‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ সাজানো বাগান কতদূর?

‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ সাজানো বাগান কতদূর?

স্বপ্নসিঁড়ি । পরীক্ষিৎ চৌধূরী

‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ সাজানো বাগান কতদূর?

‘পৃথিবীকে যেমন পেয়েছো, তার চেয়ে একটু শ্রেষ্ঠতর রেখে যেতে চেষ্টা করো’—ব্যাডেন পাওয়েল। ৩০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫ টা। হঠাৎ ঝাড়ু ও বস্তা হাতে নিয়ে দিনাজপুর রেলস্টেশন চত্বরে উপস্থিত একঝাঁক শিক্ষার্থী। কয়েক ঘন্টা ধরে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বর পরিষ্কার-পরিছন্ন করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ডেঙ্গুজ্বরসহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দিনাজপুরে মানুষের নজর কাড়ে।

সকালে কক্সবাজারের রামুর প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী স্টেশনে এসে রামু ক্যান্টনম্যান্ট. ইংলিশ স্কুলের চারশ ক্ষুদে শিক্ষার্থী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় এবং বেশ কিছু ছোট ছোট ডাস্টবিন স্থাপন করে। এসময় রামু শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে যত্রতত্র ময়লা আবজর্না না ফেলে নিদিষ্ট স্থানে ফেলার আহবান জানিয়েছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

২ জানুয়ারি। ‘দায়িত্ব বোধে প্রমাণ রাখি’-এ স্লোগান নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়ার বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত স্কুলের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী দনিয়া এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়। তারা রাস্তার উপরে থাকা ময়লা আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করে।

৩০ আগস্ট। সকাল সাড়ে ১১টা। মাঠ জুড়ে সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজশাহী সিটি মেয়র শপথ বাক্য পাঠ শুরু করলেন। এরই সঙ্গে একসাথে হাজারো শিক্ষার্থী বলো উঠলো, ‘আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখবো এবং দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতাও শৃঙ্খলা বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে, নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখিবো। আমাদের আশেপাশে কেউ যেনো, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে, সে বিষয়ে সচেতন করিবো।’
এভাবেই যেন সারা দেশের শিশু-কিশোররা পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যে বুড়োদের জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে। তারা পরিষ্কার আকাশ দেখতে চায়। অন্ধকার নেমে আসলে রাতের আকাশের অগণিত তারা যেন সহজেই দেখতে পায, খোলা মাঠে বুকভরা অক্সিজেন নিয়ে তারা যেন ছুটোছুটি করতে পারে সেই পরিবেশ তারা চায়।
অথচ দেশের বাতাসে ধুলো আর দূষিত কণার মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে বলেই ২০১৮ সালে নিউমোনিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১২ হাজার। এ বছরের ১৩ নভেম্বর ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ আজ এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। আমাদের সব অর্জন, সব গৌরব বৃথা হয়ে যাবে যদি আমরা অপরিচ্ছন্নতার আবর্জনা থেকে আমাদের চারপশ মুক্ত করতে না পারি।

আমরা গর্ব করি যে, দেশের মাথাপিছু আয় ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ৭০৩ মাকির্ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার টাকা। সরকারের নিরলস ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বিগত এক দশকে সাক্ষরতার হার ২৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

এটা ধ্রুব সত্য যে, গত ১০ বছরে অগ্রগতির নানান সূচক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্য অনেক দেশের জন্য রোল মডেল। এ কথা জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রধান থেকে শুরু করে অধিকাংশ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হচ্ছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার পাশাপাশি সাক্ষরতার হারও বাড়ছে। আসলে কতোটা এগোচ্ছে বাংলাদেশ? আমাদের এই অর্জনের পরও আমরা সদর্পে কেন ঘোষণা করতে পারিনা একটি বাসযোগ্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ?

২০১৬ সাল। ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু মানুষজন সেগুলো ব্যবহার করছে না। ডাস্টবিনের জায়গায় ডাস্টবিন পড়ে রয়েছে, জনগণ ময়লা ফেলছে তার চারপাশে। মানুষের এই অবহেলা, অসচেতনতা আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক দৃশ্য।

ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভবিষ্যতবাণী হলো আগামী পাঁচ বছরে তাদের ৬ মিলিয়ন টন আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। গত এক বছরে তারা আগের বছরের থেকে ২৪ শতাংশ বেশি ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন।

বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে খাবার খেয়ে তার উচ্ছিষ্ট কিংবা ব্যবহার শেষে সঙ্গে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাস্তাতেই ফেলছেন মানুষ, আমরা এই দৃশ্যে অভ্যস্ত। দোকানের সঙ্গেই ময়লার ঝুড়ি রাখা আছে। কিন্তু মানুষ ময়লা ফেলেছে রাস্তায়। রাস্তার পাশে ওয়েস্ট বিন থাকলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না। অথচ বিনের পাশেই ময়লার স্তুপ। কোথাও কোথাও বিনটিও চুরি হয়ে গেছে। পুরো এলাকাটাই একরকমের ডাস্টবিনের মতো হয়ে থাকে। তবে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন করার এই দায় কেউ নিচ্ছে না।

শুধু রাস্তাঘাট নয়। নাগরিক অসচেতনতার অভাবে আজ গোটা দেশের পথ-ঘাট, পাশের নর্দমা, খাল, বিল, নদী, মাঠ, বাতাস, পানি, চাষের জমি—গোটা পরিবেশ অসহসীয় দূষণের শিকার হচ্ছে। মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট, শিল্প বর্জ্য, মেডিক্যাল বর্জ্য, প্রাণিজ এবং অন্যান্য বর্জ্যসহ বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছি আমরা। যার প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। বেড়ে গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ আজ নিয়মিত ঘটনা। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর জটিল ও কঠিন রোগ দেখা দিচ্ছে। পরিবেশের ওপর জলবায়ুর প্রভাবের কারণে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগসহ নানা জটিল ও অপরিচিত রোগ হয়ে থাকে। অপরিচ্ছন্নতার এই অপরিণামদর্শিতার করুণ শিকারের অধিকাংশ শিশুরা।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশে প্রতিবছর যত মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত অসুখ-বিসুখে। সারাবিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশ।

গত এক যুগে দূষণ ও পরিবেশের বিচারে বাংলাদেশ পিছিয়েছে। পরিবেশের বিপর্যয় মানে জীবনের বিপর্যয়। এই বিপর্যয় আমাদেরই সৃষ্টি। একে রোধ না করতে পারলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়বে। এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু শুধু সরকারের পদক্ষেপে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষায় মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে পরিবেশ বিপর্যের হাত থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে। জনগণের মাঝে সচেতনতাবোধ জাগানোর জন্য প্রয়োজন প্রণোদনা। নগর হোক অথবা গ্রাম হোক সবার মধ্যেই যেন তার চারপাশের প্রতি ভালবাসা, নাগরিক দায়বোধ উবে গেছে। পরিচ্ছন্নতার জন্য জনসচেতনতা গড়ে তুলে নাগরিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টিতে যে ধরনের সামগ্রিক উদ্যোগ দরকার তার ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রণোদনা যেমন দরকার, পাশাপাশি দরকার কঠোর আইন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ।

আজ স্কুলে কলেজে শিশু-কিশোরদের মাঝে পরিচ্ছন্নতার জন্য যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে তাকে ধরে রাখতে হবে। এই উৎসাহ স্কুল থেকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। বাড়ির বয়স্কদেরকেও তা যেন স্পর্শ করতে পারে। তাঁরাও যেন তাঁদের কাজের ক্ষেত্র, চলার পথকে পরিচ্ছন্ন রাখার প্রেরণা পায় নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে।

সরকার পরিচ্ছন্নতা কার্য়ক্রমকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী কিছু র্কমসূচি প্রণয়ন করেছে । সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ সম্পর্কিত এক ধারণাপত্রকে ভিত্তি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ ব্যাপক কর্মষূচী গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালের মুজিববর্ষকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ বাস্তবায়নে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ এর ধারণাকে সর্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ ।

এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রথমে ছোট এলাকায় কাজ শুরু করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিদ্যমান পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করে তিন ধাপে, শ্রেণি কক্ষ থেকে স্কুল প্রাঙ্গণ, স্কুল থেকে বাড়ি, এবং স্কুল থেকে বাড়ি হয়ে অভিভাবকের কর্মস্থল পর্যন্ত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্ষ্টিদের বলা হয়েছে। সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং শ্রেণি-পেশার সকল বয়সের মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বোচ্চ ৩-৪ মাস সময়ে সমুদয় এলাকা প্রাথমিকভাবে পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে্। সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের স্থায়ীরূপ দেয়ার লক্ষ্যে সপ্তাহে একদিন তিন ঘণ্টাব্যাপী সারা দেশের সর্বত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সৌন্দর্য বর্ধন কাজ পরিচালনার জন্য ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়। সকল পর্যায়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্য বর্ধন উৎসাহিত করাসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বায়োটেকনোলজি ও ন্যানো টেকনোলজিসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সর্ম্পকিত গবেষণা কার্যক্রম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ নিতে ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন বিষয়ে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়ন এবং তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতেও পরামর্শ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ধারণাপত্রে পলিথিন, প্লাস্টিক ও যে সকল দ্রব্য পরিবেশ দূষণ করে সেগুলো উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিষয়ে এমন পদ্ধতি প্রবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে যা পরিবেশ দূষণ রোধে সহায়ক হবে।

দেশের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে বিদ্যমান সম্পদ ও সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অবিলম্বে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কার্যক্রমের আওতায় গ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাঁচটি সেরা পরিচ্ছন্ন পরিবার বা বাড়িকে স্বীকৃতি প্রদান করবে সরকার। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতি পনেরো দিন পর পর মূল্যায়ন কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ছয়মাসব্যাপী এই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে চলমান এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক বছর পর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মডেল গ্রাম নির্বাচন করে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে প্রতি মাসে সেরা প্রতিষ্ঠান বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শহরেও প্রতি মাসে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার বাছাই করে স্বীকৃতি দিবে সরকার। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক বছর পর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড নির্বাচন করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগে সকলকে সামিল হতে হবে। বয়স, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে অনুধাবন করতে হবে এই দেশ আমাদের সকলের। একে কলুষিত বা দূষিত করার কোন অধিকার আমাদের নেই। ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ উদ্যোগে সরকারকে সহায়তা দিতে সকল ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থাসহ প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে সর্বান্তকরণে।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *