২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

কওমি মাদরাসার প্রশ্নপত্র ফাঁস, এর দায় কার?

কওমি মাদরাসার প্রশ্নপত্র ফাঁস, এর দায় কার?

নাঈম ইসলাম : হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া যে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করতে অক্ষম তা নিয়ে মনে কোন সংশয় ছিলো না কিন্তু তার প্রমাণ যে এত তাড়াতাড়ি মিলবে তাও বুঝতে পারি নি।

দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় পূর্বের এবং পরের সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে এর দায় কি হাইয়াতুল উলিয়ার? আমি বলবো অবশ্যই এই অপরাধের দায় হাইয়াতুল উলিয়াকেই নিতে হবে, কারণ সংসদে আইন পাশ হওয়ার পরে সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া পরিক্ষায়ই যদি এমন ব্যাপকহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাহলে সেই পরিক্ষা যারা নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের যোগ্যতা, সততা এবং সচ্ছতার ব্যাপারে জনমনে যে ধারণা জন্মে তা অত্যন্ত হতাশা এবং শংকার। বিশেষ করে যে সকল নেতৃবৃন্দ কথায় কথায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনৈতিকতার প্রশ্নে এক হাত নেন আবার তাদের অধিনেই যখন এমন অনৈতিকতার চরম উদাহরণ সামনে আসে তখন তা কওমী মাদ্রাসার জন্য একদিকে যেমন হাস্যকর তেমনি কলঙ্কজনক অধ্যায়।

হাইয়াতুল উলইয়া নানা কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ। একটা শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী সংস্থার ব্যাপারে যখন অযোগ্য, ক্ষমতালোভী সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে সেখান থেকে কতটুকু ভালো আশা করা যায় তা প্রশ্নবিদ্ধ।
কথিত আছে হাইয়াতুল উলইয়া ছয় বোর্ডের সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান হলেও এর প্রশাসনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে বেফাক বোর্ডের সিন্ডিকেট। সেখানে যেমন পরিবারতন্ত্র আছে তেমনিভাবে শৈরতন্ত্র বিরাজমান।

যার ফল আমরা দেখছি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রধান অভিযোগ উঠেছে বেফাক বোর্ডের মহাসচিব এবং সহকারী মহাসচিব যে মাদরাসার পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত সেই মাদরাসা থেকেই। বলে রাখা ভালো তারা দুজনেই আবার সম্মন্ধে শ্যালক দুলাভাই।

দ্বিতীয়ত এটি এমন একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান যার নেতৃত্বে সরাসরি বিভিন্ন মাদরাসার পরিচালক আছেন আবার সেই সাথে তারা সক্রিয় রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে যার কোন নজির নেই।

এক হাইয়াতুল উলিয়া দুই দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাকর্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। একটি এফিলিয়েটেড ইউনিভার্সিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এই দুই প্রতিষ্ঠানের যেই দায়িত্ব এবং কার্যক্রম, হাইয়াতুল উলিয়া একাই তা পালন করে। এখন প্রশ্ন হলো এই নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ মাদরাসা পরিচালনা করে আবার সেই সাথে সক্রিয় রাজনীতি করে কি করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করতে সক্ষম?

সভাবতই এখানে শ্যাম রাখি না কুল রাখির মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হওটাই স্বাভাবিক।
কওমী মাদরাসার মত এমন একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো মোটেও সুখকর নয় বরং শংকা এবং উদ্ভিঘ্নতার।

হাইয়াতুল উলইয়ার মত সংস্থায় অবশ্যই সকল বোর্ডের সমান গুরুত্ব ও অংশীদারত্বের চর্চা থাকা আবশ্যক যাতে করে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতার জায়গাগুলো আরও সচ্ছ হয়।

এর ব্যতিক্রম হলে আজ যেই প্রজন্মকে নিয়ে তাদের এত বরাই সেই প্রজন্মই তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং যাদের আদব কায়দা নিয়ে তারা সর্বত্র গলা উঁচু করে কথা বলেন তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হবে নিঃসন্দেহে।

বর্তমান প্রজন্মের ভিতরকার ভাঙনের শব্দ কি তারা শুনতে পান?

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com