পাথেয় টোয়ন্টিফোর ডটকম : (জালান্দর ২১ অক্টোবর) মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা উচ্চকিত যে আহ্বান— সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সংবাদ দেয় বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রখ্যাত ইসলামের দায়ি মাওলানা কালিম সিদ্দীকী।
জালান্দরে এক মসজিদ উদ্বোধনকালে উপমহাদেশের বিখ্যাত এ দায়ী এসব মন্তব্য করেন।
মসজিদের সম্মান ও এর গুরুত্বের উপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মসজিদের সংস্পর্শে পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে। পরস্পরে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। যে আল্লাহর জন্য মসজিদ বানায়, আল্লাহ তাকে জান্নাত দানের ঘোষণা করেছেন।
জালান্দরে নির্মিত এই মসজিদের কাজে খুশি হয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে মসজিদের কাজ হয়েছে এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও শুরু করা গেছে। এখানকার মানুষের পাঁচ কিলোমিটার অতিক্রম করে নামাজ আদায়ে যেতে হত। আল্লাহ সেই কষ্ট দূর করে দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
মাওলানা কালিম সিদ্দিকী বলেন, এই মসজিদ নির্মাণে চার শিখ ভাইয়ের যে সাহায্য পাওয়া গেছে তা গঙ্গা-যমুনার মিলনের মতই ভালোবাসা ও শিষ্টাচারের অনুপম উদাহারণ।
তিনি বলেন, ভারত বহু ধর্মালম্বী ও মতাদর্শীদের দেশ। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্মে মনোযোগী। তাদের ধর্ম তাদের জীবনের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু কিছু উগ্রবাদী আছে যারা এই স্বাভাবিকতা নষ্ট করে একটা ভয়ংকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। একটা সংকট তৈরী করতে সবসময়ই তারা মুখিয়ে থাকে। যা সর্বদাই দুঃখজনক ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবের মুফতিয়ে আজম, ইরতেকা হাসান কান্ধলভী বলেন, মাদরাসা ও মসজিদ থেকে সর্বসময়েই ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা শান্তি ও নিরাপত্তার আহবান আসে। ষড়যন্ত্রকারীদের সব চক্রান্তের পরও মাদরাসা মসজিদ তাদের স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।
মাওলানা কালিম সিদ্দীকী মূলত একজন দায়ি। দ্বীনের আহ্বান করেন। আর আগে দাওয়াতের বিষয়টি বুঝাতে গিয়ে মাওলানা কালিম সিদ্দীকী বলেছিলেন, আমাদের মুসলমানগণ যেন নিজেদেরকে দাঈ মনে করেন। পৃথিবীর সব মানুষকে যেন দাওয়াতের ক্ষেত্র মনে করেন। তারা এমনটি করতে পারেন, তাহলে আমাদের এই পৃথিবী বেহেশতে পরিণত হবে। একজন দাঈ একজন চিকিৎসক। যাকে দাওয়াত দেয়া হয় সে তো অসুস্থ। অসুস্থ ব্যক্তরি ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক নিরাশ হতে পারেন না। নিরাশ করতেও পারেন না।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি, হামারা সামাজ দিল্লি
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির



