১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ব্যাংকের সঞ্চিতির ওপর কর প্রত্যাহার করা উচিৎ

ব্যাংকের সঞ্চিতির ওপর কর প্রত্যাহার করা উচিৎ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ব্যাংকের সংকট দূরীভূত করা একান্ত জরুরি। আমরা জানি, ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের একটা বড় অংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এসব ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলো সংকটে রয়েছে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছরই খেলাপি ঋণের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়। সঞ্চিতি সংরক্ষণকে মুনাফা হিসেবে উল্লেখ করে তা থেকে করপোরেট কর কেটে রাখে এনবিআর। এসব অর্থ পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের মুনাফা হিসেবে যোগ হলে তখন আবার কর দিতে হয়।

ফলে একই অর্থে একাধিকবার কর পরিশোধ করতে হয়। সঞ্চিতি সংরক্ষণ থেকে কর কেটে নিলে তা ব্যাংকগুলোর জন্য অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়। যদিও এনবিআর বলছে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো যে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে তা তাদের মুনাফার অংশ। ফলে এ অর্থ থেকে করপোরেট কর কেটে রাখা যৌক্তিক। তবে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও ব্যাংকের ওপর চাপের কথা মাথায় রেখে এটি বিবেচনা করে দেখা হবে। এক্ষেত্রে বিশ্বের সমসাময়িক দেশগুলো কী ধরনের নীতি অনুসরণ করে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অবস্থা বিবেচনায় সরকার সংশ্লিষ্ট খাতের করপোরেট কর কমিয়ে এনেছে। ব্যাংকাররা এবার দাবি করছেন সঞ্চিতির ওপর সুদ প্রত্যাহারের। একই অর্থের ওপর দুবার কর দেয়া হলে সেটি দ্বৈত করের আওতায় পড়ে বৈকি। সেক্ষেত্রে কর প্রত্যাহার করা যেতেই পারে। কিন্তু খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে ব্যাংকের মুনাফায় টান পড়েছে এবং সেটি থেকে পরিত্রাণে কর ছাড় দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হয়েছে ব্যাংকের অদূরদর্শিতার কারণে।

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা গেলে সঞ্চিতিও কমে আসবে, তখন করও দিতে হবে না বেশি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, সঞ্চিতির ওপর কর প্রত্যাহারে ব্যাংকাররা যতটা তৎপর, ঠিক ততটাই উদাসীন খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনায়। এমন মানসিকতা পরিহার জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চিতির ওপর থেকে কর প্রত্যাহার কতটা যৌক্তিক এবং সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য ইতিবাচক, সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে। দ্বৈত কর পরিহারে সঞ্চিতির ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা যোক্তিক বলেই বিবেচিত হবে।

সঞ্চিতি থেকে ব্যাংকের কোনো আয়ও আসে না। তাছাড়া খেলাপির বিপরীতে অর্থ রাখতে গিয়ে ব্যাংকগুলো চাপে পড়ছে। সঞ্চিতির বিপরীতে কর দিতে গিয়ে সেই চাপ আরো বাড়ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বর্তমানে তারল্য সংকট বিরাজমান। এক্ষেত্রে এনবিআর রিবেট প্রদান বা সঞ্চিতির ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের বিষয়টি সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com