ফয়জুল্লাহ আমান— এর প্রেমের বার্তা

ফয়জুল্লাহ আমান— এর প্রেমের বার্তা

ফয়জুল্লাহ আমান— এর প্রেমের বার্তা

 

কল্পতরুমূলে বসে থাকি স্বপ্নাবিষ্ট

হে মানুষ

বিলুপ্ত সভ্যতার কল্পিত ছায়া

দিগন্তরে সুরসুন্দর মুক্তি

এখনও পড়ে আছে উচ্ছিষ্ট প্রেমের কণা

এখনও আছে ঊষা, চির প্রত্যাশার সোনালী প্রভাত

 

মাঠে মাঠে ওড়ে ধূলা

পর্বতগাত্রে ঝাড় জংলা

প্রদীপ্ত এক আহ্বান যেন আসে গায়েব থেকে

এতো আমারই মনের কথা

বহুকাল অভ্যন্তরে লুকানো মুক্তির পয়গাম

 

পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি প্রেমের কথা

হে দয়ালু মানুষ

মমতায় ঘেরা আদিম প্রকৃতি

সৌহার্দ্যের বার্তা আমার বুকে জাগায় শিহরণ

বিদ্বেষে পূর্ণ অন্তরে আমি পেতে চাই একটু মূল্য

 

শীতের শিশিরের মতো ভালবাসা

ধীরে অতি ধীরে আচ্ছন্ন করে মনন

পৃথিবীকে আচ্ছাদিত করে এক নতুন প্রেম

তোমার আমার মাঝের পাথরগুলো হয়ে যাক ফাল্গুনের ফুল

উত্তরমেরুর বরফ গলে আসুক ঈপ্সিত শুভতার বন্যা

 

অতীন্দ্রিয় দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত সত্য

এ এক অন্য রকম নিঃশব্দ বিপ্লব

হে বসন্ত

বাঙলার চির যৌবনা মাটির প্রতিভূ

আমি এবার আকাশকে নিমন্ত্রণ করতে পারি বাঙালির প্রাণে সাড়ম্বর আয়োজনে।

 

প্রেম পূর্ণতার অনুদ্ঘাটিত রহস্য

একটি প্রেমের পূর্ণতা পেতে লেগে যায় দীর্ঘ জীবন

তবু প্রথম দেখার মুহূর্তেই সুপ্ত রয় পূর্ণতার মূলমন্ত্র

খুব আগ্রহ নিয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা

ভাবনার জগতে মহা তন্ময়তায় হারিয়ে যাওয়া

অকারণ অশ্রুতে ভেসে যাওয়া

বুকের কম্পন অনুভব করা —এমন বহু লক্ষণ এক সাথে প্রকাশ পেতে থাকে

ঘোর লাগা দৃষ্টিপাতে থাকে না কোন অপবিত্রতার ছোঁয়া

এক সময় পুরনো হয়ে যায় সেই ভাল লাগা

পাপড়ির মতো শুকিয়ে যায় অনুভবের বিন্দুগুলি

প্রথম দৃষ্টি বিনিময়ের স্মৃতি কখনও সোনালী অতীতে নিয়ে যায় প্রেমময় আহ্বানে

কখনও শূন্য পথে হাঁটতে হয় পা গুণে গুণে ধীরে আরও ধীরে

বৃষ্টির ফোঁটার মতো হৃদস্পন্দন হতে থাকে শুরু থেকে শেষ অবধি

ধ্রুপদি সংগীতের সুর বেজে চলে মস্তিষ্কের সেইলে

এসবই প্রতিটি প্রেমের বাস্তব বিবরণ

এখানে অশরীরি অধ্যাত্মের কোন পথ রয়েছে কী?

তা আছে বৈ কী?

প্রেমের সব উপাখ্যানই বিমূর্ত অনুভবের মতো অধরা

শব্দের পর শব্দ গেথে একটি দীর্ঘ মাল্য তৈরী সম্ভব

প্রেমের স্বরূপ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে অনুদ্ঘাটিত রয়ে গেল

প্রেমের রহস্য প্রেমিকের বুকের ভেতর নীরবে মনে হয় কাটিয়ে যাবে আরও অনন্ত সময়

অতল তলে যেয়েও কোন কূল কিনারা যায় না পাওয়া

এভাবে ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থেকে কোনই লাভ আমি দেখি না তো!

রহস্যের পিছনে না থেকে চলো সেই প্রথম দৃষ্টিতে পড়ে থাকি পড়ন্ত বিকেলে কৃষ্ণচূড়ার তলে

এই শুরুটাই পৌঁছে দিক সমাপ্তির পূর্ণতায়

অথবা অতৃপ্ত আত্মায় বেদনা বাজুক কাল কালান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *