আমেরিকার রাজনৈতিক চাঁদাবাজির শিকার ফিলিস্তিনি জনগণ: হামাস

আমেরিকার রাজনৈতিক চাঁদাবাজির শিকার ফিলিস্তিনি জনগণ: হামাস

আমেরিকার রাজনৈতিক চাঁদাবাজির শিকার ফিলিস্তিনি জনগণ: হামাস

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস আমেরিকাকে রাজনৈতিক চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত একটি ‘রাজনৈতিক চাঁদাবাজি’ছাড়া আর কিছুই নয়।  এটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জাতির সঙ্গে আমেরিকার অনৈতিক আচরণের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছে।

হামাসের মুখপাত্র ফৌজি বারহুম শনিবার গাজায় এক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকটকে মুছে ফেলার মার্কিন-ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনি জাতির ওপর কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ চাপিয়ে দেয়ার অশুভ লক্ষ্যে এই চাঁদাবাজির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকা।

তিনি মার্কিন ও ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ফিলিস্তিনি জাতির ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ক্ষমতায় আসার পর ফিলিস্তিনি জাতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকার ফিলিস্তিনকে দেয়া সব ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ মেনে নিতে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাধ্য করার জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আমেরিকার তৈরি ওই চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মসজিদের শহর বায়তুল মুকাদ্দাসের মালিকানা ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সেইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা আর তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারবে না এবং জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার সীমিত ভূমি নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে।

এর আগে ২০১৮ এর ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানোর জন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের নিন্দা করে আনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পাশ করা যায়নি।

প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৮৭টি, বিপক্ষে ৫৭টি। আর ৩৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার ছিল।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হেলি বলেছিলেন, এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন করা। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আজ পর্যন্ত হামাসের নিন্দা করে এরকম কোন প্রস্তাব পাশ করেনি।

তবে হামাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণ পরিষদের এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মুখে একটা ‘চপেটাঘাত।’

হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জাহরি টুইটারে মন্তব্য করেছেন, “জাতিসংঘে এই মার্কিন চেষ্টা যে বিফল হলো, তা মার্কিন প্রশাসনের গালে একটা চপেটাঘাত এবং আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলন যে বৈধ, সেটাই প্রমাণ করলো।”

আর জাতিসংঘে ইরানের উপ রাষ্ট্রদূত এসাগ আল হাবিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে এই সংঘাতের মূল কারণ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *