তাবলিগের দুই পক্ষকে একত্র করা কী সম্ভব?
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: তাবলীগের দুই পক্ষকে একত্র করার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আসলে কি সম্ভব? তিনি বলেছেন, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে একত্রে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে আগামীতে একত্রে ইজতেমা আয়োজন করা যায়। ইজতেমা বিশ্বের কাছে একটি পবিত্র বিষয়। ইসলামের মৌলিক বিষয়ে কোনো পার্থক্য নেই। তাবলিগের প্রতি সকলের শ্রদ্ধা আছে। তাবলিগ নিয়ে কারও ছোটখাট ভুলত্রুটি যদি থাকে তা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
৯ জানুয়ারি বিকালে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের সেবায় স্থাপিত হামদর্দ ওয়াকফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে এমন কথাই অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
কিন্তু অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর এ কথা কতটুকু কার্যকর করা সম্ভব? যেভাবে দু্ই পক্ষ আলাদা আলাদা নিজেদের মিশনকে তৈরী করে নিয়েছেন তা কি আবারও এক পাত্রে একত্র করা যাবে? এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক আলেমও।
টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে আলমী ইজতেমায় আগত অনেক সাধারণ মুসল্লিও দুই পক্ষকে একত্র করার জন্য দুআ করেছেন। আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাবলীগে যেনো কোনো গ্রুপিং না থাকে। তারা বলেছেন, আমরা তাবলীগে কোনো গ্রুপিং চাই না। সবাইকে একই সঙ্গে কাজে যুক্ত দেখতে চাই।
এর আগে মন্ত্রী ফিতা কেটে হামদর্দ ওয়াকফ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে হামদর্দ ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি কাজী গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, হামদর্দের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, তাবলীগের এই দ্বন্দ্বে আমাদের একটা মাত্র জবাব। আমরা এই বিভক্তিতে সন্তুষ্ট নই। আমরা আছি দারুল উলূম দেওবন্দের সাথে। এর থেকে বেশি কিছু বলব না। এর থেকে বেশি কিছু বললেই বিপদে পড়বে। মাওলানা সাদ-এর সবচেয়ে বড় মসিবত-বিপদ হলো তিনি ছয় নাম্বারের বাইরে কথা বলতে গিয়েছিলেন। আর এই জন্যেই ভুল করেছেন। বেচারার মুলত আল্লাহ, রাসূলগণ নিয়ে খারাপ কোন আকীদা নেই, বেচারা মসিবতে পড়েছেন হেকমত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে। আমি নিজে একদিন মাওলানা সাদকে বলেছিলাম, আপনি হেকমত বাদ দিয়ে সোজা কথা বলবেন, তাহলে মসিবতে পড়বেন না।


