১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

শোলাকিয়ায় লাখো মুসুল্লির নামায আদায়

ফাইল ছবি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয়। ১৯৫তম ঈদের জামাতে আজও লাখো মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। তবে অসুস্থতা জনিত কারণে এবারও নামায পড়াননি গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিশিষ্টজনরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এদিকে জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছিল চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। র‍্যার, পুলিশের পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ছিল দুই প্লাটুন বিজিবি।

সকাল থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন ঈদগাহের দিকে। প্রতিবছর ঈদের জামাতে এখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। বড় জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, সে জন্য প্রতিবছর এ মাঠে ঈদের জামাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি।

করোনার প্রভাব বাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে মুসল্লিদের। জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াত-সুবিধার জন্য ছিল শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল নামে দুটি ট্রেন, যা ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে যাত্রী পরিবহন করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী, এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। হামলায় পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি আহত হন। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, একই বৈঠকে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়ায় হামলার পরিকল্পনা জঙ্গীরা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সবসময়ই শোলাকিয়ায় মুসুল্লিদের ঢল নামে। এবারও ভাটা পড়েনি ঈদের জামাতে মুসল্লিদের আগমনে। তবে করোনার কারণে গত দুই বছর শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

জনশ্রুতি আছে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ ঈদের জামাতের মোনাজাতে ভবিষ্যতে মাঠে মুসল্লিদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। অন্য একটি মতে, সেই দিনের সেই জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ লোকের জমায়েত হয়। ফলে ‘সোয়া লাখে’র অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামটি চালু হয়ে যায়।

পরে ১৯৫০ সালে স্থানীয় দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ (মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর) ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি শোলাকিয়া ঈদগাহে ওয়াকফ করেন। এই মাঠে ২৬৫টি কাতার আছে, প্রতিটি কাতারে ৫০০ মুসল্লি নামাজের জন্য দাঁড়াতে পারেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com