৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

‘পাকিস্তানের কাছে আফগান যুদ্ধ বন্ধের চাবি’

‘পাকিস্তানের কাছে আফগান যুদ্ধ বন্ধের চাবি’

পাথেয়ে টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুদ্ধ আফগানিস্তানে, চাবি পাকিস্তানে এমনই এক তথ্য দিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তিনি বলেছেন, তালেবান জঙ্গিদের জন্য ইসলামাবাদ, কোয়েটা ও রাওয়ালপিন্ডিতে অভয়ারণ্য তৈরি করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

কাজেই আফগান যুদ্ধ বন্ধের ‘চাবি’ ওই তিন শহরে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দেশের জঙ্গিদের জন্য পাকিস্তানের তিনটি শহর উন্মুক্ত করে দেয়ার দায়ে ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করেছেন।

তিনি রাজধানী কাবুলে এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন, আফগান সরকারের পাশাপাশি আমেরিকা বহুদিন ধরে তালেবান কমান্ডারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে এসেছে। ওয়াশিংটন ও কাবুল বলছে, আফগান সীমান্তের ওপারে তালেবান জঙ্গিদের অবাধ চলাফেরা ও তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

গত বছরের আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি অভিযোগ করেছিলেন, সে সময় আফগানিস্তানের গজনি শহর দখল করতে গিয়ে আহত শত শত তালেবান জঙ্গিকে পাকিস্তানের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

২০০১ সালে ইঙ্গো-মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন ঘটায়। এরপর থেকে গত ১৭ বছরে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেও তালেবান জঙ্গিদের নির্মূল করতে পারেনি আমেরিকা। মার্কিন সরকার সম্প্রতি তালেবান কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছে।

তালেবানরা আমেরিকার সঙ্গে সংলাপে বসলেও আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না। তারা বলছে, মার্কিন দখলদারিত্বে থাকা আফগানিস্তানে ক্রীড়নক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে যার পক্ষে স্বাধীনভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। এ কারণে তারা সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।

এর আগে অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় আফগানিস্তানের এই তালিবানের সঙ্গে মহরমদহরম কম ছিলো না যুক্তরাষ্ট্রের। তখন সোভেয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা পেয়েছে তালেবান। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লিপনা বাস্তবতা হিসেবে দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে তালেবানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ দেখা দেয় কর্তৃত্ব নিয়ে। আফগানরা নিজেদের মাটিকে বিদেশি মুক্ত করতে শুরু আন্দোলন, সংগ্রাম ও যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের দাবানল কোনো দিন থামেনি। সর্বশেষ এক আলোচনায় দেখা দিয়েছে আলোর আশা। সেটাও দুই পক্ষের কেউই মিডিয়ায় তেমন কিছুই বলেননি। তবু উঠে এসেছে শান্তি আলোচনার কথা।

টানা ছয় দিন আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ।

কাতারের রাজধানী দোহায় এ বৈঠক শেষে তালেবান কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র দাবি করেছে, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদেশি সৈন্যরা আফগানিস্তানের মাটি ছেড়ে যাবে—এমন একটি শর্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানতে রাজি হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com