পাথেয় রিপোর্ট : ছাড়া পেলেন শিল্পী বেবী নাজনীন। নিপুন রায় চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে বন্দী হয়েছেন।
নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর নাইটিংগেল মোড় থেকে রাত ৮টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিপুনের সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনকে আটক করার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া পল্টনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে পুলিশ বেবী নাজনীন ও নিপুন রায়কে ধরে নিয়ে গেছে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবী নাজনীন ও নিপুন রায় একই গাড়িতে করে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হন। গাড়িটি নাইটিঙ্গেল মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে আধা ঘন্টা পরেই বেবী নাজনীনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব) মো. নুরুন্নবী বলেন, নিপুন রায়কে আমরা অ্যারেস্ট করছি। তিনি গতকালের ঘটনার মামলার আসামি। বেবী নাজনীনকে আটকের খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তাকে অ্যারেস্ট করিনি।
বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা পল্টন থানায় তিনটি মামলা করা হয়। তিনটি মামলাতেই নিপুন রায়কে আসামি করা হয়েছে। গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই তিন দিন ধরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় এলাকায় বইছিল নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। বিপুল পরিমাণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, বুধবার দুপুরে আমাদের হাজারখানেক নেতা-কর্মীর মিছিল পুরো রাস্তা আটকে দেয়। মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি লেন চালু করার চেষ্টায় পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খুব দ্রুত মারমুখী হয়ে ওঠেন তারা। এসময় শুরু হয় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ। উত্তপ্ত অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরই তাঁদের লক্ষ্য করে প্রচুর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ । গুলি-কাঁদানে গ্যাসের শেলের দ্রুম দ্রুম শব্দ, গ্যাসের ধোঁয়া, নেতা-কর্মীদের হইচই, ধর ধর চিৎকার, মানুষের ছোটাছুটি, হুড়মুড় করে দোকানের ঝাঁপ নামানোর শব্দ—সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষে ২৩ পুলিশ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি উভয় পক্ষের।


