কৌশলে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

কৌশলে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গত ১৫ দিনে ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর সময় ৭৮৭ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দালালদের মাধ্যমে বিদেশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য তারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছিল বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হলেও সন্ধ্যায় অনেকে ফিরে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের কেউ কেউ মালয়েশিয়া যেতে দালালের আস্তানায় যাচ্ছে। আবার বিশাল একটি অংশ বিভিন্ন জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে।

উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোরশেদ বলেন, বুধবার (৬ এপ্রিল) রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালানোর সময় ১২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া একই রাতে টেকনাফের সাত ক্যাম্পে তল্লাশি চালিয়ে ১৫২ জনকে আটক করে এপিবিএন সদস্যরা। এর আগে মঙ্গলবার উখিয়া স্টেশনের আশপাশ থেকে ৮০ জনকে আটক করা হয়। আর সোমবার আটক হয় ১৮৪ জন। একইদিন টেকনাফ থানার পুলিশ ৫০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। আটককৃতদের কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ২১ মার্চ মহেশখালীর সোনাদিয়া থেকে ১৪৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার হন। পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া বলে তাদের সোনাদিয়ার চরে নামিয়ে দেয়। এছাড়া ২৫ মার্চ টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলের একটি ট্রলার থেকে নারী-শিশুসহ ৫৪ জনকে উদ্ধার করে শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর কথা স্বীকার করেছে।এ সময় দালালচক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছে স্থানীয়রা। ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বের হয়ে রোহিঙ্গা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর পর রোহিঙ্গারা টেকনাফ-উখিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। এতে স্থানীয়রা কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে।

ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের পালানোর বিষয়ে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) শিহাব কায়সার খান জানান, আশ্রয় শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পের বিশাল এরিয়া কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। রোহিঙ্গারা কাঁটাতারের নিচ তারা দিয়ে বাইরে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, বেশ কিছু এলাকায় রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহ করা হয় ক্যাম্পের বাইরে। তখন তাদের সেখানে যেতে দেওয়া লাগে। এখান থেকেও অনেকে কাজের সন্ধানে চলে যায়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, রোহিঙ্গারা যেন ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে ইচ্ছে মতো বের হয়। তারা ইতোমধ্যে উখিয়ার শ্রম বাজার দখল করে নিয়েছে। এতে স্থানীয়রা অসহায় হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছুদ দৌজা নয়ন জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও রোহিঙ্গারা শৃঙ্খলে বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যাম্পের বাইরে যাচ্ছে। তবে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *