পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘটনা কী সত্যিই তাই! এরদোয়ান কি আসলেই এটি করেছেন। তুরস্কের উল্লেখযোগ্য একটি গণমাধ্যম তো তাই প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলছে এমিন শাহিন নামে একজন নিরিহ মুসলিম নারীকে বন্দি করেছেন এরদোয়ান। কামাল আতার্তুকের মূর্তির সামনে সম্মান প্রদর্শন না করে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় তুরস্কের ডেইলী হুররিয়াত নামীয় গণমাধ্যমটি।
তুরস্কের মহান স্থপতি ও প্রজাতন্ত্রের মহান নেতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। ১১ নভেম্বর ১৮ রোববার ছিলো তাঁর ৮০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাই সরকারিভাবেই এ দিনটিতে সারাদেশে শোক দিবস পালন করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়েছিল তুরস্কের এই মহান নেতার সব কীর্তিকে। সেসময় এডিরনে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমিন শাহিন। এবং তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, “আতাতুর্ক দেবতা নয়, আতাতুর্ক তো পশ্চিমের আইন নিয়ে এসেছিল, আমাদের খোদার আইন আছে।”
এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে তুরস্ক পুলিশ। পরে সিকিউরিটি প্রধান তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, কামাল আতাতুর্ককে উদ্দেশ্য করে তার এ বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখিত নন। তিনি স্পষ্টই করেই বলেছেন, সে তো ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ হেফাজতেই ছিলো এমিন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে প্রসিকিউশনের জিজ্ঞাসাবাদে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এবং আতাতুর্ককে উদ্দেশ্য করে তার ভাস্কর্যে জনসাধারণের সামনে অপমানমূলক কথা বলায় তাকে অপরাধী অভিযুক্ত করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শাহিন তুর্কি ইউনিভার্সিটির মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য লক্ষ্য করে তার মতামত ব্যক্ত করায় অপমানজনক অভিযোগ দেখিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ছিলেন উসমানীয় সামরিক কর্মকর্তা, বিপ্লবী রাজনীতিবীদ, লেখক এবং তুরষ্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি আধুনিক তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তাকে আধুনিক তুরষ্কের জনক বলা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আতাতুর্ক একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি তুর্কি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আঙ্কারায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর মাধ্যমে তিনি মিত্রশক্তির প্রেরিত বাহিনীকে পরাজিত করেন। তার সামরিক অভিযানের ফলে তুরস্ক স্বাধীনতা লাভ করে। আতাতুর্ক এরপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যকে একটি আধুনিক, পশ্চিমা ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতিরাষ্ট্রে রূপান্তর এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল। আতাতুর্কের সংস্কার আন্দোলনের মূলনীতির উপর আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠিত। তার মতবাদ কামালবাদ নামে পরিচিত।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হুররিয়্যাত, তুরস্ক
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


