- হাসান রোবায়েত
আজকাল আব্বার সাথে খুব একটা কথা হয় না—
এমন কি বাড়িতে গেলেও যখন একসাথে খাইতে বসি
আব্বা বনের সবুজ হাওয়ার মতো
কেমন নৈঃশব্দ্যের পাতা ঝরায়—
আমি মাছের কাঁটা বাছার মতো সাবধানে
দুই একটা কথা বলতে চাই—
তা-ও আব্বা চুপ করে থাকে—
যেন আমরা ইয়াজুজ-মাজুজের মতো কেবল
শব্দহীনতার দেয়াল চাটছি নিশিদিন—
অথচ শৈশবে, যখন আমার মোনামুনি বন
সুবিলগড়ের টিলায় রাত হয়ে যেত
আমি আব্বার গায়ের উপর পা না তুলে দিলে
ঘুমই আসত না আমার—
আমি কবিতা লিখি বলে
আব্বা আর আমার সাথে খুব একটা কথা বলে না
আর বললেও যেন সমস্ত খুচরা পয়সা
খুব সচেতন ভাবে গুনে গুনে খরচ করছে আব্বা—
আব্বার সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয়
একটা করুণ অপরিচিত ট্রেন
আমাকে না নিয়েই
চলে যাবে নিরুদ্দেশ গন্তব্যের দিকে—
সার ধরে দাঁড়ায়ে আছে ওয়াসার লাইনের পাশে—
মুহতামিমের বউ ঘুমে রিনরিন করছে কার নাম—!
জিজ্ঞাসা
মাকে ফোন করে যখন জিজ্ঞাসা করি—
‘তোমার শরীর কেমন মা?’
এই প্রশ্নের পরেই আমার হাত-পা হিম হয়ে আসে—
মা’র কণ্ঠে তখন বিপন্ন বাতাসের ঢেউ
গলায় শান্ত সমুদ্রের লবণাক্ততা—
সন্তানেরা বড় হওয়া মানেই
মায়ের শরীরে হলুদ বনের ঝরাপাতার বিষণ্ণতা
সারি সারি অসুখের ক্লেদ—
‘মা, তোমার শরীর কেমন—?’
এই ভয়ংকর জিজ্ঞাসার কোনো জবাবই দিতে পারে না মা—
ফুটিখেত পার হলেই মাদরাসা
হেফজোখানার লম্বা ঘরে
খুব ছোট হয়ে ঘুমায়েছে শিশুরা—
বাইরে, টমেটোর মতো গোল দুপুর
বকুল গাছের পাতা ঝরছে
মেয়েরা পানি নিতে
সার ধরে দাঁড়ায়ে আছে ওয়াসার লাইনের পাশে—
মুহতামিমের বউ ঘুমে রিনরিন করছে কার নাম—!
দুপুরে এমন বাতাস
যেন খোলা কোরান শরিফের পাতা থেকে
ফরফর করে উড়ে যাচ্ছে
সমস্ত যের ও যবর।ৎ
লেখক ,কবি


