অনমনীয় প্রিয়াঙ্কার কাছে হার মানলো উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন

অনমনীয় প্রিয়াঙ্কার কাছে হার মানলো উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন

অনমনীয় প্রিয়াঙ্কার কাছে হার মানলো উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হার না মানা জেদ ধরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বাধ্য হয়ে হার মেনেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। শুক্রবার রাতভর অবস্থানের পর শনিবার সকালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ফের শোনভদ্র যাবার চেষ্টা করেন। পরে শোনভদ্রের আক্রান্তরা চুনারে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানিয়েছিলেন “আক্রান্তদের পরিবারের সাথে দেখা না করে এখান থেকে কোথাও যাবো না।” রাতভর মির্জাপুরের বিদ‍্যুৎহীন চুনার দুর্গের মধ্যে বন্দি অবস্থায় থেকেও নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

দু’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্রে এক জমি বিবাদে দশ জন আদিবাসীকে গুলি করে হত‍্যা করেছিল গ্রামপ্রধান। গতকাল হাসপাতালে আক্রান্তদের সাথে দেখা করার পর সড়কপথে নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য রওনা দিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পথে মির্জাপুরের কাছে তাঁকে আটকায় যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। কেন আটকানো হচ্ছে তার কোনো উত্তর না পেয়ে পথেই ধর্নায় বসেন তিনি। এরপর সেখান থেকে পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে তুলে এনে চুনার দুর্গে আটকে রাখে। রাতভর সেখানেই আটকে থেকে একের পর এক টুইট করলেন তিনি।

রাতে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেত্রী নিজের টুইটারে হিন্দিতে লেখেন, আমি যেন নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা না করে চলে যাই, একথা বলার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার বারাণসীর ADG বৃষ ভূষণ, বারাণসীর কমিশনার দীপক আগরওয়াল, DIG মির্জাপুর কে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। ‌গত এক ঘণ্টা ধরে ওনারা এখানে বসেছিলেন। কেন আমাকে এখানে আটকে রাখা হয়েছে তার কোনো ব‍্যাখ‍্যা দিতে পারেননি ওনারা। কোনো কাগজও দেখাতে পারেনি আমাকে।
তিনি আরও লেখেন, আমার আইনজীবীরা আমাকে জানিয়েছেন এই পদ্ধতিতে আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি যেন আক্রান্তদের পরিবারের সাথে দেখা না করি এই সরকারি বার্তা দিতে এখানে এসেছিলেন ওনারা।

এর পরের একটি টুইটে তিনি লেখেন, আমি ওনাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি আমি এখানে কোনো আইন ভাঙতে আসিনি। কেবল আক্রান্তদের পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছি। আমি ওনাদের বলে দিয়েছি দেখা না করে আমি কোথাও যাব না।

এরপর রাত ১.১৫ নাগাদ টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। যেখানে দেখা যাচ্ছে উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার ও সরকারি কর্মচারীরা চুনার দুর্গ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্যান্য কংগ্রেস কর্মীরা অন্ধকারে দুর্গের মেঝেয় বসে রয়েছেন।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকার বিনিময়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল যোগী সরকার। সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে লোকসভায় হারের পর রাহুল গান্ধীর হাল ছেড়ে দেওয়ায় কংগ্রেস ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়াঙ্কার এই পদক্ষেপ কংগ্রেসকে আবার বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে অক্সিজেন যোগাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *