৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা দেওয়া হবে : দুদক চেয়ারম্যান

পাথেয় রিপোর্ট : ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে দুদক কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আত্মসম্মানবোধের অভাব আর লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে ঘুষ খাওয়া সহজ বলে মনে করেন তিনি।

এসময় দুদকের অনেক ক্ষমতা থাকার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে না পারার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই নিতে হবে বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান।

রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন কর্মকর্তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তাগিদ দেন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রধান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিপূর্ণভাবে কাগজনির্ভর। আবার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুসারে অনুসন্ধান বা তদন্তকার্যে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার জন্য আইনি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছ কমিশনের। কেউ এই নির্দেশ পরিপালন না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ডের বিধানও রয়েছে।’

‘কেন কিছু কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন না, এর দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।’ তিনি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত থাকা এবং চলন-বলন তথা আচরণে উৎকর্ষ সাধনের পরামর্শ দেন তিনি।

সবাই পদোন্নতি পেতে চান, কিন্তু দায়িত্ব নিতে চান না বলে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান। কমিশন ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দিয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন সমন্বিতভাবে কাজ করার সময়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত কাজের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।’

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন না করার ব্যর্থতার জন্য কেউ কেউ হাজার হাজার অজুহাত দেখান। আবার এই প্রতিষ্ঠানেরই অনেক মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নির্ধারিত সময়েই মানসম্পন্ন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। যারা ব্যর্থ হচ্ছেন নিজেদের মূল্যায়ন করুন।’

পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নিজেই নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়। নিজে থেকে পরিবর্তন করতে না পারলে অন্য কেউ করতে পারবে না।

যারা ঘুষ খায় তারা যেমন অসৎ তেমনি দায়িত্ব পালনেও উদাসীন বলে মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান। ‘পদ্ধতিগত কারণেই এ দেশে ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যাদের মান-সম্মানের ভয় নেই তথা কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের পক্ষে ঘুষ খাওয়া সহজ। এই লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। দুদক কর্মকর্তাদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।’

পদ্ধতিগত সংস্কারের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে ২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম ও সময় ব্যয় করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ঘুষ-দুর্নীতির ফাঁক-ফোকর বন্ধ করা।’

দুদকে অনেক ভালো কর্মকর্তা রয়েছেন। যারা সুনিপুণভাবে নির্মোহ থেকে মামলার তদন্ত করেন তাদের বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষই শ্রদ্ধা করে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দুদক চেয়ার‌্যশান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুদকরে মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। কমিশনের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com