ইখতেলাখ নয়, ঐক্য চায় জমিয়তে উলামা হিন্দ

ইখতেলাখ নয়, ঐক্য চায় জমিয়তে উলামা হিন্দ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (দেওবন্দ) : ভারতের মুসলমানদের নিজেদের ইখতেলাফ, ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের জন্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উল্লামা হিন্দ সাহরানপুরের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল রহমানী। তিনি বলেন, ভারতে ইসলাম ও মুসলমানদের শক্তিবৃদ্ধি করার জন্যে দ্বীনের প্রতি মহব্বত, অন্তরে আল্লাহভীতি নিয়ে কুরআন ও হাদীসের আলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সামনে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলমানদের কি করা উচিত— এই বিষয়ে জানার জন্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ও দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ সফর করে এসে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে বিবৃতি দিয়ে এই আহ্বান জানান সাহরানপুর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা ইসমাইল রহমানী।

বিবৃতি মাওলানা রহমানী বলেন, ইসলাম মানবতার ধর্ম ইসলাম কল্যাণ ও শান্তির ধর্ম। ইসলাম অহংকার, দাম্ভিকতা ও দলেদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়াকে পছন্দ করে না। ইসলাম ঐক্যের আহ্বান জানায়। কিন্তু মুসলমানরা বিভিন্ন দলে, বিভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। একদল অন্য দলকে পছন্দ করে না, তাদেরকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না, এতে করে মুসলমানদের শক্তি দিনদিন খর্ব হচ্ছে।

মুসলমানদের ঈমানের দুর্বলতা সমাজে অশান্তির কারণ দাবি করে সাহরানপুর জমিয়তের সভাপতি বলেন, মুসলমানরা এখন দুনিয়ামুখী হয়ে গেছে। আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে মুসলমানরা এখন অজ্ঞ। আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যতই কমবে, ঈমানও তত কমতে থাকবে। নিজের ঈমানকে প্রথমে হেফাজত করতে হবে, শক্তিশালী করতে হবে। দুনিয়াবিমুখী হয়ে পরকালমুখী হলে সমাজে শান্তি আসবে।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ না করে শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখা মনোযোগী হওয়ার কথা উল্লেখ করে মাওলানা ইসমাইল রহমানী বলেন, ইসলামের প্রচার-প্রসার করতে হলে কুরআন, হাদীসের জ্ঞান অর্জনে পারদর্শী হতে হবে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে হলেও জ্ঞান অর্জনের কেন বিকল্প নেই।

রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে মাওলানা রহমানী বলেন, অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রাম মন্দির নির্মাণের জন্যে কোন ভাবেই দেয়া যাবে না। শরীয়ত অনুযায়ী মসজিদের জমি কাউকে দেয়া যায় না, উপহার দেয়ারও নিয়ম নেই। একবার কোনো জমিতে মসজিদ নির্মিত হলে তা আল্লাহর হয়ে যায়। আর কোন মসজিদকে গায়রুল্লাহ’র এবাদতের জন্য দেয়া হারাম। শরীয়তে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।

পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ সাহরানপুরের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল রহমানী, জমিয়তে উলামা হিন্দ সাহরানপুরের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা আনিস, সাহরানপুর জামে মসজিদের ইমাম, খতীব মাওলানা যোবায়ের আহমদ, তালীমুল কুরআন বোর্ডের প্রধান মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ।

সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, উর্দু ডেইলি পত্রিকা
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *