কুরবানির করণীয় ও বর্জনীয়

কুরবানির করণীয় ও বর্জনীয়

আদিল মাহমুদ : কুরবানির ক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, কুরবানির পশু নিজে জবাই করা। জবাই করা সম্ভব না হলে সামনে উপস্থিত থাকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা রা.কে বলেছিলেন কুরবানির সময় উপস্থিত থাকতে। পশু কুরবানির সময় যারাই ছুরিতে হাত রাখবেন তাদের প্রত্যেকের জন্যে বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক।

যে সব স্থানে জুমা ও ঈদের নামাজ ওয়াজিব, সে সব স্থানে কুরবানি করতে হবে ঈদের নামাজের পরে। যদি কেউ নামাজের আগে কুরবানি করে তাহলে তার কুরবানি আদায় হবে না। নামাজের পর নতুন করে আরেকটি পশু কুরবানি করতে হবে।

কুরবানির গোশত কুরবানি দাতা খেতে পারবে, বিতরণ করতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য জমা করে রাখতে পারবে।

কিছু কিছু হাদীসে পাওয়া যায় যে, ৩ দিনের বেশি কুরবানির গোশত না খাওয়ার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে অন্যান্য হাদীস দ্বারা এই সব হাদীসের হুকুম রহিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ এখন কেউ চাইলে কুরবানির গোশত ফ্রিজে রেখে বা শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারে।

কসাইদেরকে কুরবানির চামড়া বা গোশতের দ্বারা পারিশ্রমিক দেয়া যাবে না। মেহমান হিসেবে তাকে খাওয়াতে পারবে এবং হাদিয়া হিসেবেও কুরবানির গোশত দিতে পারবে। কুরবানির পশুর গোশত দিয়ে কুরবানির দিনের খাওয়া শুরু করা সুন্নত

কসাইদেরকে কুরবানির চামড়া বা গোশতের দ্বারা পারিশ্রমিক দেয়া যাবে না। মেহমান হিসেবে তাকে খাওয়াতে পারবে এবং হাদিয়া হিসেবেও কুরবানির গোশত দিতে পারবে।
কুরবানির পশুর গোশত দিয়ে কুরবানির দিনের খাওয়া শুরু করা সুন্নত।

জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শরীরের কোন চুল, পশম বা নখ না কাটা উত্তম। বরং কুরবানির দিন কুরবানি করার পরে এগুলো কাটা সুন্নত।

কুরবানির গোশতের ৩ ভাগের এক ভাগ নিজের জন্য রাখা। বাকি দুই ভাগের ১ ভাগ গরিবদের আর আরেক ভাগ প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা মুস্তাহাব। তবে কারো পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি হলে বা যে কোনো কারণেই হোক সকল গোশত নিজে খেতে চাইলেও কুরবানি আদায় হবে। কিন্তু সুন্নত অনুযায়ী বিতরণের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হবে। অমুসলিমদেরকেও কুরবানির গোশত খেতে দেয়া যাবে।

কুরবানির পশুর রক্ত ও অন্যান্য আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা বা মাটি চাপা দেয়া। কোনক্রমেই যেন পরিবেশ দুর্গন্ধযুক্ত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
কুরবানির বর্জনীয় কাজ হচ্ছে, কুরবানির গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করলে, হারাম উপার্জনের টাকায় কুরবানির পশু ক্রয় করলে- এমন সব চিন্তা করে কুরবানি করলে কুরবানি সহীহ হবে না।

কুরবানির পশুর ভাগিদারদের মধ্যে কোন একজন ভাগিদারের নিয়ত যদি সহীহ না থাকে, তাহলে বাকিদের কুরবানিও শুদ্ধ হবে না। ভাগিদারদের মধ্যে কোন একজনেরও যদি পশু কেনার টাকা হারাম উপার্জনের হয়ে থাকে তাহলেও কারো কুরবানি শুদ্ধ হবে না।

জিলহজ্জের ১০ তারিখ ফজরের আগে ও ১২ তারিখ মাগরিবের পরে কুরবানি করলে কুরবানি আদায় হবে না। কুরবানির গোশতের দাম বের করা, বাজারের গোশতের দামের সাথে তুলনা করে লাভ-লোকসানের চিন্তা করাটা দুর্বল ঈমানের পরিচয়। লোক দেখানো মনোভাবে কুরবানি করলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না।

লেখক : তরুণ আলেম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *