ভারত ভাগ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উন্মেষ

ভারত ভাগ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উন্মেষ

ভারত ভাগ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উন্মেষ
চৌধুরী আতিকুর রহমান

আমি যে টুকু পড়েছি বা জেনেছি তা থেকে মনে হয়েছে ভারতভাগ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলির যেমন কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ কোনপক্ষই চাননি। নেপথ্যে কোন এক শক্তি স্বাধীনতার প্রাক্কালে সক্রিয় হয় এবং তারাই নেপথ্যে তাদের কার্যকলাপ চালিযে গিয়ে দেশভাগের জমিকে উর্বর করেছিল। আর এস এস-এর নিরাপত্তার অভাবের প্রচার ক্রমে হিন্দু মানসিকতার দখল নিয়ে নেয়। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশক প্রকৃতপক্ষে আজকের ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগলিক মানচিত্রটিই নির্মাণ করেনি বরং ভারতীয়দের ধর্মীয় উগ্রতারও নির্মাণ করে। ’৪৭-এ উপমহাদেশে দুটি স্বাধীন দেশের সৃষ্টি হয়। ’৪২-এ হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন যার ব্যাপকতা ছিল বিশাল। সাধারণ মানুষ থেকে সেনা ও নৌ বাহিনিও এই আন্দোলন থেকে দূরে থাকতে পারেনি। কিন্তু আর এস এস এই আন্দোলনের থেকে দূরে সরে থাকলেও তলে তলে বৃহত্তর পরিসরে তার ভূমিকা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে সংগঠটিকে মজবুত করেছিল। ’৪৬-এ হয়েছিল এক নির্ণায়ক দাঙ্গা যার পোশাকি নাম ছিল ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ না দিলেও ‘৪০-এর দশকে তার ছড়িয়ে পড়া সংগঠনকে আর এস এস নিপুণভাবে এই দাঙ্গায় সম্পৃক্ত করেছিল। এই দাঙ্গা ছিল অখন্ড ভারতের কফিনে শেষ পেরেক।

ভারত ভাগের ক্ষেত্রে জিন্নাকে অনায়াসে বাদ দেওয়া যায়, কারণ তিনি ১৯৪৬-এর ক্যাবিনেট মিশণের অখন্ড শিথিল ফেডারেল ভারতবর্ষকে মেনে নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত ব্রিটিশের কলোনি করার সখ মিটে গেলে তারা পালাবার পথ খোঁজার জন্যেই যে পথ বাতলেছিল তা তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি মৌলানা আবুল কালাম আযাদ ও বেশ কিছু সদস্য মেনে নিলেন, কিন্তু নেহরু ও গান্ধি খুঁটিনাটি বিষয়ে দ্বিমত হওয়ায় আযাদ জুলাই মাসে নেহরুর হাতে সভাপতিত্ব ছেড়ে দিলেন। লর্ড ওয়াভেলের সৎ প্রয়াস, অখন্ড ভারত পরিকল্পনাকে ১৯৪৭-এর মার্চে মাউন্টব্যাটেনের আবির্ভাব বানচাল করে দেয়। নেহরুও তাঁর ‘ডিস্কভারি অফ ইন্ডিয়া’বইয়ে এই মর্মেই বলেছেন, ‘ব্রিটিশের কল্যাণে প্রাপ্ত এই যে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির ক্ষত, তা বহুকাল ধরে আমাদের পীড়িত করতে থাকবে’। প্রকাশ্যে নেহরুর এই দ্বিচারিতা জিন্নাকে বাধ্য করে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রস্তাবে অনড় থাকতে। কিন্তু নেপথ্যে চলছিল অন্য খেলা যা উভয়কে প্রভাবিত করে।

তবে ১৯৪০-এ মুসলিম লিগের লাহোর সম্মেলনে দ্বিজাতিতত্ত্বের উপর যে প্রস্তাব নেওযা হয় তা থেকে অনেকেই ভেবে বসেন এই প্রস্তাবনার মধ্যেই ছিল ভারতভাগের বীজ। এসব ছিল প্রকাশ্যে কিন্তু নেপথ্যে কি ঘটছিল? গৌতম রায় মহাশয় তাঁর বই, গুজরাট ও হিন্দুত্বের ক্রমবিকাশ-এ বলেছেন, ’১৯৪০ থেকে ৪২ সালের মধ্যে সংগঠনের শাখার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রদেশেই প্রশিক্ষণ শিবির বসে। এইসব শিবিরে প্রায় ১০ হাজার স্বয়ংসেবক প্রশিক্ষণ পায়।….(সংগঠন কিছুটা মজবুত করার পর)’৪০ দশকের শেষ দিক থেকেই আর এস এস-এর পক্ষ থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তৃতা একটা উগ্ররূপ ধারণ করে। মুসলমানদের রয়েছে লালসা ও হিংসা এবং সেইসঙ্গে মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির তথাকথিত তত্ত্ব বড়ো করে দেখানো হতে থাকে।….হিন্দু পুনরুত্থানবাদের জোয়ারে গা ভাসিয়ে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা এদেশে যেভাবে বিস্তার লাভ করে তার ফলশ্রুতি হিসাবে মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার নগ্নরূপ আমরা প্রকট হতে দেখি, মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার উগ্ররূপ পরিণতি লাভ করে পাকিস্তান আন্দোলনে।…পাকিস্তান আন্দোলনের বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনমানসে এই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে দেয় আর এস এস যে, তারাই হল হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র আত্মনিবেদিত’।

জয়া চ্যাটার্জি তাঁর ‘বাঙলা ভাগ হল…’ বইয়ে লিখছেন (পৃ.২৭৪-২৭৫) ‘অন্য একটি সংগঠন রাষ্ট্রীয স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের বাংলা শাখা বিড়লাদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করত। আর এস এস-এর কোলকাতাস্থ প্রধান কেন্দ্র হ্যারিসন রোড ও আমহার্স্ট চৌমাথার পাশে মি. বিড়লার শিল্প বিদ্যালয়ে ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। চল্লিশ দশকের মধ্যভাগে আর এস এস কোলকাতা থেকে পল্লি এলাকায় বিস্তার লাভ করে-এ কাজে কমপক্ষে একজন বড় হিন্দু জমিদার সহায়তা করে। গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টে প্রকাশ পায় যে, “রাজশাহী, পাবনা, সালাপ, ময়মনসিংহ, সুসঙ্গ, এবং বাংলার অন্যান্য অংশে অনেক শাখা আছে। সুসঙ্গ রাজপরিবারের বাবু পরিমল সিংহ ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একজন অনুগত সমর্থক। বলা হয় যে, বাঙলায় এ সঙ্ঘের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ”।…’রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তার তালিকাভুক্ত যুবকদের শারীরিক প্রশিক্ষণ দিত, তার মধ্যে আগ্বেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৩৯ সালে আর এস এস-এর বাঙলা শাখার ভি আর পাঠকি লন্ডনে অবস্থানরত তাঁর এক বন্ধুকে লেখেন, “আপনার পাঠানো লি এন-ফিল বেয়োনেট ইত্যাদির নকশা-তালিকা পাওয়া গিয়েছে-লন্ডনে ‘পার্কার হেল’ নামক একটি সুপ্রসিদ্ধ ফার্ম আছে যেখানে প্রয়োজনীয় আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা হয়। আপনি কি এই ফার্ম থেকে একটা ‘এইমিং রেস্ট’ যোগাড় করতে পারেন? নতুন যারা ভর্তি হয়েছে তারা গুলি করার অনুমতি পাওয়ার আগে এটা ব্যবহার করতে পারে”।

ভারত ভাগ হয়েছিল। কিন্তু ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে কলমের খোঁচায় ভিন্ন করে দিলে যা হয় তাই হয়েছিল। মার-দাঙ্গা, ধর্ষণ, হত্যা, আগুন এই মানুষগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে আর মানুষের গৃহত্যাগের কান্না সামলাতে গিয়ে যে বিশাল মানবিক সঙ্কট তৈরী হয় তা ভাবনার বাইরে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংস্থা (UNHCR)-র হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ দেশত্যাগ (যাকে বলা যায় চোদ্দপুরুষের ভিটেমাটি) করে এপার-ওপার করেছিলেন, যা ইতিহাসের বৃহত্তম গণ প্রস্থান। এই প্রায় অসম্ভব পরিকল্পনার বলি হয়েছিলেন ২ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ মানুষ।

তৎকালীন নেতারা যখন দেশভাগ চাননি তখন দেশভাগ হল কেন ? এর জন্যে দায়ী করা হয় ১৯৪৬-এর ডাইরেক্ট অ্যাকশন-এর ডাক ও তৎপরবর্তী কোলকাতা, নোয়াখালি, বিহার ইত্যাদি জায়গায় সংগঠিত দাঙ্গাকে। দাঙ্গা শুরু হয় প্রধানত হিন্দি-উর্দুভাষী রাজাবাজার, কলাবাগান, কলেজস্ট্রিট. হ্যারিসন রোড (মহাত্মা গান্ধি রোড), বড় বাজার এলাকায়।

স্যার জন ফ্রেডরিক বারোজ ছিলেন বাংলার শেষ ব্রিটিশ গভর্ণর তিনি ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেলকে নোট পাঠালেন, ‘খাজা নাজিমুদ্দিন ও মুখ্যমন্ত্রী (তখন প্রধানমন্ত্রী) শহিদ সোহরাওয়ার্দি শান্তির বাণি দিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন এবং নাজিমুদ্দিনও শান্তির বাণি বললেও শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন এখন পর্যন্ত আহতদের অধিকাংশই মুসলিম, যা ৩০ হাজার, ১ লক্ষ বা ৫ লক্ষ (বিভিন্ন জন বিভিন্ন সংখ্যা বলেন যা এখনও হয়। তবে এই জমায়েত ছিল কোলকাতার বুকে তখন পর্যন্ত বৃহত্তম মুসলিম জমায়েত) মুসলিম জমায়েতের চিন্তায় ঘৃতাহুতি দেয়। জমায়েতে উপস্থিত মানুষজনের কাছে লোহার ও বাঁশের লাঠি ছিল। তবে নক্কারজনক ভূমিকা ছিল কোলকাতা (ক্যালকাটা) পুলিশের। একটি মাত্র উর্দু কলমচি কোন অনুবাদক ছাড়াই ময়দানে গেলেন নেতাদের বক্তৃতা লিখে রাখার জন্যে। এখানেই একটি অনুবাদ বিভ্রাট ঘটে যায়, বোঝা যায়নি সোহরাওয়ার্দি সাহেব পুলিশকে সক্রিয় হতে বলেছিলেন কি না। তবে তিনি চেয়েছিলেন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হোক। কিন্তু ১৬-ই আগস্ট সকাল থেকে যে দাঙ্গার শুরু তা বন্ধ করতে ১৭-ই আগস্ট দুপুর ১.৪৫ পর্যন্ত কোন সামরিক বাহিনি থামাতে নামেনি যা পরোপুরি ব্রিটিশ সরকারের হাতে ছিল’।

এই দাঙ্গা পরে মেটিযাবুরজ, নোয়াখালি, বিহার যুক্তপ্রদেশের গড়মুক্তেশ্বরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিখ-হিন্দু একত্রিত হয়ে মুসলিম বিরোধিতায় নামে। এর আগে বেশ কিছু দাঙ্গা হয়েছিল যা ছিল ব্রিটিশ ও দেশজ খ্রিস্টান বনাম হিন্দু-মুসলিম মিলিত শক্তির। কিন্তু এক চালে তা হয়ে গেল হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্রিটিশরা আর প্রতিপক্ষ রইল না।

নেপথ্যে কি হচ্ছে? গৌতম রায় বলেছেন, “ ‘৪৬-এর দাঙ্গাকে আর এস এস তাদের কাছে ‘সুবর্ণ সময়’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। ’৪৬-এর দাঙ্গায় আর এস এস প্রত্যক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করে। এই অংশ গ্রহণে বণিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ মদত যথেষ্ট কাজ করেছিল।…বণিক সম্প্রদায় এই দাঙ্গা ঘটাবার উদ্দেশ্যে ব্যাপক অর্থের যোগান দিয়েছিল। আনন্দীলাল পোদ্দারকে দেওয়া ঘনশ্যাম দাস বিড়লার চিঠিতে এই ধরনের ঘটনার প্রত্যক্ষ উল্লেখ রয়েছে। ‘৪৬-এর দাঙ্গায় আর এস এস ও হিন্দু মহাসভা প্রত্যক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করে, বেছে বেছে হিন্দু শরনার্থীদের জন্যে শিবির পরিচালনা করে, তাদের মধ্যে ত্রাণকার্য চালায়। এই সময়ে জনমানসে একটা তীব্র সাম্প্রদায়িক প্রচারকার্য চালায় আর এস এস যাতে সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে বিদেশি ‘মানুষ’ মুসলমানদের সম্পর্কে একটা ভয়ের মানসিকতা ঢুকিয়ে দেওযা সম্ভবপর হয়। এই কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এই পর্যায়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিসম্পন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিল। এই অংশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বল্লভভাই প্যাটেল। আর এস এস-এর একটি অংশ মানবতার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলি সম্পর্কে সবকিছ জেনেশুনে আশ্চর্যজনক নীরবতা অবলম্বন করে চলে। আবার আর এস এস-এর একটা অংশই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মত ‘৪৬-এর দাঙ্গার সময়কার বীভৎসতার জন্যে প্রকাশ্যে গর্ববোধ করে’। তিনি আরও বলেছেন, ’৪৬-এর দাঙ্গায় কলকাতা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ইত্যাদি স্থানে আর এস এস-এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তৃত গবেষণা এই মুহূর্তেই শুরু হওয়া প্রয়োজন’।

ইতিহাসবিদ বিপানচন্দ্র তাঁর আধুনিক ভারত (এনবিটি) বইয়ের ৪৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ব্যাপক লোকক্ষয় ও রক্তপাতের সম্ভাবনা পরিহারের আশায় জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ ভারত ভাগ প্রস্তাবে সম্মতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তাঁরা দ্বিজাতিতত্ত্ব অর্থাৎ হিন্দু ও মুসলমানগণ ভিন্ন জাতি, মুসলমানগণ ভারতীয় জাতি নয়, মুসলিম লীগের এই তত্ত্ব মেনে নেননি। মুসলিম লীগের দাবী ছিল যে দেশের এক তৃতীয়াংশ নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হবে, কারণ ভারতের লোকসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইসলামধর্মী। জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই দাবি মেনে নিতেও সম্মত হননি। তাঁদের প্রস্তাব এই ছিল যে দেশের যে অংশে মুসলিম লীগের প্রভাব বেশি শুধু সেই অংশগুলিই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও আসামের সিলেট জেলায় ইসলামধর্মীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেখানে মুসলিম লীগের প্রভাব বেশি ছিল না এই দুইক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা স্বীকৃত হয়। মোটকথা, জাতীয়তাবাদীদের বক্তব্য এই ছিল দেশ ভাগ করা যেতে পারে, তবে সেটা হিন্দু বা ইসলাম ধর্মের ভিত্তি করে হতে দেওয়া যাবে না’। যদিও এই বক্তব্যের মধ্যে যে সকল মুসলিম প্রধান এলাকাগুলি যেমন মুর্শিদাবাদ, সিলেট ইত্যাদি এলাকাগুলি অবধারিতভাবে পাকিস্তানে ঢুকে যেত তা থেকে বাঁচার জন্যে কংগ্রেসের একটা চাল ছিল বলে অনেকেই মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে সমস্ত বাংলাও এককালে কংগ্রেস ও এ কে ফজলুল হকের ধর্মনিরেপেক্ষ রাজনীতির ছত্রছায়ায় ছিল। কংগ্রেসের কিছু চালে ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভুলে এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের চাপে শ্যামা-হক মন্ত্রীসভার পতন ঘটলে বাংলার মুসলিমদের ধর্মনিরেপেক্ষ মঞ্চটি হারিয়ে যায়। মুসলিম লীগের ধর্মীয় উন্মাদনা প্রবল হয়ে ওঠে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *