অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা

অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা

ব্রেক্সিট সঙ্কট

অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ইউরোপে বহু জল্পনা কল্পনার পর যুক্তরাজ্য ধরে রাখতে পারেনি ঐতিহ্য। ভাঙনের সুর একবার বেজে উঠলে তা আর রক্ষা করা যায় না। তা-ই প্রমাণ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিট হয়েই গেলো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে গেল যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গত বুধবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে পরস্পরের ছাড়াছাড়ির প্রস্তাব। দীর্ঘ ৪৭ বছর একসঙ্গে ঘর করার পর ‘তালাক’-এর এ ঘটনায় পার্লামেন্টে বিষাদের ছায়াও অনুভূত হয়। পার্লামেন্টের ব্রেক্সিটবিষয়ক সমন্বয়ক বিচ্ছেদ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েও বলেন, ‘আমরা ব্রিটেনের অভাব বোধ করব। এ ভোটের মাধ্যমে তাদের চিরবিদায় জানানো হচ্ছে না বরং আশা করছি আবার দেখা হবে।’

ইউরোপে ঐক্যের পক্ষে যখন জনমত গড়ে উঠছে তখন যুক্তরাজ্যের উল্টোপথে যাত্রা বিয়োগান্তই বটে। তাদের জন্য এ বিচ্ছেদ কতটা কল্যাণকর হবে তাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। কারণ স্কটল্যান্ড ব্রেক্সিটের কট্টর বিরোধী এবং সেখানে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে জনমত গড়ে উঠছে। বাংলাদেশি পণ্যের তৃতীয় ক্রেতা দেশ যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পর তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় আসে যুক্তরাজ্য থেকে। গত অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে কোনো কারণে দেশটিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাধাগ্রস্ত হলে দেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে ২০১৭ সালে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল অর্থনীতিবিষয়ক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য কেমন বাণিজ্য শুল্ক নির্ধারণ করে, তা নিয়েও উদ্বেগের কারণ আছে বাংলাদেশের।’ সিঙ্গাপুরভিত্তিক অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ ভার্তি ভার্গাভা ওই সময় বলেছিলেন, ব্রেক্সিট যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে সেটা বড়ই উদ্বেগের কারণ। এমনও হতে পারে যে, নতুন চুক্তি সম্পাদনের আগে যুক্তরাজ্য সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারে। আশার কথা হলো, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একজন মন্ত্রী চিঠি পাঠিয়ে ব্রেক্সিটের পরও বাংলাদেশের জন্য ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন, তবে এ ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা চেয়েছিলেন।

সংশয় ও আশঙ্কা ঝেড়ে ফেলা না গেলেও আমরা আশা করব, ব্রেক্সিটের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ঐতিহ্যেরই অংশ। এ ঐতিহ্যের সুবাদে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *