ঠাণ্ডায় অস্থির ইউরোপ-আমেরিকা

ঠাণ্ডায় অস্থির ইউরোপ-আমেরিকা

ঠাণ্ডায় অস্থির ইউরোপ-আমেরিকা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভয়াবহ শীতে কাঁপছে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আকাশ থেকে পড়ছে বরফের গুঁড়া। ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। হতে পারে স্নো বৃষ্টি। বিশেষত স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের অবস্থা খুবই বেগতিক।

আমেরিকা ইউরোপ ঠাণ্ডায় জমে গেলেও অস্ট্রেলিয়া পুড়ছে গরমে। পূর্ব এবং কেন্দ্রীয় ইউরোপে প্রচণ্ড শীতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে মেরু অঞ্চল থেকে আসা হিমশীতল ঘূর্ণি বাতাসে ভয়াবহ শীতে কাঁপছে আমেরিকা। সেখানে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এমন তীব্র শীত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর দেখা যায়নি। বাতাস এতটাই ঠাণ্ডা যে, জোরে নিশ্বাস নিতেও নিষেধ করা হচ্ছে। এমনকি বাইরে না বের হতেও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ভয়াবহ ঠাণ্ডা আর বরফাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আটকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন।

পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে তীব্র শীতে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়াতেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সুইডেনের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সু্ইডেনের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা নেমে হয়েছে মাইনাস ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মাসে সর্বোচ্চ শীতের রেকর্ড।

স্কটল্যান্ডে তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ব্রিটেনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই শীতের সবচেয়ে শীতল রাত গেছে চলতি মাসে। অপরদিকে, কানাডার টরন্টোতে বর্তমানে তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই যখন প্রচণ্ড শীতে কেঁপে অস্থির তখন বছরের শুরুতেই গরমের দাপটে ঘেমে একাকার অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। মনে হচ্ছে এ যেন আরেক গ্রীষ্মকাল।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস কেবল সবচেয়ে উষ্ণ জানুয়ারিই নয় বরং অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে গরম মাসও। গত বছরের ডিসেম্বরেও অস্ট্রেলিয়াতে তীব্র গরম লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়াতে তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গরম পড়েছিল।

গত মাসে অস্ট্রেলিয়াতে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাসের মাঝামাঝিতে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের এই নাভিশ্বাসে চরম আকার ধারণ করেছে বলে বলছে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া।

প্রসঙ্গত, ইউরোপের ঠাণ্ডায় ২০১৮ সালের মার্চে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছিল। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার ছোবলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দরও কেএলএম এয়ারলাইন্স তাদের ডজনের ওপর ফ্লাইট বাতিল কিংবা দেরিতে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। লন্ডন, প্যারিস ও ব্রাসেলসের মধ্যে চলাচল করা ইউরোস্টারের রেল যোগাযোগও বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া ঠান্ডায় স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনে মৃত তিনজনের মধ্যে একজন গৃহহীন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *