৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

কওমী মাদরাসায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে তরুণ আলেমদের বিশ্লেষণ

কওমী মাদরাসায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে তরুণ আলেমদের বিশ্লেষণ

কওমী মাদরাসা গায়ে ছিল সাদা পোশাক। এখানে কোনো দাগ ছিল না। দারুল উলূম দেওবন্দের চিন্তাধারার আলোকে প্রতিষ্ঠিত এসব মাদরাসার উদ্দেশ্যই ছিল আল্লাহ এবং তার রাসূলকে খুশি করা। আর সেখানেই এখন নকল থেকে আরও একধাপ অগ্রসর হয়ে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনাও মামুলি হয়ে গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বস্ত মানুষের এই পোশাকে কালো দাগ কীভাবে লাগলো। আসলে এতে সমাধান কী? এসবই অনেক তরুণ বিশ্লেষণ করেছেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বর্ণনা করেছেন অনেকে। পদ্ধতিগত দুর্বলতাকেও দায়ী করেছেন তাদের বিশ্লেষণে। তাহলে দেখুন আসলে তারা কী কী পরামর্শ দিয়েছেন। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য উপস্থাপিত হলো— এডমিন

স্বীকৃতিতে অর্জিত ভ্যালু রক্ষা করতে হবে

পার্থিব জীবনে ঐ সব বস্তর হেফাজতে সতর্ক থাকতে হয় যেসব বস্তুর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অর্থনৈতিক মান বা ভ্যালু থাকে। এসব বস্তু পেতে মানুষের আগ্রহ থাকে। লোভ থাকে। তাই তা অর্জনে সোজা-বাকা এমনকি কঠিন পথও অবলম্বন করে কিছু কিছু মানুষ।

স্বীকৃতির পর থেকে কওমী মাদরাসা সনদের আর্থিক ভ্যালু প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তাই আজকের নতুন সমস্যা তৈরী হয়েছে। যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, নীতি-নৈতিকতা ষোল আনা রক্ষা করে অর্থনৈতিক পৃথিবীতে আগানো যে আজ সুকঠিন, সে জ্ঞান এখন সবারই আছে।

কওমী মাদরাসায় অতীতে এমন ঘটনা কখনো সংগঠিত না হওয়ার মাঝে তেমন কোন বুয়ুর্গী এবং স্বীকৃতির ১ম বছরেই এমন ঘটনা হওয়ার মাঝে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে অবাক হওয়ার মতো কিছু নাই।

ডিম চুরি থেকে নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি সবখানেই ঝুকি আছে। তবু সমুহ ঝুকি নিয়েই যার প্রয়োজন সে এই কঠিন কাজে হাত বাড়ায়। কারণ ঐ। অর্থনেতিক ভ্যালু।
তাকওয়া-নৈতিকতা-আকাবিরের দোহাই দিয়ে এ বিপদ সহজে রোধ করার স্বপ্ন য়ারা দেখছেন। তাদেরটা দিবা স্বপ্নই।

ততাকওয়ার বয়ান আর দূর্বল তালা দিয়ে এ বিপদ রোধ করা সুকঠিন।

তাই বলি, যেহেতু অর্থনৈতিক জোনে আমাদের শুভাগমন ঘটেছে। তাই এ লাইনে দক্ষ সরকারী অন্যান্য বোর্ডের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও চোর ঠেকাতে তাদের গৃহিত উদ্যোগ-প্রচেষ্টা জানা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, যেখানে দুনিয়ার কোন ফায়দা নেই, সেখানে চোরও নেই; পাহারাদারও দরকার নেই। এখন আমরা ১৮০ বছরের নিরাপদ সীমানা পেরিয়ে অর্থনৈতিক জোনে প্রবেশ করেছি। তাই শুধু নসীহতের টনিক আর সমাধান নয়। কারণ চোর শোনেনা ধর্মের কাহনী।

মঞ্জুরে মওলা
প্রিন্সিপাল, দারুল আজহার সিলেট

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ইমামতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে!

বেফাক বোর্ডের জানা থাকা উচিত আমাদের জনসাধারণের কাছে যেতে হয় বিভিন্ন কারণেই তারাও আবেগ দিয়ে সহোযোগিতা করেন তারা সেই আবেগের জায়গাগুলো নষ্ট করছেন।

তারা যখন মঞ্চে থাকেন একতরফা বলে যান কিন্তু জনগণ যখন এই পোশাকে আলেমদের দেখে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত তখন ইমামতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, খুতবা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

আমি আশা করবো আমাদের যারা মুরুব্বী আছেন আপনারা সাহস দেখান পদত্যাগ করে যে দূর্ণীতি হয় যেখানে আপনারা সেখানে নেই, পদ ধরেই রাখতে হবে তা কেন, কিন্তু তাদের সেই সাহস নেই।

আমি আশা করি তারা পদের উর্ধ্বে উঠে কওমী মাদরাসার ছাত্রদের স্বার্থ দেখবেন, এই লাখ লাখ ছাত্রদের ভবিষ্যত নিয়ে আপনারা খেলবেন না।

মাওলানা লাবীব আব্দুল্লাহ
শিকড় সাহিত্য মাহফিলের প্রতিষ্ঠাতা সাথী

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অগ্রসর হতে হবে

স্বীকৃতিপূর্ব কওমী সনদ আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমী সনদের পার্থক্য অনেক। সুতরাং হাইয়্যা বা বেফাক বর্তমান ও ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বহুবিদ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগুতে হবে। বিষয়টা অনাকাঙ্ক্ষিত হলে অস্বাভাবিক বলে আমি মনে করি না।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব বিষয় ভাবনার মতো দক্ষ কর্মকর্তা হাইয়্যা বা বফাকে নেই।

একই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান আবার তিনিই নোর্ড কর্মকতা, এসব বস্তাপচা নিয়ম ছাড়তে হবে।

বড় হুজুরকে সব জায়গাতেই সভাপতি আর মোঝো হুজুরকে মহাসচিব রাখতে হবে এসব এ দুনিয়য় খায়না। আগে দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, নিজেদেরকে সংশ্লিষ্ট কাজে যোগ্য করে গড়ে তুলুন, এরপর দায়িত্ব নিন দেখবেন অনেক কিছু সহজ হয়প যাবে। বাপ দাদার নাম দিয়ে খানকা চলে, মাদরাসাও হয়তো চালিয়ে দেয়া যায় কিন্তু শিক্ষাবোর্ড চালানো? সে অন্য জিনিষ।

সময় থাকতে সচেতন হোন। নয়তো লজ্জা আর কলঙ্ক আপনার ললাট লিখন হয়ে দাঁড়াবে।

সুহৃদ সাকি
শিক্ষক ও উপন্যাসিক

সরকারি স্বীকৃতি আর প্রশ্নফাঁস আলাদা বিষ

সনদের সরকারি স্বীকৃতি আর প্রশ্নফাঁস আলাদা বিষয়। স্বীকৃতির প্রয়োজনে স্বীকৃতি এসেছে, এখন প্রয়োজন নিজেদেরকে আরও সুসংহত করা। প্রত্যেক জায়গায় কিছু দুষ্ট লোক থাকে, হাইআ যদি উদ্যোগী হয় তাহলে সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমাদের বিশ্বাস, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টরা আরও সচেতন হবেন।

মনসুরুল আলম মনসুর
সম্পাদক, মাসিক ফুলের হাসি

কওমী স্বীকৃতি এমুহূর্তে দরকার ছিল

আমি মনে করি কওমী স্বীকৃতি এমুহূর্তে দরকার ছিল। নতুবা সরকার এমনভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতো যে কওমী হয়ে যেতো আলিয়া মাদ্রাসার মতো। তাই সঠিক হয়েছে এবং এই কাজে যথেষ্ট কষ্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইয়্যিদ হুসাইনুল বান্না এবং আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হুজুর। উনারা এটাকে কওমীর মধ্যেই রেখেছেন। বাইরে যেতে দেননি। তাছাড়া আল্লামা আহমদ শফী সাহেব হুজুরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্নয় সাধন করেছেন। এই ব্যাপারে উনাদের প্রতি সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
আবু সাজ্জাদ
ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী

কিছু দুষ্ট কওমীতেও আছে

কওমীতেও কিছু দুষ্ট লোক আছে। যেমন বেকওমীতে কিছু ভাল লোক আছে। সেই দুষ্ট লোকদের দ্বারাই এগুলো হচ্ছে। কিন্তু সাদা জামায় দাগ একটু বেশি-ই দেখা যায়।
মুফতী মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ
মুহাদ্দিস, জামিআ বাইতুন নূর, ঢাকা

মুখ লুকাব কোথায়?

প্রশ্ন ফাঁসের গুন্জন শুনছি। সত্যি কিনা জানি না। যদি হয়েই থাকে, তবে দুঃখজনক। আমরা নিজেদেরকে নিয়ে গর্ব করি। সবার সামনে মুখ উঁচু করে কথা বলি।
কিন্তু এখন মুখ লুকাব কোথায়? এই যে কলঙ্ক লেপন হয়ে গেল। ১৫০ বছরের ইতিহাসে এমনটা হয়নি।
সুতরাং অপরাধীকে সহজে ছাড় দেওয়া যাবেনা। তদন্ত করে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।এটাই দাবী।
মাওলানা আমিনুল ইসলাম
শিক্ষক

তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার

শুরুতেই যদি হাইআ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
তাই নবীন ও প্রবীনদের মতামত নিয়ে এই সমস্যা সামাধানের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।

মানসুর আহমদ সাকি
সম্পাদক, বিডিটাইমস সমাচার

প্রশ্নফাঁস কি সময়ের দাবি ছিলো?

বুকে অনেক কষ্ট চাপা পড়ে আছে। উগরে দিলে লোকালয় নই; শহরও জ্বলে যাবে। প্রশ্নফাঁস সময়ের দাবি ছিলো কি না জানি না তবে তা সময়ের তালে-ই তা হয়েছে।
সতীত্ব যখন বিক্রি করেছি, ব্যাথা তো অনুভূত হবে-ই।

অধমের চিন্তা শুরু হতে বিপক্ষ। কারণ মিথ্যের ওপর সত্যের মিনারা তৈরি করা যায় না আবার সত্যের স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করা যায় না।

দ্বিমত এখানে-ই। আমি আমার জীবনে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক হোক বা ইত্তেহাদের হোক কোথাও কোনকালে আমি প্রশ্নফাঁস দেখি নি_চিন্তাও করি নি।

সমাধানের পথঃ- আমরা বড়দের সম্মান করি না; বুড়োদের বড় মনে করি। অম্ল সত্য হলো আমরা সম্মান ও যোগ্যতাকে এক করে ফেলি। যোগ্য সবসময় সম্মানীত কিন্তু বড় বা বুড়োরা সম্মানিত শুধু। আমরা বড় বলেই বা বুড়ো বলেই যে কোন পদেই তাদের বসায় বরকত বা আকাবির বা ইসলামের নাম দিয়ে _ আদৌ ইসলাম তা বলে কি না জানি না। যোগ্যদের প্রাধান্য দিই না; যোগ্যদের আশপাশে যারা ঘুরঘুর করে তাদের যোগ্য মনে করে লুঙ্গিও দিয়ে দিই, যা আমাদের ঐতিহ্যবাহী অতীত!
ভয় হয় একদিন কী হবে এই ইখলাসের চারাগাছে!

ফারুক আজিজ
তরুণ কবি

জতীয় অবক্ষয় দূর করতে হবে

সোজাসাপ্টা কথায় বলতে যে সকল গলাবাজগণ অকথ্য ভাষায় কলেজ ইউনিভার্সিটির গোষ্ঠীপিণ্ডি করতেন তাদের ঝুরির তলাও যে ফুটা তা দিনদিন প্রকাশ হচ্ছে এবং কওমি ঘরানায়ও যে অনৈতিকতা আছে তাও জাতির সামনে এতদিন ধামাচাপা দিয়ে এলেও এখন তা ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে। সাক দিয়ে মাছ ঢাকা আর কতদিন? তাই বলি অন্যদের ব্যাপারে এমন নাক না শিটকিয়ে কওমি নেতৃবৃন্দের উচিত নিজেদের অযোগ্যতা দূর করে সকল শিক্ষা-কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নেতৃবৃন্দের সাথে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই জতীয় অবক্ষয় দূর করতে সচেষ্ট হওয়া।

নাঈম ইসলাম
তরুণ লেখক

বোর্ডের কেউতো ফেরেশতা নন
আমি এটাকে আশ্চর্যজনক মনে করি না।কারন এ বোর্ডে যারা আছেন সবাই আমাদের মতো মানুষ, ফেরেশতা নন, নবি রাসুলও নন, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ “রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদ্বু আনহু ” বলেন নি।এ বোর্ডের এমন কোনও দায়িত্বশীল নেই যিনি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে আমি জীবনে কোনও গুনাহ করি নি।কাজেই মানুষ ভুল করবেই,এটাই স্বাভাবিক।হয় তো আগেও অনেক জায়গায় এমন হয়েছে,কিন্তু ধরা পড়ে নি।এবার ধরা পড়েছে,এখন ইসলাহ হবে। কথায় বলে চুরের শ’দিন আর সাধুর একদিন।
এতদিন সনদের তেমন গুরুত্ব ছিলো না,তাই ফাঁস হলেও এতো মাতামাতি হয় নি,গুরুত্ব এখন আকাশচুম্বী,তাই চৌদিকে এ নিয়ে হইচই।এবার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে গুরুত্ব দেয়া দরকার।

আবিদ রহমান

শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে স্বীকৃতি দায়ী নয়

অনেকেই হাইয়া ও বেফাকের প্রশ্নফাঁসকে সনদের স্বীকৃতি নেয়ার অভিযোগ তুলছেন। বলছেন, স্বীকৃতি নেয়ার ফসল হলো এই প্রশ্নফাঁস। তাদের এ দাবি কতটুকু বাস্তবসম্মত?
প্রবলেম আমাদের। সনদের স্বীকৃতির নয়। বেফাকের তো স্বীকৃতি নেই। ওটার প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন? স্বীকৃতি বাতিল করলে প্রশ্নফাঁস হবে না সে গ্যারান্টি কীভাবে দিচ্ছেন? এই অভিযোগ নতুন করে নয়। আগেও তো হয়ে আসছে।

বেফাক ও হাইয়ার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে যেই জড়িত, তারই বিচার হোক। হোক সে কর্মকর্তা, কর্মচারী। তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে জনসম্মুখে শাস্তি দিয়ে অপসারণ করা হোক।

এই খিয়ানতের ব্যাপার গুলো অনেক বছর আগ থেকেই চলতেছে। আর এই বিষয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ (দাঃবাঃ) অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তখন তাকে অনেকেই গালমন্দ করেছিল।

আজ কথাগুলো দিনের মত পরিষ্কার হয়েগেছে। আরো হবে ইনশাআল্লাহ।

অপরাধীর ভিন্ন কোন পরিচয় নেই! নেই সামাজিক, নেই রাজনৈতিক, কিংবা বংশগত পরিচয়! বেফাক হোক বা হাইয়া! অপরাধীর পরিচয় সে শুধুই অপরাধী।
সুতরাং অপরাধীদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বোর্ডকে কলঙ্কমুক্ত করুন।
শিবলী আহমাদ
মসজিদের ইমাম

পরীক্ষা বোর্ডে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে

আমাদের অঙ্গনে চুপ করে থাকার একটা মানসিকতা আছে। মাল্টিপারপাস করে লাখ লাখ টাকা এই লেবাসধারীরাই মেরে দিলেও কেউ কথা বলেনি। আন্দোলন হয়নি। সহনশীলতার দারুণ এক উচ্চমার্গে অবস্থান বলবো আমাদের। আপনি সেকার কথা বলেছেন। কী হবে আমাদের ইমামতি, দান সাদকা বা যাকাত উত্তোলনের বিষয়ে বিশ্বস্ততার। বিস্ময়কর হলেও আপনার ময়মনিসংহসহ সবখানেই তো লাখ লাখ টাকা মেরে দিয়েও তারা হাদিস পড়াচ্ছেন। বিশেষ অনুষ্ঠানে এসে জ্ঞান দিচ্ছেন। খুলনায়, চট্টগ্রাম, ঢাকা আর সিলেটের কথা বলে লাভ নেই। যত জনগোষ্ঠী টাকা মারার ফাঁদ পেতেছে এরমধ্যে বেশিরভাগই আমাদের সিলেটীদের টাকা। হয়তো আলেমসমাজের মতোই সিলেটীরা পৃথিবীকে সহজ করে নেয় বলেই। আমার কাছে মনে হয়, প্রশ্নফাঁস বা নকল এটি নতুন কোনো প্র্যাক্টিস নয়। নতুন করে দাগ লাগানোর চেষ্টা নয়। এটি আগেও হয়েছে। গুরুত্ব পায়নি। মিডিয়াবাজি হয়নি। স্বীকৃতির কারণেই হোক, সহজলভ্য মিডিয়ার কারণেই হোক- এখন জনসমক্ষে আসতে শুরু করেছে। এর ছিদ্র বন্ধ করাও এত সহজ নয়। একটা পরীক্ষা বোর্ডের কাজ যখন রাজনীতিকরণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় তখন এসব নিয়ে ভাববার মানুষ কোথায়? আর ঊর্ধ্বতন পোস্টে তাহাদের আশির্বাদপুষ্ট মানুষেরাই সরব। কেবল পরীক্ষা নিয়ে ভাববার, চিন্তা করবার, প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরিবেশ তৈরী করবার মানুষ দরকার।

মাসউদুল কাদির

ভাইস প্রেসিডেন্ট, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com