পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলার আজাব ও গজব আমাদেরকে ঘিরে ফেলেছে, তবুও কি আমাদের হুঁশ ফিরবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেছেন, মহামারী করোনাভাইরাস কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটা আল্লাহ তাআলার এক শক্তিশালী আজাব। এরকম অসংখ্য আজাব ও গজব পৃথিবীবাসীকে ঘিরে ফেলেছে। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই পারেন এসব আজাব থেকে উদ্ধার করতে। এসব মহামারী নামক গজব থেকে আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আমাদের কি এখনও হুঁশ ফিরবে না? আমাদের কি এখনও চেতন ফিরবে না? আমরা কি এখনও বুঝবো না যে, এসব কিছু আল্লাহর আজাব? ভাইয়ো, সময় থাকতেই আল্লাহর কাছে ফিরে আসি।
শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
দিন দিন মানুষের গুনাহের পরিমাণ বাড়ছে মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমাদের সমস্যাটা কোথায় জানেন? আমাদের সমস্যাটা হলো, আমরা বুঝতে পারছি না আমরা আল্লাহর আজাবের মধ্যে আছি। আমরা অনুভব করতে পারছি না, ধীরে ধীরে আল্লাহর আজাব আমাদেরকে গ্রাস করে ফেলছে। আমরা উল্টো পলায়ণ করার জন্য এদিক-সেদিক ছুটছি। মাস্ক পড়ে আজাব থেকে বাঁচতে চাচ্ছি। ভ্যাকসিন দিয়েই নিজেকে নিরাপদ মনে করছি। যদিও সতর্কতার জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ ও মাস্ক পড়া অবশ্য করণীয়। কিন্তু আজ আমরা এসব করেই যথেষ্ট মনে করছি। সত্যিকার উপলব্ধি আমাদের হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য কোনো ভালো সংবাদ নয়। আমরা সতর্ক তো হচ্ছিই না, বরং আমাদের গুনাহের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ভাইয়ো, এ আজাব ও গজব থেকে বাঁচতে আল্লাহর দরাবরে কান্নাকাটি করতে হবে। বেশি বেশি আল্লাহকে ডাকতে হবে।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, দুটি জিনিস সব সময় আল্লাহর আজাব বাঁচাতে পারে। এক, খালেসভাবে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করা। শুধু মুখে মুখে ইস্তেগফার হবে না। অন্তর থেকে গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।
আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচার অপর আরেকটি মাধ্যম হলো বেশি বেশি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করা। বলা হয়, নেয়ামত বাড়ানোর উপায় হলো শুকরিয়া করা, আর সম্পদ বাড়ানোর উপায় হলো বেশি বেশি সদকা করা। সদকা করলে শুধু সম্পদই বাড়ে না, আল্লাহর আজাব-গজব থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
বিপদ আসার আগেই আমাদের তৈরী হতে হবে জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম বলেন, বর্তমানে কেয়ামতের অনেক ছোটো ছোটো আলামত প্রকাশ পেয়ে গেছে। আল্লাহই ভালো জানেন কেয়ামত কবে হবে। কেয়ামতের আজাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
বড় কেয়ামত থেকে বাঁচলেও ছোটো কেয়ামত অর্থাৎ মৃত্যু থেকে তো বাঁচতে পারবো না। তাই ভাইয়ো, বিপদ আসার আগেই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সতর্ক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
আরও পড়ুন: ইসলামের জন্য দেয়া জানমালের বিনিময় দুনিয়া নয়, কেবল জান্নাত : আল্লামা মাসঊদ


