কলাপাতা গো

কলাপাতা গো

কলাপাতা গো

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : কলা পাতায় হাত দিয়ে খাওয়া যেন মায়ের হাতের খাওয়া। গ্রামে গেলেই খোঁজ করি কলা পাতার। সেই পাতায় আমি রসিয়ে ভাত খাই বলরামপুরের ছেলের মত। কলা পাতার অনুসঙ্গটা জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছি। আর বদলাতে পারি না।

কেন এই অনুসন্ধান? এইটি আজকের প্রতিবেদন। বাইরে লুঙ্গি পরি না। কখনও না। বাসায় কেন পরি? মাকে কেন কথায় কথায় জড়িয়ে ধরি। বোনকে কেন যখন তখন সবজি পাঠাই? কোন কিছু দেখলেই বোনের কথা মনে হয় কেন এবং মনে হয় তার জন্যে কিনি। কেন এমন হয়? বাবার যত আত্মীয়-স্বজন আছে কারও কথা ভুলতে পারি না। মামা বাড়িরও। দিনরাত নাড়ির টান অনুভব করি। কেন?

ছোটবেলার ভাল ভাল খেলনা পুতুল মাটির তৈরি। বাড়িতে এনে সাজিয়ে রাখতাম। এর মধ্যে হুকা টানছে বুড়ো। মজার মজার পুতুল, সেগুলো তো রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। ওগুলো ফেল দেব কেন? এটাই প্রশ্ন? তালের পাখার বাতাস সবচে’ মিষ্টি। নারকেলের নাড়ু পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ঢাকে বারি পড়লে পূজোর বাজনা মনকে উতলা করে। কেন? এসব কথা আধুনিক ছেলেমেয়েরা যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে [আমার নাতি-নাতনিরা] কোনদিন উপলব্ধি করে না। গ্যাপটা এখানেই।

গাঁয়ের পথে কলা গাছ দেখলেই আমি থেমে যাই। কেন, তা জানি না। ওটা আমাদের সংস্কৃতির একটি আদি অবলম্বন। গ্রামে-বন্দরে এখনও গীদালরা দোতারা বাজিয়ে গান গেয়ে চলেছেন। সে সুর বড় মধুর। শহরে এসে যখন গাইতে বা শুনতে বসি তেমন দোলা দেয় না। ছেলেমেয়েরা আসল ঢংটা ধরতে পারে না। এখানে প্রয়োজন শিক্ষার। এখানেই গ্যাপ।
ঢাকায় অনেক মজার মজার মিষ্টি পাওয়া যায়, যে গুলো মেলা হলে মাথায় নিয়ে বিক্রি করে। সেগুলো বাসায় আনলে খাওয়ার লোক পাওয়া দায়। আমরা বদলে যাচ্ছি। শহর ও শহুরে জীবন, বিদেশী জীবন ও বিদেশী খাওয়া-দাওয়া অনেক প্রবাসীদের জীবন বদলে দিচ্ছে।

অনেকে সেখানে গিয়ে আল্লাহ্‌ বা ভগবানকে বিসর্জন দিতে চাচ্ছেন। আমি নিজে ওদের সঙ্গে কথা বলেছি অনেকবার। এ এক পরিণতি। আবার উল্টোটাও আছে। আমার ভক্তরা যারা আমাকে নিয়ে যায়, অনেকক্ষণ অজু করে। বলে, আব্বাসী ভাই, বড় আরাম পাই অজু করে। অজু ভাল না হলে, নামাজ পড়ে তৃপ্তি পাই না।

আমার মেয়ের বাসায় কি নেই? বড় বড় কৃষ্ণচূড়ার গাছ তার নিজের হাতে লাগান। পাঁচটি আম গাছ। আমড়া, লেবু, পান, সুপারি, সব তার নিজের হাতের। যেখানে যাবে নিজের গ্রামকে সঙ্গে নিয়ে যাবে।

গ্রাম দেশে অনেক রূপকল্প আছে কলাবঊকে কেন্দ্র করে। আমার কাছে সব আছে। কেউ শুনতে চান?

মু. জা. আ.
২রা আষাঢ়, ১৪২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *