পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মক্কা শরীফে কাবার অভ্যন্তরে আমি যে দুআ করেছিলাম আল্লাহ তাআলা আমার সে দুআ কবুল করেছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, আমার মনে হয়, আমি কাবা শরীফের অভ্যন্তরে যে দুআ করেছি, আল্লাহ তাআলা তার অর্ধেক কবুল করেছেন। আমি প্রায় আধা ঘণ্টার মত কাবা শরীফের ভিতরে ছিলাম। অনেক লম্বা দুআ করেছি কাবার অভ্যন্তরে বসে। আমার দুআর অনেকটা জোড়ে ছিল— হে আল্লাহ, দাওয়াত ও তাবলীগের সাথীদের মধ্যকার চলমান সংকট ও বিভেদ দূর করে দাও। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দাও। আবার মিল-মহব্বতের সাথে তাদেরকে ঐকমত্য হয়ে দ্বীনের কাজ করার তাওফিক দাও। আল হামদুলিল্লাহ এখন তারা এক ও নেক হয়ে গেছে।
দ্বীনের কাজের পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাওয়া আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক প্রিয় ও পছন্দনীয় মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, ইসলাম ও দ্বীনের প্রচার-প্রসারে দাওয়াত ও তাবলীগের কোন বিকল্প নেই। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা তাবলীগের দুইগ্রুপকে মিলিয়ে দিয়েছেন। দ্বীনের কাজ করার জন্য দাওয়াত ও তাবলীগের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আল্লাহ কাছে বড় প্রিয়, দ্বীনের কাজে উম্মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, দ্বীনের কাজ করার জন্য মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে মানুষদের নিয়ে গর্ব করেন।
আল্লাহ তাআলা তার দ্বীনকে হেফাজত করার জন্য অনেক সময় পোকামাকড়ের দ্বারাও কাজ নিয়ে থাকেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলীগের বৈঠকে আল্লাহ তাআলা আমার মুখ দিয়ে এমন এমন কিছু কথা বের করেছেন যে, তাবলীগের দুইগ্রুপই আমার কথা নিলো। তারা এক হয়ে গেলো। একে অপরের সাথে মোয়ানাকা করা শুরু করলো। বন্ধুরা আবার বন্ধু হয়ে গেলো। কিন্তু তাবলীগের এই দ্বন্দ্ব যারা তৃতীয় পক্ষ ছিল, ওরা তো এই যামানার মুনাফিক। তাবলীগের দুই গ্রুপের মিলন দেখা ওদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেছে। তারা আবার বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। আল্লাহ আমাদেরকে ও তাবলীগ জামাতকে মুনাফিকদের হাত থেকে রক্ষা করুন।
২৫ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
জঙ্গে জামালে যেভাবে মুনাফিকরা হযরত আলী রা. ও হযরত আয়শা রা.-এর মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে ছিল, ঠিক এই ভাবে টঙ্গীর ময়দানে যে মারামারি হয়েছিল এটা এই যামানার মুনাফিকরা লাগিয়ে ছিল দাবি করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, টঙ্গীর ময়দানে যে মরামারি হয়েছিল এর জন্য তাবলীগের সাথী কিংবা মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা দায়ী নয়। দায়ী হলো এই যামানার মুনাফিকরা। মুনাফিকরা তাবলীগের দুইগ্রুপের সাথে মিশে এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপর হামলা করে এই মারামারি লাগিয়েছিল। আর নিরপরাধ মানুষগুলোর রক্ত ঝরালো।
টঙ্গীর ময়দানের এই মারামারিকে কেন্দ্র করে আমার ফাঁসির ইন্ধন যুগিয়েছিল জামায়াত-শিবির দাবি করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, টঙ্গীর ওই দিনের মারামারির সম্পর্কে আমি তো দূরের কথা, আমার ফেরেশতারাও কিচ্ছু জানে না। অথচ মওদুদীরা ইন্ধন যুগিয়ে আমার উপর দোষ চাপিয়ে দিলো। তিনি বলেন, মুনাফিক ও মওদুদীর কাজ উত্তেজনা ছড়ানো, আর মুমিনের কাজ উত্তেজনা কমানো।
মুমিন কখনো মিথ্যা বলতে পারে না উল্লেখ করে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর খলীফা বলেন, মিথ্যা বলা কবিরা গুণাহ, নাজাযেজ। মুমিন কখনো মিথ্যা বলতে পারে না। একদা একবার মোল্লা জিয়ন রহ.-কে একব্যক্তি বললো, আপনার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে। তো উনি কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। তখন আরেকজন বললো, শায়েখ আপনি থাকতে আপনার স্ত্রী বিধবা হয় কেমন? তখন তিনি বলেন, আমি থাকতে আমার স্ত্রী বিধবা হতে পারে এটা সম্ভব হতে পারে কিন্তু মুমিন মিথ্যা কথা বলবে এটা অসম্ভব।
বিশ্ব ইজতেমার মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদের উপস্থিত থাকার কথা বলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আমাদের কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের ইসলাহী ইজতেমা। এই ইসলাহী ইজতেমা মুসল্লীদেরকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান আল্লামা মাসঊদ
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


