‘কুরআন তেলাওয়াত রমজানের সবচেয়ে বড় নফল ইবাদত’

‘কুরআন তেলাওয়াত রমজানের সবচেয়ে বড় নফল ইবাদত’

পাথেয় রিপোর্ট : মাহে রমজানে পবিত্র কুরআন শরীফের তেলাওয়াত সবচেয়ে বড় নফল ইবাদত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, রমজানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক সুগভীর। রমজান মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে; মানুষের জন্য পথপ্রদর্শকরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সত্যাসত্যের পার্থক্য নির্ণয়কারী হিসেবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, রমজান মাসে বেশি বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাহাজ্জুদ-নফল সালাত আদায় করা একান্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে মহিমান্বিত এ মাসে কমপক্ষে একবার কুরআন শরীফ খতম করার তাওফিক দান করেন।

১০ মে শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা কোন বান্দার পক্ষে সম্ভব নয়। জন্মের পর থেকে মৃত্যুর পর্যন্ত যদি কোন ব্যক্তি শুধু আল্লাহর প্রশংসা এবং শুকরিয়া আদায় করে, তবুও আল্লাহর প্রশংসা এবং শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করি তিনি আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

নেক আমলের সওয়াব বান্দা তার ইখলাসে নিয়ত অনুযায়ী পাবে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের সওয়াব সর্বনিম্ন সত্বরগুণ বৃদ্ধি করে দেন। আর সর্বোচ্চের কোন পরিমাণ নেই। বান্দার তার ইখলাসে নিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ সওয়াব পাবে। রমজানে নেক আমলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেওয়ার আহ্বান জানান আল্লামা মাসঊদ।

মুমিন কখনো পরিকল্পনা করে গুনাহ করে না মন্তব্য করে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর এ খলীফা বলেন, মুমিনের গুনাহ হঠাৎ করে যায়। মুমিন কখনো ইচ্ছে করে পরিকল্পনা করে গুনাহ করে না। যে ব্যক্তি পরিকল্পনা করে গুনাহ করে সে কখনোই মুমিন হতে পারাবে না। তিনি বলেন, মহিমান্বিত এ মাসে যদি নফল ইবাদত করা সম্ভব না হয়, তাহলেও আমরা লক্ষ্য রাখবো আমাদের যেন কোন গুনাহ না হয়। ভুলক্রমে হয়ে গেলো সাথে সাথে তওবা করে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

মানুষকে কষ্ট দেওয়া শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, কোন মানুষকে কষ্ট দেয়া ইসলামে সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। চাই সে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হউক বা না হউক। আমাদের সমাজে অনেকে আছেন যারা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষককে কষ্ট দিয়ে থাকেন। অথচ তারা জানেই না মানুষকে কষ্ট দেওয়া শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ।

মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদেরকে রমজানের শেষ দশকে ইকরা কমপ্লেক্স জামে মসজিদে ইতেকাফ করার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *