পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলা নিজে পাক পবিত্র, নিয়মিত তাঁর নামের জিকির বান্দাকেও পাক পবিত্র বানিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, আল্লাহর নামের জিকির বান্দাকে এমন পাক পবিত্র বানিয়ে দেয় যে, বান্দার ঘাম, পেশাব, পায়খানায় পর্যন্ত দুর্গন্ধ থাকে না। যেমন আমাদের নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) এর পেশাব পায়খানায় দুর্গন্ধ ছিল না। হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, নবীজী পেশাব পায়খানা করার পর আমরা দেখতাম, মাটি তা খেয়ে ফেলতো এবং ওই জায়গা থেকে সুগন্ধি বের হতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বাদ এশা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরী আয়োজিত রাজধানীর জামিআ ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে আত্মশুদ্ধি মূলক ইসলাহি মাহফিলে আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর এই খলিফা এসব কথা বলেন।
নিজ নিজ ঘরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময় আল্লাহর নামের জিকির করার কথা উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও ভারী শব্দ ‘আল্লাহ ’। আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যতো বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহর নামের জিকিরে কখনো বিরক্তি আসে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মুসলমানের ঘরে এখন দুনায়াবী সব আলাপ, অসামাজিক কর্যকলাপ হয়! কিন্তু জিকির হয় না। তাই ঘরে ঘরে আজ এতো অশান্তি, শান্তি আসে না।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহর নামের জিকিরে অনেক শক্তি। জিকিরের দ্বারা সমস্ত বালা-মুসিবত দূর হয়ে যায়। জিকিরের মধ্যেই সমস্ত কল্যাণ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা বিদ্যমান। আমরা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জিকিরের মজলিস করবো। ইনশাআল্লাহ, জিকিরের বরকতে তিনি আমাদের সব বিপদ-আপদ দূর করবেন, ঘরে শান্তি দেবেন।
কেউ আল্লাহর নামের জিকির করলে আল্লাহ তাকে সম্মানীত বানাবেন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর চেয়ে বড় এবং সম্মানীত। আল্লাহর ক্ষমতাও সব কিছুর চেয়ে বড়। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বড়, সেই হিসেবে আল্লাহ তাআলার নামও দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে বড়। যে আল্লাহ তাআলার নাম জপবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বড় বানাবেন। যে আল্লাহর নাম নেবে, আল্লাহ তাআলা তাকেও ক্ষমতাবান বানাবেন। তাই আমরা বেশি বেশি আল্লাহ আল্লাহ জিকির করবো।
আরও পড়ুন: নবীজীর অনুসরণ না করলে মুসলিমদের দ্বারাই ইসলামের ক্ষতি হবে : আল্লামা মাসঊদ
আমল করতে হবে আইনুল একিনের (পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস) সঙ্গে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, একিনের সঙ্গে বান্দা যখন আল্লাহর জিকির, নেক আমল ও তাওবা-ইসতেগফার করে, তখন তিনি বান্দাহর গোনাহ ক্ষমা করে দেন, এমনকি গোনাহসমূহ পূণ্য (নেকি) দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। তাই আমাদের আমল করতে হবে একিনের সঙ্গে, গোনাহ মাফি ও সওয়াবের আশা নিয়ে।
আত্মশুদ্ধি মূলক মাহফিলে আরও বয়ান করেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফি, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম শিলস্তানী প্রমুখ।
আত্মশুদ্ধি মূলক মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি আবুল কাসেম, সার্কিট হাউজ মসজিদের খতিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রাঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর নির্বাহী সভাপতি ও ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইফুর রহমান শোয়াইব, জামিয়া কাসিমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও ইয়াতিম খানার মুহতামিম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি ও আল কারীম তালীমুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইহতেশামুল হক, মাওলানা শাহাদাত হোসাইন এমদাদী, মাওলানা হামীদুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি আব্দুস সালাম, মাওলানা মিকদাদ মাবরুর চৌধুরি প্রমুখ।
মাহফিলে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর এই খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি, করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।


