প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে

প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে

বিএনপির ভিশন ২০৩০ তুলে ধরেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ● প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা, দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে। বুধবার বিকালে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেÑ তার রূপকল্প ভিশন ২০৩০ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। বিকাল সাড়ে ৪টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২৫ মিনিট দেরিতে। বেশ কিছু কর্মীকে এ সময় হুড়োহুড়ি করে বলরুমে ঢুকতে দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন শ্রেয় এই ধারণা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করার অঙ্গীকারের কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে গণভোট ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন করবে এবং জাতীয় সংসদকে সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জাতীয় সংসদে উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। বিএনপি জণগণের হাতেই রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায়। আমরা ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল ভোট দেয়ার দিনে আবদ্ধ রাখতে চাই না।

খালেদা প্রতিশ্রুতি দেন, তার দল রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও কারা ব্যবস্থানায় সংস্কার আনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করা হবে ন্যায়পালের পদ। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নে যখন আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন ক্ষমতাসীনদের দেয়া হচ্ছে দায়মুক্তি। বিএনপির সময়েই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল বলে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করে এলেও খালেদা জিয়া দাবি করেন, তার দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বিশ্বে স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তার দল ক্ষমতা গেলে ওই ধরনের কোনো কর্মকা- বরদাশত করবে না এবং জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ধর্মের শিক্ষার প্রচার এবং শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনাকে সুসংহত করার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস দমনের একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করবে বিএনপি। খালেদা জিয়া বলেন, দায়িত্বপালনের সুযোগ পেলে তার দল সালিশী আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবে। সুপ্রিমকোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় করবে। বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল কালা কানুন বাতিল করবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের অবসান ঘটাবে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জোটের শরিকরাও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর দুই দফায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়েও সাফল্য পায়নি খালেদার দল। দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি এখন সংসদের বাইরে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের দায় সরকারকে দিলেও বিভিন্ন সময়ে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেছে জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথায়। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে প্রথম এই ভিশন ২০৩০-এর রূপরেখা দেন ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করা খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে এর পূর্ণাঙ্গ চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে বলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *