাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে এটি দ্বিতীয়।

২৭. সেন্ট লুসিয়া : সেন্ট লুসিয়া ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। … সেন্ট লুসিয়া রাজধানী শহর কাস্ট্রি (জনসংখ্যা 60,263) যেখানে জনসংখ্যার 32.4% বসবাস করে। অন্যান্য প্রধান শহরে মধ্যে গ্রোস আইসলেট, Soufrière, এবং ভিয়ুক দুর্গ … খ্যাতি জনসংখ্যার অনুপাতে নোবেল বিজয়ীর তালিকায় দ্বিতীয়তে অবস্থান করছে সেন্ট লুসিয়া।

২৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস : সেন্টস কিটস ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর একটি দ্বিপ বা জায়গা। পুরো নাম সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস। ভ্রমনের জন্যে জায়গাটি হিসাবে খারাপ না। সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে সেন্ট কিটস যেতে আপনার কোন ভিসা লাগবে না। এই জন্যে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই গিয়ে থাকে।

২৯. সেইন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস : সেন্ট কিট্‌স ও নেভিস উত্তর আমেরিকার একটি রাষ্ট্র ওয়ার্নার পার্ক স্পোর্টিং কমপ্লেক্স, দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী রবার্ট লেভেললিন ব্রাডশ এর নামাঙ্কিত বাসেটেররে এর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির প্রধান বিমানবন্দর রূপে গণ্য।

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডয়চে ভেলের অবলম্বনে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *