পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের বিজেপি প্রার্থী সাধবি বিতর্কিত একজন প্রার্থী। নয় বছর জেল খেটে ও তার উগ্রবাদি চিন্তা কাটেনি। করকরে সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের পর এবার বাবরি মসজিদ সম্পর্কে ন্যাক্কারজনক মন্তব্য করলেন বিজেপি প্রার্থী সাধবি প্রজ্ঞা ঠাকুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থন পেয়ে তিনি একেবারে বেপরোয়া ভাবে মন্তব্য করে যাচ্ছেন একের পর এক। জামিনের আবেদনে শারীরিকভাবে অসুস্থ বলা হলেও চাঙ্গা সাধবি গেরুয়া শিবির কে চাঙ্গা করতে বলেন ‘বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে বেশ করেছি ওই ঘটনার জন্য আমি গর্বিত’।
এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভোটের আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার গোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধবি কে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন। সাধবি বুঝে নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি তার পাশে রয়েছেন। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ আমল দিতে রাজি নন তিনি তাই জেনে শুনে এমন কাজ করেছেন বলে ধারনা বিশ্লেষকদের।
এর আগে সাধবির দল বিজেপির এক মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ ভারতের সেনাকে ‘মুদির সেনা’ বলে উল্ল্যেখ করেছেন। এবার হয়তো সাধবি মতো নেতারা-নেত্রীরা ভারতের নির্বাচন কমিশনকে মোদির কমিশন বলে বসবেন, আর তা করলেও নোটিশ দেওয়া ছাড়া কমিশন কিছুই করতে পারবে না তা বুঝে গিয়েছেন সদ্য টিকেট পাওয়া এই নেতা-নেত্রীরাও।
টিভি নাইন কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাধবি বলেন, ‘বিরানব্বই সালের ৬ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার কাজে আরো অনেকের সঙ্গে আমিও শামিল ছিলাম তার জন্য আমি গর্ববোধ করি কারণ ওই মসজিদ আমার দেশের জন্য একটি কলংক ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এটাকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য কাঠামোর উঠেছিলাম আমি গর্বিত যে ঈশ্বর আমাকে সে সুযোগ ও শক্তি দিয়েছেন এবং আমি তা করতে পেরেছি, আমার দেশ থেকে একটা কলঙ্ক মুছে দিয়েছি এখন আমরা সেখানে রাম মন্দির নির্মাণ করব। কারন রামই রাষ্ট্র রাষ্ট্রই রাম।’
এমন বিতর্কিত ভাষণকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি, তা না হলে করকরেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে রেশ কাটতে না কাটতেই কেন বাবরি নিয়ে আবারো বিতর্কিত মন্তব্য করলেন সাধবি ? এ প্রশ্ন দেশে সাধারণ জঙনের।
মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ডে নয় বছর জেল খাটা সাধবিকে ভোপালে প্রার্থী করে। বছরের প্রথম দিনে জাতীয় বীর শহীদ হেমন্ত করকে তিনি দেশদ্রোহী বলে কটাক্ষ করেন, অবশ্য মোদি তা নিয়ে একটি মন্তব্য করেননি উল্টো পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘কংগ্রেস হিন্দুদের জঙ্গী বলেছে সে কারণেই সাধবিকে প্রার্থী করা হয়েছে’। উল্লেখ্য সাধবি এখনো মুক্তি পাননি তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন মাত্র।
গ্রন্থনা : জাওয়াদুল কারিম


