‘মাদরাসা সিলেবাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে’

‘মাদরাসা সিলেবাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে’

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশের কওমী মাদরাসাগুলোয় প্রাথমিক স্তর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এই দেশ আমার, এ দেশের হয়ে আমি কাজ করতে চাই’ এই মানসিকতা নিয়ে গড়ে ওঠতে হবে প্রতিটি কওমী সন্তানকে। আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।

২১ অক্টোবর রবিবার নারায়ণগঞ্জের মাদরাসাতুল মিসবাহ-য় নারায়নগঞ্জ বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার আহবায়ক মাওলানা যোবায়ের আহমদ অানসারির সভাপতিত্বে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের এ ওয়ার্কশপ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।

মাওলানা মাকনুন বলেন, দেশপ্রেমের স্বাভাবিক অনুভুতিটাই মাদরাসার ছেলেদের ভেতর জাগিয়ে তুলতে হবে। আমি বাংলাদেশি, বাংলাদেশ আমার। এই দেশের প্রতিটি বিজয় আমাদের। কোন দল মত না বরং সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়েই দেশকে ভালোবাসার এই স্বাভাবিক অনুভুিটাই ছেলেদের ভেতর জেগে উঠুক। দেশের যে কোন সফলতায় বিজয় প্রকাশে আমাদের যে হীনমন্যতা, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। তাই আমাদের এ ওয়ার্কশপ। কওমী সন্তানরা বুঝুক নিজের দেশে নিজেদেরই কাজ করতে হবে।

তাই সবার আগে, একদম প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে তাদের ভেতর দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মনে করেন মাওলানা মাকনুন।

তিনি অারো বলেন, একটা সময় মাদরাসা ছাত্রদের দেখলেই একটু বাঁকা চোখে তাকাতো সবাই। নানা ধরনের প্রশ্ন তুলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতো মানুষজন। আল্লাহর অশেষ রহমত। তিনি এখন এ অবস্থার পরিবর্তন করে দিয়েছেন। জনগণ জেনে গেছে আসলে মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার কারা! ৭১-এ পাকিস্তানীদের মদদ কারা করেছিল! জামায়াতের সবরকম অপকর্মই আজ জাতির সামনে উন্মােচিত। তারা তো শুধু দেশেরই নয় বরং দ্বীন ও আল্লাহ-রাসূলের দুশমন এরা। কওমী সন্তানরা তাদের সঙ্গে কখনোই আঁতাত করে নি। তাদের সুরত, লেবাস দেখেই মানুষের মাঝে বিভ্রম হয়েছে যে, এরাও তো বেশভুষায় হুজুরদের মতোই। যাইহোক আল্লাহ তাদের মাঝে আর সত্যিকার আলেমদের মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন, মানুষ আর এখন কওমীদের বাঁকা চোখে দেখতে পারে না। তারা বুঝে গেছে ৭১-এ স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি কারা ছিলো। তাই সময় এসেছে দ্বীন ও আমাদের দেশের হয়ে কাজ করার, সঠিক ইতিহাস জানবার ও জানবার। কওমীর প্রতিটা সন্তানই একজন সচেতন নাগরিক ও দেশ প্রেমিক হয়ে গড়ে ওঠবে এই আমাদের লক্ষ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দিয়েছেন আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবি রাশিদুল আলম মোল্লা। তিনি বলেন, মাদরাসা ছাত্রদের কাছ থেকে আমরা একটা আওয়াজ চাই। জোর গলার একটা আওয়াজ। আওয়াজের স্লোগান হবে ‘দেশটা আমার’। এ নিয়েই আমাদের কাজ। আমরা সারা বাংলাদেশের কওমী মাদরাসাগুলোয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে চাই। গল্পে গল্পে তাদের জানাতে চাই মুক্তিযুদ্ধের গল্প। জানাতে চাই কওমীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ইতিহাস।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন ফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী। অর্থ সম্পাদক, মাওলানা শোয়াইব আহমাদ। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শেখ নাইমুল ইসলাম ও মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির। আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক জনাব, খালেদ হাসান। মাওলানা ইসহাক। মাওলানা মোয়াজ্জেম হুসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *