পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুসলমান পেটে পাথর বেঁধে হলেও সন্তানকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ.-এর সন্তান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস আল্লামা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী।
তিনি বলেন, প্রাত্যহিক কর্মবহুল জীবন যাপনে সাফল্য ও সমৃদ্ধি অর্জনে নবপ্রজন্মের জন্য শিক্ষা হলো সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ধর্মীয় পরিচয়কে অক্ষুণ্ণ রেখে এবং সমস্ত বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে আমাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে স্কুল কলেজ থাকাটা এসময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বরং অত্যাবশ্যকীয়। সন্তানদের জন্য এমন স্কুল কলেজ গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) জমিয়তে হিন্দের ভারতব্যাপী প্রদেয় বৃত্তির পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি রুপি করে দেশজুড়ে শিক্ষা খাতে মুসলমানদের অগ্রগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এসব বলেন। সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানীর সভাপতিত্বে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (একাংশ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
ভারতীয় মুসলমানদের শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়ার উপর আলোকপাত করে সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি আমাদের সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। অর্থ সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা ঠিকমত চালিয়ে যেতে পারে না। উচ্চশিক্ষা নেয়ার আগেই ঝরে যেতে হয় অনেককে। সেইসব মেধাবী ও গভীর অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা নেহায়েতই সামান্য।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি বলেন, সম্প্রতি দেশব্যাপী যে ধর্মমতের দ্বন্দ্ব এবং তার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে তা থেকে উত্তরণ কোন অস্ত্র বা টেকনোলজি দিয়ে সম্ভব নয়। নবপ্রজন্মকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা ছাড়া এর থেকে পরিত্রাণের আর কোন উপায় নেই। নবীন প্রজন্ম সুস্থ চিন্তাধারার বিনির্মাণ, তীক্ষ্ণ অনুভূতিজ্ঞান আর পারস্পরিক সৌহার্দ্য দিয়ে অবক্ষয়ের দিকে ধুঁকতে থাকা সমাজকে যতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল করতে পারবে, আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ততটা সম্ভবপর নয়।
আরো পড়ুন : নিরপরাধীকে ইনসাফ দেয়ার জন্য আমরা লড়বোই : আরশাদ মাদানী
জরিপে মুসলমানরা শিক্ষায় দলিতদের থেকেও পিছিয়ে আছে জানিয়ে মাওলানা মাদানী বলেন, এর পিছনের কারণ কী? মুসলমান তো কখনো শিক্ষায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেনি বা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। অনাগ্রহ থাকলে এই এতো এতো মাদ্রাসা কীভাবে তৈরী হয়? মূলত স্বাধীনতা পরবর্তিতে যে সরকারই এসেছে; মুলমানদেরকে শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতার শিকার বানিয়ে এসেছে। কারণ তারা পূর্ণ মাত্রায় ওয়াকিবহাল ছিল, শিক্ষায় আমাদের অগ্রগতি হলে অন্যসব সাফল্য এমনিতেই হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেবে। যার পরিণতিতে এখন আমরা শিক্ষায় দলিতদের চেয়েও পিছিয়ে গেছি।
শিক্ষার এই পশ্চাৎপদতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, আমাদেরকে ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনের বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে সামর্থবানদের। দুঃখের বিষয়, বর্তমানে মুসলমানরা এই দিকগুলোতে খেয়াল করছেন না। অন্যান্য অনেক বিষয়ে ব্যয় সংকোচন না আটকালেও শিক্ষাখাতে ব্যয়ে কারও তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। একেকটা শহরে কয়েকজন মিলে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করুন, কলেজ প্রতিষ্ঠা করুন। সন্তানদের এবং সমাজের উজ্জল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অর্জিত সম্পদ ব্যয় করুন।
/এএ


