পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মানবতার কল্যাণ সাধনের জন্যই নবী ও সাহাবায়ে কেরামগণ জিহাদ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, জিহাদ মানুষের কল্যাণের জন্য। কাজেই অন্তত মুসলিম সমাজে কুরআন-হাদিসভিত্তিক ‘জিহাদ’ সম্পর্কে কারুর মধ্যে বিভ্রান্তি থাকবার কথা নয়।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
জিহাদের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বলেন, আমি একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ৭০ টি দেশের রাষ্ট্রপতির সামনে একথা বলেছি, ডাক্তারের ছুরি আর ডাকাতের ছুরির মধ্যে যেমন আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, তেমনি জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের মধ্যেও আছে। জিহাদের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই। নবী ও সাহাবীদের জিহাদ কল্যাণের জিহাদ ছিল। আমি তাদের অনুকরণ কল্যাণের জিহাদ শুরু করেছি। মানুষের কল্যাণের জন্য খুলনা, নোয়াখালীতে সফর করেছি। ইনশাআল্লাহ এই রোববার ময়মনসিংহ সফর করবো।
আল্লামা মাসঊদ সন্তানের প্রতি পিতামাতার হক্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে বলেন, সন্তানের উচিৎ পিতা-মাতার মর্জির প্রতি লক্ষ্য রেখে চলা। পিতা-মাতার মর্জির খেলাফ করা কখনো উচিৎ নয়। পিতা-মাতার হুকুম মানা ফরজ। তাদের আদবের প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে।
সমাজে মিথ্যার সয়লাব বেড়ে গেছে জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রাজনীতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবার এমনকি মাদরাসা মসজিদ সর্বত্র এখন মিথ্যার ছড়াছড়ি। মিথ্যার ব্যাপকতরতা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঢেলে দিচ্ছে। রাসূল সা. মিথ্যা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে তিনবার সতর্ক করেছেন। এক গ্রাম্য সাহাবী রাসূল সা.-এর এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। রাসূল সা. তাকে শুধু বললেন, মিথ্যা ছেড়ে দাও।
আল্লামা মাসঊদ জুমার বয়ানের শুরুতে আশুরার ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ উল্লেখ করে বলেন, নবী-রাসূল, বুযুর্গদের কোন ঘটনা হাসি, কান্না বা মজা নেওয়ার জন্য নয়, বরং শিক্ষা গ্রহণের জন্য। আশুরার সমস্ত ঘটনা স্বরণ করে আমাদের আমালকে সহীহ করতে হবে।
এছাড়াও তিনি নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কেরামের জীবনী পাঠ করে তাদের মত জীবন পরিচালনা করার জন্য আহ্বান জানান।
গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী


