- আমিনুল ইসলাম কাসেমী
আমার স্বপ্নপুরুষ কে নিয়ে শুধু লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লিখতে পারি না। আমার কী সেই শক্তি আছে? সেই লেখার যোগ্যতা আছে? তিনি কত উর্ধের মানুষ। তাঁর যোগ্যতা কত। সত্য কথাটা কী জানেন? আমার স্বপ্নপুরুষ এর যোগ্যতা, তাঁর যে ব্যক্তিত্ব, তাঁর মেধা-মননশীলতা, তাঁর ইলম-আমল, তাঁর লিখনী, এসব কিছু আকাশ ছোঁয়া। এতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ নেই। কেননা একজন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, জীবন্তগ্রন্থাগার, বাংলাভাষার সুপন্ডিত আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.) আমার স্বপ্নপুরুষ শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘সে আমার উস্তাদতুল্য ছাত্র’। কাজী সাহেবের এমন কথা বলার আর কী কিছু বলা যায়? তাঁর মত মানুষ যদি এমন মন্তব্য করেন, তাহলে সেই কথার পরে আর কোন কথা বাকি থাকে না।
তাছাড়া আমার লিখনীর যে অবস্থা, এ লেখা দিয়ে একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তির কোন দিক তুলে ধরা যায় না। না আছে আমার ভাষার মাধুর্য, না বাক্যের গঠন, না শব্দের কোন গাঁথুনি। কত মানুষকে দেখি, আমার স্বপ্নপুরুষকে নিয়ে কী সুন্দর বাক্যে লিখেছেন। সাবলিল ভাষা, চমকপ্রদ উপস্থাপনা। আহ, সেগুলো আমার বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। এই তো সেদিন দেখলাম, কবি আদেল মাহমুদের একটা অপিনায়ন। ‘আদিম আশেকের প্রেমের তাসবি দানা‘ অনিন্দ্য সুন্দর তিনি লিখেছেন। একদম ভাষার অলংকার জোড়ানো। প্রিয় মানুষটির যথার্থ মুল্যায়ন তিনি দিতে পারেন। স্মৃতিকথাগুলো ভাবাবেগে বর্ণানা করে যেতে পারেন।
নিজের চরম অক্ষমতা। সেই ছাত্রজীবনে যেমন তাঁকে কোন মুল্যায়ন করতে পারিনি। আর এখনতো তাঁর থেকে অনেক দূরে। দূর থেকে স্বপ্নপুরুষকে শুধু ভালোবেসেই যাচ্ছি। অথচ তাঁর অসাধারণ সেই ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে কিছুই এখনো ভালোভাবে জানতে পারিনি।
আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.) তিনি শায়খুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.) কে স্বপ্নের রাজপুত্তর হিসাবে ঠিক করেছিলেন। আজীবন মাওলানা মাদানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ছিল। সে যে কী ইশক, কী যে প্রেম ছিল মাওলানা মাদানীর প্রতি। ওই রকম প্রেমিক যেন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মাত্র ১০/১১ বছর থেকেই কাজী সাহেব হযরত মাদানীর চরম ভক্ত। সেই সময়ে তাদের বাড়ীতে থাকা ‘মাসিক মোহাম্মাদী’ পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় মাওলানা মাদানীর রোমাঞ্চকর সংগ্রামী কাহিনী পড়ে অভিভূত হয়ে তাঁর খাস ভক্তে পরিণত হন। তখন থেকেই বিন্দু বিন্দু করে তিনি জমা করে রেখে ছিলেন। আর সেই ভালোবাসার টানে দারুল উলুম দেওবন্দ এর হাদীসের দরসে সেই প্রেমাস্পাদের মুখেরবাণীতে সিত্ত করেছিল তাঁর পিপাসিত মরুময়দান।
একটানা তিন বৎসর সেখানে চাতকপাখির মত চেয়ে থাকতেন সেই স্বপ্নের রাজপুত্তরের দিকে। আবার দেওবন্দ থেকে ফিরে তিনি সারাটা জীবন সেই রাজপুত্তরের গল্পই শোনাতেন। ১৯৫৭ সাল থেকে নিয়ে ২০১৩ সন পর্যন্ত এই দীর্ঘকাল তাঁর প্রেমাস্পাদের গল্প শোনাতেন। তাঁর গল্প কিন্তু শেষ হয়নি। তিনি ক্লান্তহীন ভাবে বর্ণনা করে গেছেন। তাছাড়া তিনি যে মাওলানা মাদানীকে নিয়ে যে অমরকীর্তি গড়ে গেছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে মাদানী জীবন চরিতের উপর তাঁর যে উপাখ্যান, অনবদ্য গ্রন্থ, রাজপুত্তর এর যে জীবনালেখ্য রচনা করেছেন, সেটা সত্যিকারের আশেক বা প্রেমিক তাকে বলা যায়।
আমি কী? আমি কী সেই প্রেমিক হতে পারি? আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ এর মত শাণিত কলম তো আমার নেই। তাঁর মত আবেগ, তাঁর মত ভাষা সাহিত্যের জ্ঞানও আমার নেই। তাছাড়া কাজী সাহেব তো ছিলেন বাংলাভাষা সাহিত্যের দিকপাল। বাংলাভাষার বড় বড় পন্ডিতগণ তাঁকে সমীহ করত। কাজী সাহেবের জ্ঞানের গভীরতার প্রশংসা করত। সেই মহান ব্যক্তির কলমের আঁচড়ে তাঁর স্বপ্নপুরুষের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন মনের মাধুরী দিয়ে উপস্থাপন করেছেন, যেটা পাঠকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। পড়তে পড়তে হারিয়ে যায়। পাঠকও বনে যায় সেই মাদানীর একজন একনিষ্ঠ ভক্ত।
আমার প্রেম আছে, কিন্তু সেটা বর্ণনার ভাষা নেই। আবেগ আছে কিন্তু প্রেমোপাখ্যান উপস্থাপন করার যোগ্যতা নেই। শুধু প্রেম থাকলেই হয় না, বরং প্রেমাস্পাদকে মনের মাধুরী দিয়ে সেই রকম উচ্চাঙ্গের ভাষায় বর্ণনা করতে হয়। যার বর্ণনা শৈলীর পদে পদে থাকবে পাঠকদের খোরাক। যেটা পড়তে পড়তে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবে। যেমন কাজী সাহেব হুজুর তাঁর স্বপ্নপুরুষ সম্পর্কে লিখেছেন, সাইয়্যদে হুসাইন আহমাদ মাদানী সাহেবকে তিনি যখন প্রথম দেখলেন, সেই কোলকাতার হাওড়া ষ্টেশনে- ‘২য় শ্রেণীর কর্ম্পাটমেন্ট হতে এক জোতির্ময় পুরুষ নেমে আসছেন, তাঁর মুখমন্ডলের স্বর্ণাভায় গোটা প্লাটফর্ম যেন আলোয় ঝলমল করতে লাগল। অধরোষ্ঠে স্মিত হাসি, পবিত্র মুখ দিয়ে উচ্চারিত হল, আচ্ছালামু আলাইকুম।’
কাজী সাহেব অন্যত্র লিখেছেন, ‘মনেহল রাজপুত্র কোথায়? এ যেন পার্থিব জগতের উর্ধের কোন নুরের তৈরী ফিরিশতা, পবিত্র জোতির্ময় সত্বা।’ (বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যের সুর – আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ)
কী চমৎকার ভাবে তাঁর রাজপুত্তরের কথা উপস্থাপন করেছেন। যেরকম মাওলানা মাদানী তেমন তাঁর শাগরেদ। যিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম উপাধী পেয়েছিলেন। মদীনা মোনাওয়ারাতে সুদীর্ঘ ১৮ বছর যাবত রওজার পাশে হাদীসের দরস দিয়েছেন। আবার শায়েখ ফকীহুন নফস রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহ.) এর সাথে নিছবাত রাখতেন। মদীনাতে গেলেও শায়েখের সাথে তাঁর যোগাযোগে কোন ব্যাঘাত হয়নি। শেষমেষ রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহ.) থেকে খেলাফত-ইযাজত লাভ করেন। অর্থাৎ ইলমে তাসাউফের শীর্ষ চুড়ায় ছিল তাঁর অবস্থান। আরো আশ্চার্য ঘটনা হলো, মাওলানা মাদানী ইলমে তাসাউফ সাধনায় এত উচ্চমার্গে আসীন হয়েছিলেন, রিয়াযত মোজাহাদায় কেটে যেত তাঁর সময়। একজন খাঁটি আশেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম হয়ে মদীনায় অবস্থান করতেন। মদীনায় থাকাকালিন রওজার পাশে পেয়ারা হাবীবকে যখন সালাম দেন, সঙ্গে সঙ্গে রওজার থেকে তাঁর উত্তর চলে আসে। যেটা উপস্থিত সকলেই শুনতে পায়।
আবার মাওলানা মাদানী দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক ছিলেন। সেখানে প্রায় ৩০ বছরকাল তিনি হাদীসের দরস দেন। মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.) এর বিশিষ্ট শাগরেদ, মুজাহিদে আযম মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) তিনি মাদানী (রহ.) সম্পর্কে লিখেছেন- মাওলানা মাদানী (রহ.) সারাবিশ্বের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ক্ষণজন্মা মনীষীগণের অন্যতম। তাঁর জ্ঞান ও গুণ সম্বন্ধে বর্ণনা দান করা আমার ন্যায় গুণহীন ক্ষুদ্র জ্ঞান বিশিষ্ট লোকের পক্ষে সম্পুর্ণ অসম্ভব। কিন্তু মানুষ সাধারণত একটি আদর্শ সম্মুখে না পেলে এবং জীবন গঠনের তরতীব না পেলে আদর্শ জীবন গঠন করতে পারে না। যেসব মানুষ মাওলানা মাদানীর ব্যক্তিত্বের কিছু পরিচয় জানেন, তাঁরা এক ব্যাক্যে স্বীকার করবেন যে, দুনিয়াতে আদর্শ মানুষ বলতে শেষ যুগে যারা পয়দা হয়েছিলেন, তাদের সেই সিলসিলার শেষ ব্যক্তি ছিলেন মাওলানা মাদানী (রহ.)।
আজ জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে মানুষ যাকে তাকে মুহাদ্দিস বলে থাকে। দারুল উলুম দেওবন্দে মুহাদ্দিস এবং ছদরে-মুদাররিস ও সেরপরস্ত যেমন তেমন লোক কখনো হতে পারেনি। এ পর্যন্ত যে কয়জন দারুল উলুম দেওবন্দের ছদরে-মুদাররিস বা সেরপরস্ত হয়েছেন, তাঁরা ছিলেন জ্ঞানের সমুদ্র, আধ্যাত্মিক জগতের সেরা, মনুষ্যত্বের প্রতিচ্ছবি। তারা হলেন-
১. মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)
২. মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহ.)
৩. মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতবী (রহ.)
৪. শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহ.)
৫. মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারণপুরী (রহ.)
৬. মাওলানা আশরাফ আলী থানুবী (রহ.)
৭. মাওলানা সাইয়্যেদ আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ.)
৮. মাওলানা সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.)
এঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন শায়খুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.)। তারা সকলেই ছিলেন কামেল ও আদর্শ পুরুষ। কামেল ও আদর্শ পুরুষের জন্য যা কিছু জ্ঞান ও গুণের প্রয়োজন, সে সবই মাওলানা মাদানী অর্জন করেছিলেন। ইলম হাসিলের পর্যায়ে আদব বা আরবী সাহিত্য তার যাবতীয় উপকরণ হতে আরম্ভ করে হাদীস, তাফসীর, দর্শন, ভুগোল, ইতিহাস, শরীর বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, ইলমে সিয়াসাত তথা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইলমে কালাম ও তাসাউফ প্রভৃতি ত্রিশপ্রকারের বিদ্যায় এতো গভীর জ্ঞান ও দক্ষতা এবং পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, সকল শাস্ত্রের কিতাবসমুহ যদি খোদা নাখাস্তা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হতো, তবুও এ সমস্ত শাস্ত্রের কিতাবসমুহ তিনি পুনঃরচনা করে দিতে পারতেন। কথাটা অনেকেই হয়ত অতিরন্জিত মনে করবেন। কিন্তু আমি তাঁকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছি। যারা মাওলানা মাদানীকে আমার মতো কাছে থেকে দেখার সুযোগ লাভ করেছেন, তারা নিশ্চয়ই আমার কথার সত্যতা পুর্ণভাবে স্বীকার করবেন। (ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়িদ আসআদ মাদানী (র.) – লেখক, সালেহ আহমাদ) পৃষ্টা – ২৯)
এটা হলো একেক প্রেমিকের একেক ধরণের মূল্যায়ন। প্রত্যেকেই সে তাঁর স্বপ্নপুরুষকে নিয়ে প্রাণ উজাড় করে লিখেছেন। তাছাড়া তাঁদের অবস্থান ছিল কত উচ্চ পর্যায়ের। যে কারণে তাঁদের জন্য এরকম উপস্থাপনা যর্থাথ ছিল। কিন্তু এই কমবখত এর জন্য এত বড় কাজ নিশ্চয়ই বেমানান। সত্য কথাটা কী? এই কমবখত যাকে স্বপ্নপুরুষ ভাবে, তাঁর শিষ্য হওয়ার যোগ্যতা এখনো হয়নি। তবুও বারবার মনে চায় প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে কিছু লিখতে থাকি। অবস্থান আমার যাই হোক, তবে আমার লিখে যেতেই হবে। আমার সেই মহান স্বপ্নপুরুষের ছাত্র হওয়ার যোগ্যতা আমার থাকুক বা নাই থাকুক, তবুও আমি লিখব। ওই যে কবি বলেছেন, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’।
আমার চেষ্টাকে অব্যাহত রাখতে চাই। বিরামহীন ভাবে লিখেই যাব। স্বপ্নপুরুষের কিছু কিছু বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। তিনি এখন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। একথার উপরে এখন বাংলাদেশের সকল আলেম এবং সুশীল মানুষের ঐক্যমত। এমনকি বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলারগণ তাঁকে অনেক সমাদর করে থাকেন। তিনি আত্মশুদ্ধির ময়দানে এখন ক্লান্তহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনা, জাতির জন্য তাঁর মেহনত-কোরবানি, ইলমে হাদীসের ময়দানে তাঁর অবদান, বাংলাভাষা সাহিত্যে তাঁর অবদান, কওমী মাদ্রাসাকে আধুনিকায়নে তাঁর ভুমিকা, এক ঝাক যোগ্য-বলিষ্ঠ কলম সৈনিক তৈরীতে তাঁর অবদান।
জাতির দুঃসময়ে তিনি কী ভূমিকা রেখেছেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতিতে তাঁর অবদান, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমনে তাঁর ভূমিকা। এরকম অনেক বিষয় আছে, যেগুলো এই বাংলাদশের আলেম সমাজের মধ্যে তিনি অনন্য ব্যক্তির ভুমিকায় রয়েছেন। আজকাল কিছু মানুষের পরশ্রীকাতরতায় সেগুলো জাতির সামনে মেলে ধরা হয়নি। আমি চাই, আমার স্বপ্নপুরুষের সেসব বিষয়গুলো জাতির সামনে চলে আসুক। উপকৃত হোক এই জাতি।
আত্মশুদ্ধির ময়দানে আমার স্বপ্নপুরুষ আমার শায়েখ বিরামহীন ভাবে ছুটে চলেছেন। কুতুবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.) এর সাহেবজাদা এবং খলিফা, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী থেকে তিনি খেলাফত-ইজাজত লাভ করেন। মানে মোবারক সিলসিলার সাথে তাঁর নেসবাত। যেখানে শায়েখের পীর হলেন ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.), তাঁর পীর কুতুবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানী (রহ.), তাঁর পীর রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী (রহ.), তাঁর পীর হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী (রহ.)। অর্থাৎ এক ঐতিহ্যবাহী জামাতের সাথে সুত্রপরম্পরা। মোবারক জামাত এটা। সেই জামাতের সাথে নিসবাত রেখে তিনি আত্মশুদ্ধির ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন।
চতুর্মুখি খেদমতের আঞ্জাম দিচ্ছেন শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব। ইলমে তাসাউফ, ইলমে হাদীস, খেদমতে খালক, আবার লিখনীর ময়দানে এক বড় মুজাহিদ তিনি। অবিরাম ভাবে তাঁর কলম ছুটে চলেছে। সকল মানুষের আজও অজানা। এই মহান ব্যক্তিকে এখনো সকলেই জানতে পারিনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সকলের গোচরে আসেনি। তাই এই মহান ব্যক্তিকে জানা দরকার।
আজকে এ পর্যন্ত। আগামী দিনে পাশে থাকার কামনা এবং আমার স্বপ্নপুরুষের নেক হায়াত কামনা করি। আল্লাহ তাঁর সম্মান ও মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিন। আল্লাহুম্মা আমিন।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট


