৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিক্ষার আসল পরিবেশ কওমী মাদরাসায়

শিক্ষার আসল পরিবেশ কওমী মাদরাসায়

ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং প্রকৃত মানুষ তৈরীর চিন্তায় যাত্রা শুরু করেছিল দারুল উলূম দেওবন্দ। ভারতের এই মাদরাসাকে কেন্দ্র করেই উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিচিত্র সব এলাকাতেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এখন এই মাদরাসা। প্রশ্নফাঁস, নকলসহ অসংখ্য জটিলতা মুক্ত এই শিক্ষায় মানুষ নিজেকে চিনতে পারে, পারে সমাজকেও জানতে। এ বিষয়গুলো নিয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের একজন ফাজেল মাওলানা আমিনুল ইসলাম লিখেছেন নিবন্ধটি। পড়তে পারেন-সহযোগী সম্পাদক

শিক্ষার সু-পরিবেশ কওমী মাদ্রাসাতে। আমাদের দেশে যত ধরনের শিক্ষা ব্যবস্হা আছে, তার মধ্যে কওমী ধারার শিক্ষা ব্যবস্হায় অত্যান্ত সু পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। নেই কোন অশান্তি। খুবই সুন্দর পরিবেশে লেখা পড়া চলে।

নকল মুক্ত পরিবেশ। কওমী মাদ্রাসার কোথাও পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল খুঁজে পাওয়া যাবে না। চাই সেটা মাদ্রাসার পরীক্ষা হোক বা বোর্ড পরীক্ষা হোক। কোন পরীক্ষাতে নকল নেই।

কওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক পরীক্ষায় নকল করাকে খুবই ঘৃণা করে। তারা ইলমে দ্বীন হাসিল করে আল্লাহর রেজামন্দী হাসিলের জন্য। এ কারণে কোন ছাত্র কখনও পরীক্ষায় নকল করে না।

কওমীর শিক্ষকদের কোন কোচিং সেন্টার নেই। সারাদেশে হাজার হাজার কওমী মাদ্রাসা। এসব মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের কোন কোচিং সেন্টার নেই। এমনকি কওমীর কোন শিক্ষার্থীর কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন হয় না।

কোন ছাত্রকে বিশেষভাবে কোন প্রাইভেট মাস্টারের কাছে পড়তে হয় না।

কওমী মাদ্রাসায় এমনভাবে পড়ানো হয়, কখনো কোন কোচিং বা প্রাইভেটে যাওয়ার কারো প্রয়োজন নেই।

এসব মাদ্রাসাতে ক্লাসেই সবক পড়ানো, মুখস্থ করানো এবং আদায় করা হয়। ক্লাস শেষে ছাত্ররা নিজেরা বসে উস্তাদের পড়ানো অংশটা তাকরার করে থাকে। যার দ্বারা আর অন্য কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন ঘটনা কওমী মাদ্রাসাতে নেই। আজ পর্যন্ত এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের কর্তৃপক্ষ খুবই নিষ্ঠার সাথে এ কাজ সম্পাদন করে আসছেন।

কওমী শিক্ষার্থীদের উস্তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা সীমাহীন। তারা শিক্ষককে মাথার মুকুট মনে করে। কখনো কোন ছাত্র উস্তাদের সাথে বেয়াদবী করে না। উস্তাদগণও ছাত্রদের মহব্বত করেন অনেক বেশী। উস্তাদ আর শাগরেদের মধুর সস্পর্কে শিক্ষার শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করে সব সময়।

কওমী মাদ্রাসার ক্যাস্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষেধ। ছাত্রদের লেখা পড়ার মান বজায় রাখার জন্য মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদের প্রকাশ্যে রাজনীতি নিষেধ। যারা সংগঠনের সাথে জড়িত, তারা সাধারণত মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের বাইরে করে থাকেন।

সকল কওমী মাদ্রাসা মাদকমুক্ত। মাদ্রাসার কোন শিক্ষার্থী মাদক সেবন করে না। বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, ফেনিসিডিল, মদ এ সমস্ত নেশার ধারে কাছে কোন কওমী মাদ্রাসার ছাত্র নেই। বরং এসব কাজকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে।

উন্নত চরিত্র গঠনের মেহনত করা হয় কওমী মাদ্রাসাতে। উত্তম আখলাক শিক্ষা দেওয়া দেওয়া হয়। মাতা পিতা, ভাই বোন, পাড়া প্রতিবেশী এবং সমাজের মানুষের সাথে সৎ ব্যবহারের তালীম দেওয়া হয় ছাত্রদের।

সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠনের তারগীব দেওয়া হয় ছাত্রদের। দৈনন্দিন কাজ কর্মে উঠা বসায় সুন্নত অনুযায়ী চলার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়।

কওমী মাদ্রাসার উস্তাদগণ খুবই আমানতদার। তারা প্রত্যেক ছাত্রকে আমানত মনে করে পড়ান। আমানতে কোন খেয়ানত যেন না হয় সেই চেষ্টা করেন শিক্ষকরা।

এজন্য কোন শিক্ষক ক্লাস ফাঁকি দেন না বা ক্লাসে গল্প গুজব করে সময় পার করেন না। বরং প্রত্যেক উস্তাদ খুবই গুরুত্বসহকারে ছবক পড়িয়ে থাকেন। আর এসব কারণে কওমী মাদ্রাসাতে শিক্ষার একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরী হয়েছে। যে পরিবেশ অন্যান্য জায়গায় কল্পনা করা যায় না।

আল্লাহ তায়ালা সকল কওমী মাদ্রাসাকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com