পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অাদালতে নালিশ করেছে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন। হোয়াইট হাউজে নিজের সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে এ নালিশ করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এ গণমাধ্য চ্যানেলটি। অভিযোগে চ্যানেলটি বলেছে,সিএনএনের সাংবাদিককে আবার যাতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হয় সেজন্য আদালত যেন ব্যবস্থা নেয়। এবং নির্বিঘ্নে যেন সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে পারে।
এর আগে গত বুধবার ঘটনার সূত্রপাত ঘটে হোয়াইট হাউজের এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করে সিএনএনের সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টা। অ্যাকোস্টাের সে প্রশ্ন মনোপুত হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ক্ষুব্দ হয়ে তিনি চরমভাবে অপমানিত করেন সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টাকে। শুধু তাই নয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে বের করে দেন এবং হোয়াইট হাউজে তার প্রবেশাধিকার কেড়ে নেন। হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের অপছন্দনীয় প্রশ্ন করে তার বিরাগভাজন হন জিম অ্যাকোস্টা
ওই সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকোস্টা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সে বিষয়ের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ সময় অ্যাকোস্টার কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের কর্মীদের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় গণমাধ্যমের বাক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও আদালতকে জানিয়েছে সিএনএন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার প্রশাসনের সমালোচনা করার দায়ে গণমাধ্যমকে আমেরিকার শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মূলত তার একগুঁয়েমি নীতির বিরোধী যেকাউকে আমেরিকার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেন। ট্রাম্পের অনর্গল মিথ্যা বক্তব্যের স্বরূপ উন্মোচন করে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেই সে খবরকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্পের এমন আচরণ আচরণ সম্পর্কে অবশ্য সবাই পরিচিত। তার নিজস্ব একগুঁয়েমি নীতির বিরোধী হলেই আমেরিকার শত্রু বলা একটা অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছেন ট্রাম্প। সবশেষে সাংবাদিককে সত্য প্রশ্ন করায় তার এমন আচরণ আবারো সমালোচনার শিকার করল ট্রাম্পকে।
সিএনএনের করা এ অভিযোগ অবশ্যই একটু হলে ভেবে দেখবেন আমেরিকার আদালত। কারণ, সারা বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী, প্রধান সংবাদ মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত সিএনএন। সিএনএনের এই সংবাদকে বিশ্বের সব পত্রিকাগুলোই প্রচার করছে ফলাও করে।


