পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বর্তমান সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফেকিতামোইলোয়া কাটোয়া উতোইকামানু বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় মালিকানা, নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে।
থানীয় সময় শুক্রবার ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন ফেকিতামোইলোয়া কাটোয়া উতোইকামানু।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে সফলতার স্বাক্ষরবহনকারী উল্লেখযোগ্য একটি দেশ হিসেবে স্বীকৃত।
ইউএনডিপির হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের পরিচালক ড. সেলিম জাহান এবং নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনুস্যলেট যৌথভাবে বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলার আয়োজন করে। মেলায় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিক্রমা। উন্নয়ন মেলায় প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং নিকটতম প্রতিবেশী উল্লেখ করে নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত সবসময়ই পাশে আছে। বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, গোটা বিশ্বেই উন্নয়নের উজ্জ্বল উদাহরণ আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বে।
উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলাদেশ আজকের উত্থান যেন কল্পকথাকেও হার মানায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন গাঁথা আজ উন্নয়নশীল বিশ্বে শ্রেষ্ঠ একটি সফলতার কাহিনী। বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য নেতৃত্বে, যিনি বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘অদম্য বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিক্রমা’ শীর্ষক দুটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ‘নৃতাঞ্জলি’ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে একটি বিশেষ নৃত্য এবং ‘জয়বাংলা বাংলার জয়’ ও ‘তাকধুম তাকধুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল’ সঙ্গীত দুটির সুরে আরও দুটি নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করে। এছাড়া প্রবাসী শিল্পী এসএএম মুক্তাদিরের আবৃত্তি এবং বাংলাদেশের উপর শ্রীচিন্ময় গ্রুপের সঙ্গীত পরিবেশনা উন্নয়ন মেলায় আগত দর্শকদের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলে।
উন্নয়ন মেলার গোটা ভ্যেনুকে সুসজ্জিত করা হয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের অর্জিত সাফল্যের তথ্য ও তথ্যচিত্র সম্বলিত প্রচারণা সামগ্রী ও পোস্টার দিয়ে।


