১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

খতমে বুখারীকে বিদআত বলার সুযোগ নেই

জামি'আ ইকরা বাংলাদেশ এর ১৪৩৮-৩৯ হি.২০১৭-১৮ শিক্ষার্ষের দাওরায়ে হাদিসের খতমে বুখারীতে পাগড়ি প্রদানের একটি চিত্র

খতমে বুখারীকে বিদআত বলার সুযোগ নেই

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ : হাদীসের কিতাবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান, হাদীসের কিতাবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান আমাদের আকাবিরদের সময় ছিল। এমনি আমাদের মুতাকাদ্দিমীনদের সময়ও দেখা গিয়েছে। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বুখারী শরীফের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাখাগ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’ লেখা শেষ করে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান করেছিলেন। শুকরিয়া অনুষ্ঠান করেছেন।

আজকের এই খতমে বুখারী অনুষ্ঠান শুকরিয়া অনুষ্ঠান। আমাদের জীবনে একটা অংশের সমাপনী অনুষ্ঠান। আলিফ বা তা থেকে শুরু করে ক্বালা ক্বালা রাসূললুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম পর্যন্ত লেখাপড়ার জীবনের শুকরিয়া আদায়ের অনুষ্ঠান। আমার পড়ালেখার জীবনের সমাপনী অনুষ্ঠানও বটে। এখন এই অনুষ্ঠানকে যদি কেউ বিদআত বলে চিহ্নিত করে, তাহলে তা অতিশয়োক্তি হয়ে যায়। একটু বেশিই অতিশয়োক্তি হয়ে যাবে।

রাসূল পাক সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর হাদীসের কিতাবের সমাপ্তি হিসেবে আমি যদি শুকরিয়া আদায় করি, আমার অভিবাকদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করি। তাহলে সেটা কখনোই বিদআত হতে পারে না। মূলত আজকের অনুষ্ঠান খতমে বুখারীর অনুষ্ঠান না, আজকের অনুষ্ঠান আমার অভিবাকদের নিয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায়ের অনুষ্ঠান। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু কুল্লুহু, আল্লাহুম্মা লাকাল শুকরু কুল্লুহু।

খতমে বুখারীর এই অনুষ্ঠানকে বিদআত বলা হলে মাদরাসাগুলোর জলসা করাও বিদআত। এটা বিদআত হলে তাবলীগ জামাতের ইজতেমা করাও বিদআত। এটা বিদআত হলে একসঙ্গে বসে আল্লাহকে ডাকা, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাও বিদআত। অথচ হাদীসে কুদসীতে আছে, কোন বান্দা যদি আমাকে একাকি স্মরণ করে, তাহলে আমিও তাকে একাকি স্মরণ করি। আর কোন বান্দা যদি জামাত নিয়ে, সমাবেশের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমিও তাকে এর চেয়ে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। তাই আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করার জন্য সমাবেশ করাটা, আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করার জন্য অনুষ্ঠান করাটা, হাদীসের মর্যাদার জন্য সমাপনী অনুষ্ঠান করাটা বিদআত হতে পারে না, হইতে পারে না, কখনোই হইতে পারে না।

মুতাকাদ্দিমীন উলামায়ে কেরামগণ ইলম বিক্রি করে টাকা-পয়সা খেতেন না। নিজেরা আলাদা মেহনত করে খাবারের ব্যবস্থা করতেন। আর ফ্রীতে ইলম বিলিয়ে দিতেন। টাকা-পয়সা খাওয়াটা না জায়েয না, কিন্তু তারা এটা পছন্দ করতেন না।

(২৮ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামিআ ইকরা বাংলাদেশ-এর খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে প্রদত্ব বক্তব্যের চুম্বুকাংশ)

শ্রুতি লেখন : আদিল মাহমুদ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com