ওপারে তাবরেজ, এপারে রিফাত বিচারের বানি আর কাঁদে না

ওপারে তাবরেজ, এপারে রিফাত বিচারের বানি আর কাঁদে না

ওপারে তাবরেজ, এপারে রিফাত বিচারের বানি আর কাঁদে না

রশীদ জামীল : গাধা আর ঘোড়ার মিলনে খচ্চরের জন্ম হয়। দুইপার ভরে গেছে খচ্চরে। মানবতার মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছিল। এখন চলছে শ্রাদ্ধ। কুলখানি/কবর জিয়ারত/ দোয়া দুরুদ না বলে শ্রাদ্ধই বললাম। না হলে আবার বাঙালি সংস্কৃতির শরীর চুলকে ঘা করে ফেলা হতে পারে। কী দরকার!

২.
মানুষে আর পশুতে পার্থক্য হলো, মানুষের বিবেক আছে। মানব সভ্যতায় বিচার থাকে। পশুদের বিবেক নেই। পশুব্যবস্থায় বিচারও থাকতে হয় না। মানুষের বিবেক যখন বিকৃত হয়ে যায়, অথবা বিক্রিত, তখন সেই মানুষে আর পশুতে কোনো ব্যবধান থাকে না। আর মানুষ যখন পশু হয়ে যায়, তখন সে পশুরচে’ও পশু হয়।

৩.
ওপারে তাবরেজ নামক ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করার সপ্তাহ না ঘুরতেই এপারে রিফাতকে কুপিয়ে মেরে জানান দেওয়া হলো পশু সভ্যতার দৌড়ে আমরাও আছি। এভাবে দিন দুপুরে শতশত মানুষের সামনে কোনো মানুষকে কেউ তখনই মেরে ফেলার সাহস পায়, রাষ্ট্র যখন তাদের শেল্টার দেয়। সুতরাং যে ব্যাখ্যা দেওয়া হোক আর যে ভাষাতেই দেওয়া হোক, ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারকে কভার-আপ করবার চামচামিটা যে সুরেই করা হোক, দু’দেশের সরকার এই দুই হত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

৪.
রিফাত নামের যে ছেলেটিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং তার স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে মারা হলে, এই বর্বরতা পশু সমাজেও হয় না। পশুরাও এমন করে না। তারচে’ও বড় কথা, শত শত নপুংসক মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখল। কেউ কিছু বলল না! একজনও এগিয়ে এলো না। আশ্চর্য!

৫.
কোনো দেশের বিচারব্যবস্থা যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের মেশিন মতন কাজ করা শুরু করে, নির্বাহী বিভাগের ‘হ্যালো’র আওয়াজে বিচারবিভাগ যদি হেলতে থাকে, বিচারের কাটা যদি তোষামোদের হাওয়ায় দুলতে থাকে, তখন মানুষের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।

৬.
কেউ একশটি থাপ্পড় দিলে নিয়ে নাও, কিন্তু একটি অভিশাপ নিও না। কারণ, খাপ্পড়গুলো কিছু সময় তোমার শরীরকে কষ্ট দেবে, আর অভিশাপ কেড়ে নেবে ঘুম। কেড়ে নেবে শান্তি। একবেলা না খেয়ে মানুষ ভালো থাকতে পারে, কিন্তু অশান্তির যন্ত্রনা নিয়ে এক মুহূর্তও বেঁচে থাকা কঠিন।

৭.
পৃথিবীটা মানুষের হোক।
মানুষগুলো হোক পৃথিবীর ব্যাসার্ধ মতো।
অবিকল মানুষের মতো দেখতে মানুষগুলো মানুষ হয়ে উঠুক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *