গ্রাম বাংলায় যেতে ইচ্ছে করে

গ্রাম বাংলায় যেতে ইচ্ছে করে

গ্রাম বাংলায় যেতে ইচ্ছে করে

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : গ্রাম বাংলায় মাঝে মাঝে যেতে ইচ্ছে করে। যাবার উপায় নেই। কোথাও গিয়ে দু’দিন থাকব, তেমন পরিচিতজন নেই। সবাই পরিচিত, আবার সবাই অপরিচিত। ভুলে গেছি গ্রামের আল, সেই আল পথে হেঁটে চলা। সামনে নদী। নদী এমন বড় কিছু নয়। তবু সেই নদীর পানি কত দিন আমার নাগালের বাইরে। ট্রেন থেকে দেখা আর এ্যারোপ্লেন থেকে দেখা নদীর সঙ্গে তার কত তফাৎ। পুকুরের পানি, কি সুন্দর তার স্বাদ। একটু খেয়ে ফেললেও কোন অসুবিধা নেই। সাঁতার কাটলে মনে হয় সর্বাঙ্গ নতুন স্ফুর্তি পেল।

যাদের গ্রামের বাড়ি আছে, তারা কত ভাগ্যবান। কলকাতাতেও যারা থাকেন, তাদের ধারে কাছেই গ্রামের একটা ঠিকানা আছে। কিছুদিন আগে আমি গিয়ে হাজির তেমন একটি পরিবেশে। বিরাট বাগান বাড়ি, অনেকটা লম্বা পুকুর। সেখানে সব রকম মাছ আছে। ইচ্ছে করলেই বড়শি দিয়ে অথবা জাল দিয়ে সেই মাছ ধরা যায়। যত দূর দৃষ্টি যায় সবুজ গ্রামের ধু ধু প্রান্তর। এই প্রান্তর আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের শহুরে জীবনে।

বাংলার গ্রাম যে কত রূপময় হতে পারে, তা আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি। শরৎচন্দ্র গ্রন্থাবলী খুলে বসি। তার মাঝে মাঝে শুধু গ্রামের বর্ণনা। শরৎবাবু যে উপন্যাস লিখতে বসেছেন, তার কথা ভুলেই গেছেন। সামনে এসেছে সেই গ্রাম, যে গ্রাম আমাদের কল্পলোকে স্বর্গের ভূমিকায়। তেমনি আমি যখন ‘আব্বাসুদ্দিন: মানুষ ও শিল্পী’ লিখতে বসলাম একশ’ পাতা শুধু বলরামপুর। অতি অনায়াসে আমার সামনে উপস্থিত হল। এর প্রতিটি বর্ণ, প্রতিটি লেখা সত্যি। এই গ্রামেই আমার জন্ম, আমার পিতার জন্ম, আমার বোনের জন্ম। এই গ্রামের কথাই আমার আসল কথা। আমরা সব বিভিন্ন চরিত্র।

মানিকবাবুর লেখাতে গ্রামের সব চরিত্রগুলোতে চোখের সামনে এসে হাজির হয়। যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আর বড় নদী, মেজ নদী, ছোট নদী, খাল হবে বর্ষাকালে মিলেমিশে একাকার। বৃষ্টির শব্দ টিনের চালে স্পষ্ট শুনতে পাই। এখানেই লেখকের বিশেষত্ব। শতাব্দির পর শতাব্দি চলে গেল এ শব্দ মিলিয়ে যাবে না। আমার বহু গানে এই শব্দগুলো অমর হয়ে থাকল। যারা গ্রাম ভালবাসেন, তাদের ফিরতেই হবে এইসব গানের কলিতে।

গ্রাম বদলে যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরতলী, সেখান থেকে এক ধাপে তিন তলা, চার তলা বাড়ি। গ্রাম সেখানে সুদূর। হে আমার সুদূর, তুমি যে বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি। বক্ষে আমার রূদ্ধ দুয়ার, সে কথা যে যাই পাশরি।

মু. জা. আ.

৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *