২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ভ্যাট বাড়ছে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আগামী বাজেটে (২০২২-২৩ অর্থবছর) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ভ্যাট বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া খুচরা বাজারে মোবাইল ফোনের ওপর ৫% ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। যার ফলে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের দাম বেড়ে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর বিদ্যমান ৫% ভ্যাট বাড়িয়ে ১০% করতে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন করে খুচরা পর্যায়ে মোবাইল ফোন বিক্রির ওপর ৫% ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর। এছাড়া মানুষের মোবাইল ফোন ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে উঠবে।

ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাম্বার আইটি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হাকিম বলেন, “আরও ৫% ভ্যাট আরোপ করা হলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যেই লক্ষ্য তাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কেননা শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকেই এই খরচ বহন করতে হবে।”

বর্তমানে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যান্ডউইথ বিক্রির সময় প্রতিবার ৫% করে ভ্যাট নেয়। যদি এখন খুচরা পর্যায়ে ৫% ভ্যাট বাড়ানো হয়, তাহলে এই শিল্প থেকে মোট ২০% এর বেশি ভ্যাট আদায় হবে বলে জানান আমিনুল হাকিম।

করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বিশাল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ঘরে বসেই ইন্টারনেটে অনেকে কাজ করছেন। শিক্ষকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ক্লাস নিচ্ছেন।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মো. এমদাদুল হক বলেন, “মহামারিজনিত প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যার মাত্র ৭% ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে, যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কম।”

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভ্যাট থাকলে নতুন ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী বৃদ্ধি কমে যাবে। যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে, কারণ জিডিপিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভ্যাট বাড়লে আইএসপিগুলোর পক্ষে সারা দেশে এক রেটে ইন্টারনেট বিক্রি করা সম্ভব হবে না।”

এদিকে স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারীরা বলছেন, ভ্যাট আরোপ করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কেননা এই বছর তাদের ২০% এরও বেশি বিক্রি কমে গেছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে মানুষ কেনাকাটা করতে আগ্রহী না বলে জানান তারা।

সিম্ফনির মূল কোম্পানি এডিসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ বলেন, “এটি মোবাইল ফোনের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”

তিনি বলেন, “ডলারের দাম বাড়ার কারণে ডিভাইসের দাম ইতোমধ্যেই বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ করলে একটি ফোনের জন্য গ্রাহকদের প্রায় ১৫% বেশি অর্থ খরচ হবে।”

স্যামসাং-এর স্থানীয় অ্যাসেম্বলি পার্টনার ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “মোবাইল ফোন এখন মানুষের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ করলে গ্রাহক হারাতে হবে।”

তিনি বলেন, “যেহেতু সব জিনিসের দাম বাড়ছে, সরকারের উচিত এই ভ্যাট আরোপ করে গ্রাহকদের আরও ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা।”

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com