একজন মর্দে মুজাহিদ আলেমের বিদায়
মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, জামেয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ। এদেশের আলেম সমাজের মধ্যমণি, দারুল উলুম দেওবন্দের সূর্য সন্তান, তিনি আজ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)
একজন মর্দে মুজাহিদ আলেম ছিলেন আজহার আলী আনোয়ার শাহ। আমি যতুটুকু জানি, সত্যান্বেষী একজন মানুষ ছিলেন তিনি। হক- হক্কানিয়্যাতের ওপর ছিলেন অটল-অবিচল। শত ঝড়- ঝঞ্জায় বিচলিত হননি তিনি। স্পাতের ন্যায় মজবুত থাকতেন তিনি।
তাঁর চিন্তা- চেতনা কোন স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার মত ছিল না। সত্যকে উদঘাটন করে সেটার ওপর স্থির থাকতেন। কত যে সমালোচনা হয়েছে, তাঁর হক নীতির উপর দৃঢ় থাকার দরুন। কতজন কত কথা বলেছে। কিন্তু তিনি পরোয়া করেননি। মনোবল হারান নি কখনো।
মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ এদেশের কওমী অঙ্গন সহ সারাদেশের মাঝে তাঁর খ্যাতি ছিল। বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের তিনি একজন কর্ণধার ছিলেন। তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবাবিয়া এর সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন।
কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ এর বহু অবদান। দেশের শীর্ষ আলেম হিসেবে তিনি বহু অবদান রেখেছিলেন।
কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি আদায়ের যখন টাল- মাটাল অবস্থা, ঠিক তখনই তিনি বড় ভূমিকা রাখেন। বুক চিতিয়ে দিয়ে ছিলেন স্বীকৃতি আদায়ের জন্য।
আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার আলী শাহ একজন একজন সুবক্তা ছিলেন। আলেম হিসেবে যেমন তিনি ছিলেন তুখোড়, আবার বক্তা হিসেবে ছিলেন উঁচু মানের বক্তা। বয়ানের সময় তাঁর সুমধুর কণ্ঠস্বর বেজে উঠত। সাধারণ কোন তেলাওয়াত নয়, এক অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর তেলাওয়াতের মধ্যে। কারো তেলাওয়াত নকল করা নয়। নিজস্ব সুর ভঙ্গিমার তেলাওয়াত স্রোতাদের পাগল করে দিত।
তাঁর বয়ান ছিল অত্যান্ত চমৎকার। অত্যান্ত সাজানো -গোছানো। বাজারের বক্তাদের মত কোন লৌকিকতা ছিল না। ওয়াজের সময় যেন তাঁর হৃদয় থেকে কথা গুলো নির্গত হত।
মোট কথা একজন বে- মেছাল ব্যক্তিত্ব। যার তুলনা তিনি নিজে। একজন মর্দে মুজাহিদ আলেম। দ্বীন ইসলামের অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন তিনি। দেশের আলেম সমাজের এক আস্থা ভাজন ব্যক্তিত্ব।
চলে গেলেন তিনি আমাদের ছেড়ে। এই স্থান হয়ত আর পুরণ হবেনা। বড় ক্ষতি হলো এ জাতির। কায়মনো বাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করি, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সু- উচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


