ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা (১ম পর্ব)

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা (১ম পর্ব)

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা

সেলিনা আক্তার : ঋতু পরিবর্তনের সময়ে শিশুরা ভোগে নানান সমস্যায়। সামান্য শীতেই ঠা-া লেগে সর্দি-কাশি. ব্রঙ্কিওলাইটিস, এমনকি নিউমোনিয়াও হতে পারে। নিউমোনিয়া হতে পারে যেকোনো বয়সেই, তবে শিশু বয়সে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হলো নিউমোনিয়া। শীতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার ফলে শিশুদের নিউমোনিয়া হতে পারে। তাই শিশুদের অতি যত্নে রাখতে হবে। দেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু নিউমোনিয়ার কারণে মারা যায়। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বেও পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া।

বেশ কদিন ধরেই ঐশী সর্দি কাশিতে ভুগছে। জ্বরও আছে। রাতে ঘুম নেই। ঔষধেও কাজ হচ্ছে না। তার অভিভাবকদের আশংকা এটা কি নিউমোনিয়া? স্কুলে শান্তুর এক বন্ধুর নিউমোনিয়া হয়েছে। তারও কয়েক সপ্তাহ আগে জ্বর ছিল। শান্তুরও কি নিউমোনিয়া হতে পারে? নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুর হার ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগের চেয়ে বেশি। ফুসফুসের এক ধরনের ইনফেকশনের নাম নিউমোনিয়া। এটি সাধারণত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের জন্য হয়ে থাকে, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় রেসপাইরেটরি ট্র্যাস ইনফেকশন (Respiratory tract infeetion)। এই প্রদাহ যখন জীবাণুঘটিত বা সংক্রমণজনিত হয়ে রোগ তৈরি হয়, তখন এটিকে নিউমোনিয়া বলে। ছোটদের পাশাপাশি বড়োদেরও নিউমোনিয়া হতে পারে।

নিউমোনিয়া হতে পারে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী যেকোনোটির আক্রমনের কারণে। ডাক্তাররা নিউমোনিয়াকে সাধারণত দুটো ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন- ব্যাক্টোরিয়াল ও ভাইরাল। সাধারণত বেশির ভাগ নিউমোনিয়া হয় অ্যাডেনো ভাইরাস, রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এর সংক্রমনে। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি, যা হিমোফিলাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিস অন্যতম।

জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর প্রথম দিকে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ থাকে। এর দুই থেকে তিন দিন পরই নিউমোনিয়ার প্রকৃত রূপ দেখা দেয়। তবে কোন জীবাণুর কারণে আক্রান্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। যেমন- আরএস ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে চার থেকে ছয় দিন সময় লাগে, ফ্লু ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে এক থেকে তিন দিন সময় লাগে তা সারতে। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায়, শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর রোগ প্রকাশ হতে এক দিন থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহ সময় লাগে।

শিশুরাদেরই সহজে ও ঘনঘন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে বেশি। কারণ নিউমোনিয়া একটি বায়ুবাহিত রোগ। সুতারাং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত একটি শিশু যখন হাঁচি-কাশি দেয় বা নিঃশ্বাস ছাড়ে তা বাতাসে মিশে যায়, আর ওই জীবাণুমিশ্রিত বাতাস যে শিশু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে সে শিশুরও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। এ ছাড়া সর্দি-কফের সরাসরি সংস্পর্শেও রোগটি হতে পারে।

লেখক : কলামিস্ট

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *