পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজান মাসের পরপরই সন্ত্রাসবাদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিশিষ্ট তিন সুন্নি আলেমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
মৃত্যুদণ্ড পবিত্র রমজান মাসের পর শিগগিরই কার্যকর করবে দেশটি। সরকারি দুটি সূত্র ও আটক এক আলেমের পরিবারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলেমরা হলেন- শায়েখ সালমান আল-আওদাহ, লেখক আওয়াদ আল-কারনি এবং প্রচারক আলী আল-ওমারি। এদের মধ্যে শায়েখ সালমান আল-আওদাহ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তিনি শরিয়া এবং সমান নীতির বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত একজন পণ্ডিত।
২০১৭ সালে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিরোধ নিয়ে টুইট করেন শায়েখ সালমান আল-আওদাহ। টুইটারে তিনি একটি রিপোর্ট শেয়ার করে তার পক্ষে কথা বলেন। রিপোর্টটি ছিল-কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর বিরোধ মিটে যেতে পারে এ সংক্রান্ত। এরপর এ ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের আওয়াদ আল-কারনি এবং জনপ্রিয় প্রচারক আলী আল-ওমারিকে গ্রেফতার করা হয় সৌদি কতৃপক্ষ।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশিষ্ট এ তিন আলেম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই রমজানের পরেই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চায় সরকার।
এই মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
শায়েখ সালমান আল-আওদাহর ছেলে আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি সেখানে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। গত ফেব্রুয়ারি তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে ‘মৃত্যুদণ্ডের সামনে আমার পিতা; সৌদিতে এটাই ইনসাফ’ শিরোনাম একটি প্রবন্ধ লিখেন।
আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ বলেন, ‘যে কণ্ঠ ইনসাফের ভিত্তিতে হক ও সত্য কথা বলে সৌদি সরকার সে কণ্ঠকে রুদ্ধ করে দেয়।’
তিনি আরো লেখেন, ‘তার বাবাকে আটক করার অনেকগুলো কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, সরকারপক্ষ যেভাবে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে-তিনি সবসময় এর সমালোচনা করতেন। জনগণকে সত্যের পক্ষ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করতেন।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২৩ এপ্রিল সৌদি আরবে একদিনেই ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়। আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে তাঁদের শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে ২ জনের মৃতদেহ ক্রেন দিয়ে প্রকাশ্যে ঝুলিয়েও রাখা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ওই ৩৭ জনের মধ্যে দুইজনকে শিরশ্ছেদের পর ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে।
চলতি বছরেই দেশটিতে কমপক্ষে ১০০ জনের শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত বছর অন্তত ১৪৯ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।


