মোদিকে মাহমুদ মাদানীর পরামর্শ— বাচাল নেতাদের সামলান
পাথেয় টোয়োন্টিফোর ডটকম : ভারতের মাদরাসাগুলোকে ‘শিক্ষার মূলধারায়’ নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাচাল বিজেপি নেতাদের সামলাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আর্জি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
মাদরাসা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সত্য মন্তব্য করে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি বলেন, আমরা আশা করবো নতুন ভারত গঠনে মুসলমানদের নিজস্ব বক্তব্য থাকবে। আর শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই সেই ক্ষমতায়ন সম্ভব। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবেই ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ সত্য হবে।
মাওলানা মাদানী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবশ্যই বাচাল বিজেপি নেতাদের বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। এটা বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বিজেপি নেতাদের থামাতে হবে এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, জমিয়তের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের কল্যাণের জন্য, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে সব ধর্ম এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সমান সুযোগ দেওয়া দরকার। আমরা সব সময় সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
সাংবাদিকদের মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, বিজেপি ও কংগ্রেস সরকারের তুলনা করা ঠিক হবে না। কেননা ৭০ বছর ধরে শুধুই লোক দেখানো হয়েছে। বিগত ৭০ বছর ধরে মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করছে রাজনৈতিক দলের নেতারা। সরকার যদি মাদরাসাগুলোকে মেইনস্ট্রিম শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে তবে সমাজের জন্যেই মঙ্গল বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভারতের মাদরাসাগুলোকে মেইনস্ট্রিম শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে মুসলিম আলেমগণ স্বাগত জানিয়েছেন। এতে মাদরাসায় পাঠরতদেরই লাভবান হওয়ার কথা। সম্প্রতি ভারতের মাদরাসাগুলোকে শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার সরকারি ঘোষণা করেন মুখতার আব্বাস নাকভি। যাতে সেখানকার পড়ুয়ারা সমাজের উন্নতির কাজে লাগাতে পারে। তারপর পরেই মুসলিম সম্প্রদায়ের তরফে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস জানান, সংখ্যালঘু বিশেষ করে মেয়েদের আর্থি-সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য ‘৩ই’ যেমন- এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট ও এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্কলারশিপ দেওয়া হবে। আগামী বছরে আর্থিকভাবে দুর্বল মুসলিম, খৃষ্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, ও ফার্সি পাঁচ কোটি পড়ুয়াকে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখতার আব্বাস।
সূত্র : ডেইলি পত্রিকা, দিল্লি
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


